ডাকাতি ও গণধর্ষণ মামলার আরো ২ আসামীর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

103

আদালত সংবাদদাতা ॥
টাঙ্গাইলের আলোচিত ঈগল এক্সপ্রেসের চলন্ত বাসে ডাকাতি ও গণধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ২ জন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। বুধবার (১০ আগস্ট) বিকেলে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট নওরিন করিম তাদের জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন। আসামী ২ জন হলো- বাবু হোসেন জুলহাস (২১) এবং সোহাগ মন্ডল (২০)। এই দুই আসামী ডিবি পুলিশের তিন দিনের রিমান্ডে ছিলেন।

আদালত সূত্র জানায়, বুধবার (১০ আগস্ট) বিকেলে ডিবি পুলিশ জবানবন্দির জন্য জুলহাস ও সোহাগ মন্ডলকে আদালতে তোলেন। পরে জবানবন্দির শেষে বিচারক তাদের কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন।

টাঙ্গাইলের কোর্ট ইন্সপেক্টর তানভীর আহমেদ জবানবন্দির বিষয়টি টিনিউজকে নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, এই মামলায় এ পর্যন্ত মোট ৯ জন আসামী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (৯ আগস্ট) বিকেলে গ্রেপ্তারকৃত ১০ জনের মধ্যে ৪ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। অপরদিকে ৬ জনের ৩ দিন করে রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত।

এর আগে টাঙ্গাইলের জেলা গোয়েন্দা ডিবি পুলিশ এ ঘটনায় ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে। গত শনিবার (৬ আগস্ট) রাতে ৩ জন ডাকাত সদস্য আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

 

উল্লেখ্য, গত (২ আগস্ট) রাতে কুষ্টিয়া থেকে ঈগল এক্সপ্রেসের একটি বাস অন্তত ২৪ জন যাত্রী নিয়ে নারায়ণগঞ্জের দিকে উদ্দেশের রওনা হয়। পরে রাত ১১টার দিকে সিরাজগঞ্জের একটি হোটেলে খাবারের জন্য বিরতি দেওয়া হয়। সেখান থেকে যাওয়ার পর ৩ দফায় ১০ জন যাত্রী সেজে বাসে উঠেন ডাকালের সদস্যরা। বাসটি বঙ্গবন্ধু সেতু পার হওয়ার পর আনুমানিক রাত দেড় টার দিকে যাত্রীরা ঘুমানোর এক পর্যায়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের টাঙ্গাইলের নাটিয়াপাড়া এলাকা পৌঁছালে ডাকাত দলের সদস্যরা অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে পুরো বাসের নিয়ন্ত্রণ নেন। প্রথমে পুরুষ যাত্রীদেরকে তাদের পোশাক খুলে হাত মুখ বাধা হয়। অপরদিকে নারী যাত্রীদেরকে বাসের পর্দা ও সিটের কভারখুলে মুখ এবং হাত বেঁধে ফেলা হয়। পরে অস্ত্রের মুখে বাসের চালক ও হেলপারকে জিম্মি করা হয়। টাঙ্গাইলের গোড়াই এলাকা থেকে বাসটিকে ইউর্টান করে এলেঙ্গা হয়ে ময়মনসিংহ রোড ধরে যেতে থাকে। এরই মধ্যে যাত্রীদের কাছে থাকা মোবাইল, টাকা, কানের দুল, হাতের বালা, গলার চেইন লুট করে নেয়া হয়। পরে কয়েকজন ডাকাত সংঘবদ্ধভাবে গাড়িতে থাকা এক নারীকে ধর্ষণ করে। রাত সাড়ে ৩ টার দিকে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার রক্তিপাড়া জামে মসজিদের পাশে বালুর স্তুপের কাছে বাসের গতি থামিয়ে পালিয়ে যায় তারা।

এ ঘটনায় ওই বাসের এক যাত্রী মধুপুর থানায় অজ্ঞাত ১২/১৩ জনকে আসামী করে ডাকাতি ও ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।

ব্রেকিং নিউজঃ