দেলদুয়ারের ডায়রিয়ায় বৃদ্ধার মৃত্যু ॥ আরও দুই শতাধিক মানুষ আক্রান্ত

39

স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার আটিয়া ইউনিয়নের গজিয়াবাড়ি গ্রামে ওয়াজ মাহফিলের তবারক খেয়ে প্রায় দুই শতাধিক নারী-পুরুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে বুধবার (১৬ নভেম্বর) সকালে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। তার নাম রাহেলা খাতুন (৭২)। রাতে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে বাড়িতেই তার মৃত্যু হয়। তার স্বামীর নাম বিশু চৌধুরী।




জানা যায়, গত রোববার (১৩ নভেম্বর) রাতে গজিয়াবাড়ি গ্রামের আক্কাস আলীর বাড়িতে ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করা হয়। ওই মাহফিলে গ্রামের দুই থেকে প্রায় তিন শতাধিক মানুষ অংশ নেন। মাহফিল শেষে রাত সাড়ে ১১টার দিকে আয়োজকদের পক্ষ থেকে অংশ নেওয়া গ্রামবাসীদের তবারক হিসেবে পলিথিনের প্যাকেটে মোড়া খিচুড়ি খেতে দেওয়া হয়। খিচুড়ি খেয়ে সবাই রাতে ভালভাবে বাড়ি ফিরেন। সোমবার (১৪ নভেম্বর) সকাল থেকেই ওই খিচুড়ি খাওয়া লোকজনের মাঝে প্রতিক্রিয়া হতে শুরু করে। মঙ্গলবার (১৫ নভেম্বর) সকালে গ্রামের প্রায় শতাধিক লোক ডায়রিয়ায় মারাত্বকভাবে আক্রান্ত হন। সাধারণত শারিরীকভাবে অসুস্থতা মনে করে অনেকেই হাসপাতালে ভর্তি না হয়ে বাড়ি থেকেই খাবার স্যালাইন ও পেটের অসুখের ওষুধ খান।




মঙ্গলবার (১৫ নভেম্বর) রাত থেকে ডায়রিয়া ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ে। গ্রামের সবাই গণহারে আক্রান্ত হন। মারাত্বক অসুস্থ অবস্থায় বুধবার (১৬ নভেম্বর) অনেকজন দেলদুয়ার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বুধবার (১৬ নভেম্বর) সকালে গজিয়াবাড়ি গ্রামের রাহেলা খাতুন নামের এক বৃদ্ধা মারা যান। এ ঘটনায় গ্রামে আরো আতংক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে দেলদুয়ার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা হাসপাতালের একটি দল নিয়ে ওই গ্রামে আসেন। তারা গ্রামের প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত লোকদের চিকিৎসা সেবা দেন।




বুধবার (১৬ নভেম্বর) দুপুরে গজিয়াবাড়ি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি বাড়িতেই প্রায় দুই থেকে তিনজন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন। সকালে চিকিৎসকরা ওই গ্রামে এসে প্রতিটি বাড়িতে পৌঁছে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। পরে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকলে ওই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলামের বাড়ির দুটি ঘরকে ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল বানিয়ে সেখানে প্রায় ৩০/৪০ জনকে মেঝেতে রেখে ডায়ারিয়ার স্যালাইন পুশ করেন। যাদের অবস্থা একটু বেশি খারাপ তাদের হাসপাতালে পাঠিয়ে দিচ্ছেন। প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জনকে দেলদুয়ার ও মির্জাপুর উপজেলা হাসপাতালে পাঠিয়েছেন বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণে গণহারে ডায়রিয়া হয়েছে বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।




হাতে স্যালাইন নিয়ে মেঝেতে শুয়ে আছেন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত সরোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, ওয়াজ মাহফিল শেষে রাতে খাবার দেওয়া হয়। খাওয়ার পর একদিন ভালই ছিলাম। মঙ্গলবার (১৫ নভেম্বর) রাত থেকে পেটে মোচড় দিতে শুরু করে। গভীর রাতে অন্তত ১০ বার বাথরুমে গিয়েছি। পলিথিনে মোড়ানো খাবার খেইে ডায়রিয়া হয়েছে। গ্রামের প্রায় সবাই আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্ত হাসিনা আক্তার বলেন, তবারক খাওয়ার সময় নষ্ট মনে হয়নি। কিন্ত খাওয়ার পর এ অবস্থা হবে বুঝিনি। রাত থেকেই পেটে ব্যথা করে পাতলা পায়খানা শুরু হয়েছে। বাড়িতে থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছি। আটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও গজিয়াবাড়ি গ্রামের সিরাজুল ইসলাম মল্লিক বলেন, ওযাজ মাহফিলের খাবার খেয়ে সবাই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েেেছ। খাবার সকালে রান্না করা হয়েছিল। পলিথিনে মুড়িয়ে রেখে রাতে খাবার দেওয়া হয়। খাবার নষ্ট হওয়ার কারণে এ ধরণের সমস্যা হতে পারে।




দেলদুয়ার উপজেলা স্বাস্থ্য পরিদর্শক ফজলুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে আমাদের সকল সদস্য নিয়ে এসে গ্রামের সবাইকে স্বাস্থ্য সেবা দিচ্ছি। দীর্ঘ সময় খাবার পলিথিনে রাখার কারণে বিষক্রিয়া তৈরী হয়ে এ অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে।




দেলদুয়ার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, ধর্মীয় মাহফিলে খিচুড়ি খেয়ে খাদ্যে বিষক্রিয়ায় গ্রামের প্রায় দুই শতাধিক লোক ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। খবর পেয়ে কয়েকজন মেডিকেল অফিসার, নার্স নিয়ে আমরা চিকিৎসা দিচ্ছি। দুটি ঘরকে ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল বানিয়ে আমরা চিকিৎসা দিচ্ছি। অনেকেই পানিশুণ্যতায় ভুগছে। যাদের অবস্থা বেশি খারাপ তাদের হাসাপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আক্রান্তদের মাঝে খাবার স্যালাইন থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় ওষুধ বিতরণ করা হয়েছে।

 

ব্রেকিং নিউজঃ