দেলদুয়ারে কাবিটা প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

65

স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিটা) কর্মসূচির কাজ শেষ না করেই বিল উত্তোলন করে আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে প্রকল্পের সভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা কৃষ্ণ কান্ত দে সরকারের বিরুদ্ধে। কৃষ্ণ কান্ত দে সরকার দেলদুয়ার উপজেলার আটিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন।
জানা যায়, বিগত ২০২০-২১ অর্থ বছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার (কাবিটা) প্রকল্প কর্মসূচির আওতায় তৃতীয় ধাপে উপজেলার আটিয়া ইউনিয়নের হিংগানগর গ্রামের তনু ব্যাপারীর বাড়ি থেকে বিন্দুরিয়া এলাকার মোসা মিয়ার দোকান পর্যন্ত দুই লাখ টাকা ব্যয়ে রাস্তা সংস্কার কাজের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই প্রকল্পে আটিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণ কান্ত দে সরকারকে সভাপতি ও জ্ঞানেন্দ্র নাথ দে’কে সাধারণ সম্পাদক করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। চলতি বছরের জুন মাসের মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু তারা সড়কটির একটি জায়গায় নামে মাত্র ১০-১৫ ট্রাক মাটি ফেলেই প্রকল্পের পুরো টাকাই উত্তোলন করেন। এই প্রকল্পের কাজ শেষ করে টাকা উত্তোলনের নিয়ম থাকলেও তারা সেটি করেননি। এই টাকা প্রকল্পের সভাপতি কৃষ্ণ কান্ত দে সরকার তার নিজের পকেট ভারী করেছেন বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে এলাকার মানুষের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এ সময় স্থানীয় তনু ব্যাপারীর ছেলে আব্দুল আলিম টিনিউজকে বলেন, আমাদের বাড়ির সামনে থেকে মোসা মিয়ার দোকান পর্যন্ত মাটি ভরাটের কথা ছিল। কিন্তু প্রকল্পের সদস্যরা শুধু মসজিদের সামনে মাত্র কয়েক ট্রাক মাটি ফেলেছে। এই সড়কের আর কোথাও তারা মাটি ফেলেনি। শুনেছি পুরো টাকা তারা উত্তোলন করেছেন। স্থানীয় বাদশা মিয়া টিনিউজকে বলেন, এই গ্রামের সড়কটিতে ২৫-৩০ বছর ধরে মাটি ফেলা হয় না। এ সড়কটির অবস্থা খুবই খারাপ। শুনেছি সড়কে মাটি ফেলার কাজ এসেছিল। তারা শুধু এক জায়গায় কয়েক গাড়ি মাটি ফেলে চলে গেছে। জাকির হোসেন নামের এক ব্যক্তি টিনিউজকে বলেন, পুরো সড়কে মাটি ফেলার কথা ছিল। কিন্তু তারা রমজান মাসে মসজিদের সামনে একদিনে ১৫-১৬ গাড়ি মাটি ফেলে কাজ শেষ দিয়েছে। আর কোথাও তারা মাটি ফেলেনি।
প্রকল্পের সদস্য করিম মোল্লা টিনিউজকে বলেন, আমি এই কমিটির সদস্য কি না বিষয়টি আমার জানা নেই। আর কবে টাকা উত্তোলন করছে সেটাও জানি না।
প্রকল্পের সাধারণ সম্পাদক জ্ঞানেন্দ্র নাথ দে টিনিউজকে বলেন, টাকা আত্মসাত করিনি। টাকাগুলো প্রকল্পের সভাপতি কৃষ্ণ কান্ত দে সরকারের কাছে রয়েছে। অপেক্ষা করেন, কাজ হবে। আপাতত কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।
প্রকল্পের সভাপতি কৃষ্ণ কান্ত দে সরকার টিনিউজকে বলেন, কাজ শেষ না করে টাকা উত্তোলনের কোনও নিয়ম নেই। জুনের মধ্যে টাকা তুলতে হবে। এই সময়ে টাকা না তুলতে হয় তো বিল আটকে যেতে পারে। এজন্য আমি কাজ চলমান দেখিয়ে টাকা উত্তোলন করেছি। বৃষ্টির কারণে আপাতত কাজ স্থগিত রয়েছে। বৃষ্টি শেষ হলে কাজ করা হবে।
এ বিষয়ে দেলদুয়ার উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাশেদুল হাসানের সঙ্গে মোবাইলফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন কল রিসিভ করেননি।
এ ব্যাপারে দেলদুয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা আক্তার টিনিউজকে বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে ডেকে এ বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছি।

 

ব্রেকিং নিউজঃ