দূর থেকে ভেসে আসছে টাঙ্গাইলে সংসদ নির্বাচনের ভোটের পদধ্বনি

139

হাসান সিকদার ॥
ঘর গোছানোর পালা আর হার, জিতের খেলার প্রস্তুতি এবার অনেকটা আগেই শুরু হয়ে গেছে। মাঠ পর্যায়ে নতুন করে আবির্ভাব ঘটছে পুরাতন গ্রামবাসীর। যারা এতকাল গ্রামমুখী হননি। তাদের দেখে প্রবীণরা কেউ চিনতে পারছেন, কেউ পারছেন না। অনেকটা সময় পর যারা নিজ গ্রামে পদধূলি দিচ্ছেন তাদের দেখে লোকজন কিছুটা নয় ভালই অবাক হচ্ছেন। এই জায়গাটিতে খটকা লাগছে গ্রামবাসীর। গ্রামের প্রজন্মের শিক্ষিত তরুণরা বিষয়টি খোলাসা করে দিচ্ছে। গ্রামের ভাষায় বলছে “অ চাচা, অ জ্যাঠা- বসন্তের কোকিল কুহু কুহু ডাক দিচ্ছে শুনবার পারচ্ছেন না।” তারা বসন্তের কোকিল হোক আর শরতের হাঁসই হোক জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগমনী বার্তায় তাদেরও আগমন ঘটছে। দূর থেকে ভেসে আসছে ভোটের পদধ্বনি। টাঙ্গাইলের চারাবাড়ি গ্রামের কৃষক মইন আলী টিনিউজকে বলেন, “কিরে ভোট কি আগেই আইতাছে।




গ্রামের মানুষ এখন রোডম্যাপ, সিইসি এই শব্দগুলো জানে। গ্রামীণ জনপদ এবং গ্রামীণ জনজীবন উন্নত হওয়ার সঙ্গে গ্রামের মানুষের চলাফেরা হাঁকডাকের পরিবর্তন এসেছে। তাদের বেশিরভাগের বাড়িতে রঙ্গিন টিভি আছে। অনেক বাড়িতে ফ্রিজ, ওভেন আছে। তাদের সন্তানরা উচ্চ শ্রেণীতে লেখাপড়া করছে। কেউ বিদেশে গিয়ে রেমিটেন্স পাঠাচ্ছে। গ্রামের মানুষ রেমিটেন্স অর্থ বোঝে। দ্যাইন্যা গ্রামের আব্দুল হামিদ টিনিউজকে বলেন “পোলা সৌদিতে গেছে। ওইহান থাকে টেহা পাঠায়। আমরা সেই টেহা তুলি। এখন ডলারের দাম কত হচ্ছে।” শুনলে অবাক মনে হলেও এটাই একবিংশ শতকের তৃতীয় দশকের বাস্তবতা। অবশ্য এই বাস্তবতা একটু শুরু হয়েছে চলতি শতকের দ্বিতীয় দশক থেকে। এখন এর ব্যপ্তি বেড়েছে।
এই ব্যপ্তির মধ্যে ইলেকশনের বাদ্যের আওয়াজ পাওয়া যায়। দূর থেকে ভেসে আসছে এই আওয়াজ। সর্বশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছে বিগত ২০১৮ সালের (৩০ ডিসেম্বর)। ওই নির্বাচনে টাঙ্গাইলের ৮টি আসনসহ আওয়ামী লীগ ২৫৯টি আসনে জয়লাভ করে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নবম সংসদ নির্বাচনের (২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর) পর থেকে উন্নয়নের ধারায় দেশকে এগিয়ে নিয়ে যা্েছন। দশম নির্বাচনে (২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি) বিজয়ী হয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় কয়েক ধাপ এগিয়ে গেছে।




একাদশ নির্বাচনে উন্নয়নের জোয়ার অনেক উপরে নিয়ে গেছে। নিজের দেশের অর্থে নির্মিত হয়েছে পদ্মা সেতু, মেট্টো রেল। চট্রগ্রামের টানেল, ঢাকার ফ্লাইওভার, ছয় লেনের উত্তরবঙ্গ মহাসড়ক, রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্রসহ অনেক উন্নয়ন চলমান। সাধারণ মানুষ এই উন্নয়ন দেখছে। তাদের মধ্যে বড় যে বারতা পৌঁছেছে তা হলো- শেখ হাসিনার সরকার উন্নয়নের সরকার।




উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতা নিয়ে মাঠ পর্যায়ে গ্রামগঞ্জে নানা আলোচনা। গ্রামের মানুষ মনে করছে দ্বাদশ নির্বাচন বুঝি এগিয়ে আসবে। তাদের এই মনে করার কারণও আছে। পত্রিকা, টেলিভিশনে তারা দেখতে পারছে নতুন কমিশন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক আলাপ শুরু করেছে। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ভাল, না ব্যালট পেপারে সিল দেয়া ভাল- এ নিয়ে যে বাহাস শুরু হয়েছে তার প্রভাব গ্রামের মানুষের মধ্যে পড়েছে। এ নিয়ে গ্রামের মানুষও দ্বিধাবিভক্ত হয়েছে। গ্রামের লোক ইভিএম ও ব্যালট পেপার দুটোতেই ভোট দিয়ে অভ্যন্ত হয়েছে।




এদিকে শহরের বিভিন্ন প্যানা, পোস্টার পড়েছে।… ভাইকে এমপি হিসেবে পেতে চাই। এবার এমপি হবেন ….ভাই। ….ভাইয়ের আলো উন্নয়নের আলো। এ ধরনের কত যে শ্লোগান। প্রতিপক্ষরাও বসে নেই। তারাও সমান তালে এগিয়ে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের অনেক নেতা মাঠ ঘুরে অবস্থা দেখছেন। লোকজনের সঙ্গে আলাপচারিতায় বেড়িয়ে আসছে তাদের আকাঙ্ক্ষা। চা-বিস্কুটের ছড়াছড়ি এখনই শুরু। বিএনপিও বসে নেই। বিএনপি নেতারা টিনিউজকে বলেন, হাই কমান্ডের সিদ্ধান্ত মেনে নেবে। এক সূত্র জানায়, তাদের হাই কমান্ড এখনও কোন সিগনাল দেয়নি। এখনও তারা দাবি নিয়ে বসে আছে। বিএনপির একটি সূত্র বলছে, এই অবস্থায় তারা জনগণ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। এই বিষয়ে কথা হয় বিএনপি সমর্থিত কয়েক ব্যক্তির সঙ্গে। তাদের কথা, আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি এখন থেকেই যেভাবে ওয়ার্মআপ করছে তাতে তারা পিছিয়ে পড়ছে। এদিকে আওয়ামী লীগের কাঙ্ক্ষিত নেতারা নানা কর্মসূচীর মাধ্যমে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি জানান নিচ্ছেন।




ব্রেকিং নিউজঃ