দেলদুয়ারে জাল দলিলের মাধ্যমে অন্যের বাড়ি দখলের অভিযোগে মামলা

86

indexদেলদুয়ার সংবাদদাতাঃ
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে জাল দলিলের মাধ্যমে কোটি টাকা মূল্যের অন্যের বাড়ি দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা হয়েছে। প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম হুমায়ুন কবির, পিতার নাম আনছার আলী মাষ্টার। বাড়ি দেলদুয়ারের পুটিয়াজানি গ্রামে।
জানা যায়, হুমায়ুন কবির ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগ করতেন। পরে ১৯৮৯ সালে জাতীয় পার্টিতে যোগদানের মাধ্যমে ফাজিলহাটী ইউনিয়নের সম্পাদক নির্বাচিত হন। বর্তমানে উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। তার এক ভাই সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা। সেই সুবাদে এলাকায় যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করছেন বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। এলাকার সংখ্যালঘুরাও তাদের নির্যাতনের শিকার বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে জাল দলিলের মাধ্যমে জব্বার আজাদের বাড়ি দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এলাকার বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ জানান, মামলা ও জমির কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায় জব্বার আজাদের পিতা মৃত. আছর উদ্দিন অন্যান্য জমির সাথে ৪৫৭৩নং দাগে ৩২ শতাংশ বাড়ি ১৯৫৭ সালের ৯ এপ্রিল সাফ কওলা দলিল মূলে ক্রয় করেন। দলিল নং-২১৫৭। ১৯৬২ সালের এস.এ রেকর্ডেও আছর উদ্দিনের নামে উক্ত বাড়ি রেকর্ড হয়েছে। জব্বার আজাদের অভিযোগ, হুমায়ুন কবির দুটি জাল দলিলের মাধ্যমে তাদের বাড়ি দখল করার চেষ্টা করছেন।
হুমায়ুন কবির যে দু’টি দলিল প্রদর্শন করেছেন তা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ১৯৬৯ সালে ৩০ ডিসেম্বর বিমল ব্রাক্ষ্মনের কাছ থেকে শুশীবালা চন্দ্র সাব কওলা দলিল মূলে ক্রয় করে। দলিল নম্বর ৭২১২। সাব রেজিষ্টার অফিস দেখানো হয়েছে পাকুল্লা। অথচ টাঙ্গাইল সাব রেজিষ্টার অফিস থেকে লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে প্রাক্তন পাকুল্লা সাব রেজিষ্টার অফিসের সর্বশেষ দলিল নং- ৫৩১০। ৭২১২নং দলিল এখানে রেজিষ্ট্রি হয়নি। জমির  মূল মালিক বিমল ব্রাক্ষ্মণ ১৯৫৭ সালেই তার সব সম্পত্তি বিক্রি করেন। এছাড়া হুমায়ুন কবির ১৯৯৩ সালের ৩০ নভেম্বর শুশী বালা চন্দ্রের কাছ থেকে উক্ত বাড়ি ক্রয় করেন।
জব্বার, আজাদ সহ এলাকাবাসীর অভিযোগ, অন্য লোককে শুশী বালা সাজিয়ে হুমায়ুন কবির এই দলিলটি করেছেন। শুধু তাই নয় ফাজিলহাটী ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা শাহাদত হোসেন খানকে ম্যানেজ করে নিজের নামে খারিজও করেছেন। উক্ত খারিজ বাতিলের জন্য জব্বার আজাদ সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানান।
এ ব্যাপারে হুমায়ুন কবির বলেন, আমি ২৫ বছর ধরে জায়গাটি ভোগ দখল করছি। জাল দলিলের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, অপরপক্ষ আদালতে মামলা করেছেন। মামলায় যে রায় হয় সেটাই আমি মেনে নিব। ফাজিলহাটী ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা শাহাদত হোসেন কৌশলে মূল বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, দলিল আসল না নকল সেটা যাচাই করার এখতিয়ার আমাদের নেই। হুমায়ুন কবির একটি দলিল মূলে খারিজ করেছেন। কিন্তু জব্বার সেটা বাতিলের জন্য এসিল্যান্ড স্যার বরাবর আবেদন করেছেন। এখন বিষয়টি এসিল্যান্ড স্যারের উপর নির্ভর করছে।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) রবীন্দ্র চাকমা বলেন, আমি এখনও ভালভাবে কাগজপত্র দেখিনি, কাগজপত্র দেখে বলতে পারবো কোনটি সঠিক।

ব্রেকিং নিউজঃ