দেলদুয়ারে অসময়ে নদী ভাঙনে রাস্তা-ফসলী জমি নদীগর্ভে
দেলদুয়ার সংবাদদাতাঃ
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলা দিয়ে প্রবাহিত এলেংজানি, লৌহজং ও ধলেশ্বরী নদীর বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় প্রভাবশালীরা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। বাংলা ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করায় অসময়ে নদী তীরে দেখা দিয়েছে ব্যাপক ভাঙন। ইতোমধ্যে নদী তীরবর্তী শাহধারীপাড়া-মৈষ্টা সড়ক সহ ফসলি জমি নদীর পেটে চলে গেছে। ইতিপূর্বে টিনিউজবিডি.কম এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের পর জেলা প্রশাসক দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশ দেন। কিন্তু এখনও কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।
জানা গেছে, সরকার সমর্থিত রাজনৈতিক দলের একটি প্রভাবশালীচক্র বাংলা ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন ও বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। বালু উত্তোলনকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে সাহস পায় না। প্রশাসনও দেখে না দেখার ভান করে। ফলে কোন ভাবেই বন্ধ হচ্ছে না বাংলা ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন। পরিবর্তিত হচ্ছে নদীর গতিপথ, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এলাকাবাসী।
সম্প্রতি দেলদুয়ার উপজেলার লালহারা গ্রামে হঠাৎ ব্যাপক আকারে নদী ভাঙনে জনমনে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। আগে নদীর ভাটিতে বাংলা ড্রেজার মেশিন দিয়ে মাটি তুলেছিল প্রভাবশালী ওই চক্র। ফলে সম্প্রতি ভাঙন দেখা দেয়ায় আতঙ্কে আছে এলাকাবাসী। ভাঙনে কলাবাগান ও কাঠবাগানের বেশ কিছু অংশ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। অন্যদিকে শাহধারীপাড়া-মৈষ্টা জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কসহ কয়েকটি বাড়ি-ঘর নদীর পেটে চলে যাওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। শাহধারীপাড়া, এলাচিপুর, কামান্না, আরমৈষ্টা, ধানকী, কুমারজানীসহ আশপাশের বেশকয়েকটি গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষ দেলদুয়ার ও মির্জাপুর উপজেলা সদরে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম শাহধারীপাড়া-মৈষ্টা সড়ক। তাছাড়া শাহধারীপাড়াসহ আশেপাশের এলাকায় স্কুল, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রতিদিন শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের যাতায়াত এ সড়ক দিয়ে।
শাহধারীপাড়া গ্রামের নুরুল ইসলাম (৬০) টিনিউজকে জানান, রাস্তাটি ভেঙ্গে যাওয়ায় চলাচলে তাদের খুবই অসুবিধা হচ্ছে। পাশের জমির উপর দিয়ে চললেও ফসল রোপণ করা হলে তা বন্ধ করে দেয়া হবে। অবৈধ বাংলা ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ করে বাড়িঘর, ফসলি জমি ও সড়ক রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ কামনা করেছে নদীপাড়ে বসবাসকারীরা।
দেলদুয়ার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম ফেরদৌস আহমেদ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপজেলা প্রকৌশলী খ.ম ফরহাদ হোসাইনসহ জনপ্রতিনিধিরা ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী খ.ম ফরহাদ হোসাইন টিনিউজকে জানান, তিনি সরেজমিনে ভাঙন কবলিত সড়কটি দেখেছেন। সড়কটি মেরামত করা না হলে এলাকাবাসী মারাতœক যোগাযোগ সমস্যায় পড়বে। সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে আবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।