বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর 24, 2020
Home আইন আদালত টিনিউজে সংবাদ প্রকাশের পর যমুনায় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান শুরু

টিনিউজে সংবাদ প্রকাশের পর যমুনায় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান শুরু

রঞ্জিত রাজ ॥
“যমুনা নদীতে ইলিশ মাছ নিধনের মহোৎসব চলছে” শিরোনামে গত বৃহস্পতিবার (১৯ অক্টোবর) টাঙ্গাইল জেলার সবচেয়ে জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টালে সচিত্র সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদে উল্লেখ করা হয়, টাঙ্গাইলে যমুনা নদী থেকে অবাধে অবৈধভাবে মা ইলিশ নিধনের মহোৎসব চলছে। মৎস্য বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন নদীতে মা ইলিশ ধরার বন্ধে তেমন কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। রাতে ও দিনে জেলেরা যমুনা নদীতে অবাদে কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ ধরছে। প্রতিদিন গড়ে টাঙ্গাইল সদর, ভূঞাপুর, কালিহাতী, নাগরপুর উপজেলা এবং বঙ্গবন্ধু সেতু এলাকায় যমুনা নদী থেকে প্রায় ১৮ থেকে ২০টন মা ইলিশ ধরা হচ্ছে। জেলেরা অভিযোগ করেন, নদীতে ইলিশ মাছ ধরতে নৌ পুলিশ ও মৎস্য কর্মকর্তাদের টাকা ও মাছ দিতে হয়।
এমন সংবাদ প্রকাশের পর জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের টনক পড়ে। টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক খান মোঃ নুরুল আমিনের নির্দেশে টিনিউজ বিডি.কম অনলাইনে প্রকাশিত সংবাদের উল্লেখিত উপজেলাগুলোতে দ্রুত অভিযান ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। জেলা প্রশাসকের নির্দেশ পেয়ে ভূঞাপুর, নাগরপুর ও টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

জানা যায়, টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলায় মা ইলিশ ধরার অপরাধে ৫ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল ও ছয়জনকে অর্থদন্ড প্রদান করেছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এটিএম ফরহাদ চৌধুরী। এর আগে বৃহস্পতিবার (১৯ অক্টোবর) রাত ৯টা থেকে শুক্রবার (২০ অক্টোবর) ভোর ৫টা পর্যন্ত এই অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা মৎস্য বিভাগ ও নৌ পুলিশ। অর্থদন্ডপ্রাপ্তরা হলো- ভূঞাপুর উপজেলার পূর্নবাসন গ্রামের হোসেন আলীর ছেলে রফিকুল ইসলাম, একই গ্রামের মৃত মনু শেখের ছেলে শহিদুল, একই উপজেলার খানুরবাড়ি গ্রামের বাহার আলীর ছেলে রফিকুল, কালিহাতী উপজেলার বেলটিয়া গ্রামের জয়নাল আলীর ছেলে ইউসুফ আলী, একই গ্রামের জয়নাল আলীর ছেলে আয়ুব আলী ও জুলমত আলীর ছেলে মোতালেব।
ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এটিএম ফরহাদ চৌধুরী টিনিউজকে জানান, যমুনা নদীর বঙ্গবন্ধু সেতুর উত্তর থেকে উপজেলার নলিন বাজার এলাকা পর্যন্ত এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ৫ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ ও আটক পাঁচজনের প্রত্যেককে আড়াই হাজার টাকা করে অর্থদন্ড প্রদান করা হয়।
জানা গেছে, যমুনা নদীর টাঙ্গাইল অংশে ইলিশের জোন না হওয়ায় প্রশাসনের থেকে জেলেরা কোন বরাদ্দ পাইনি। জেলেদের জীবন-জীবিকার তাগিদে তারা যমুনা নদীথেকে মা ইলিশ ধরছে তারা।
জেলেদের অভিযোগ, মাছ না ধরতে পারায় পরিবারের সদস্যদের মুখে খাবার তুলে দিতে পারছি না। বাধ্য হয়েই মাছ ধরছি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোন প্রকান আর্থিক সহায়তা না করে উল্টো আমাদের জাল নিয়ে ধ্বংস করছে এবং জেল-জরিমানা করছে। একেকটা জাল তৈরি করতে এনজিও প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ বা সুদের টাকা দিয়ে বানানো হয়েছে।
টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলায় যমুনা নদীতে মা ইলিশ ধরা, অবৈধভাবে বিক্রি ও পরিবহন বন্ধের অভিযানকালে প্রায় দুই মন মা ইলিশ জব্দ ও ৮ জনকে পরিবহনের দায়ে জরিমানা করা হয়েছে। শুক্রবার (২০ অক্টোবর) সকালে যমুনা নদী তীরবর্তী নাগরপুর উপজেলার সলিমাবাদ ইউয়িনের চর সলিমাবাদ এলাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা শাহীনের নেতৃত্বে উপজেলা মৎস্য অফিস এ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানের খবরে জেলেরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও মাছ কিনতে আসা আটজন ক্রেতা হাতে নাতে ধরা পড়েন। এ সময় তাদের কাছে থাকা দুইমন মা ইলিশ জব্দ করা হয় এবং তাদেরকে মা ইলিশ ক্রয় ও অবৈধভাবে পরিবহনের দায়ে ১৬ হাজার ৫০০টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযান পরিচালনাকারী নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা শাহীন ও জেলা মৎস্য কর্মকর্তার প্রতিনিধি মোহাম্মদ এমদাদুল হক টিনিউজকে জানান, আমাদের কাছে খবর ছিল সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার জেলেরা অবৈধভাবে যমুনা নদী থেকে মা ইলিশ ধরে এনে নাগরপুরের চর সলিমাবাদে বিক্রি করে। এরই প্রেক্ষিতে শুক্রবার (২০ অক্টোবর) এ অভিযান পরিচালনা করি। অভিযানে আটজনকে মাছ পরিবহনের দায়ে জরিমানা ও দুই মণ মাছ জব্দ করা হয়। পরে জব্দকৃত মাছ উপজেলার বিভিন্ন এতিমখানায় দান করা হয়।

 

ব্রেকিং নিউজঃ