টাঙ্গাইল-৫ নির্বাচনে জয়লাভের চেয়ে দলীয় মনোনয়নই বড় ফ্যাক্টর হয়েছে

132

রঞ্জিত রাজ ॥
টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীরা প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এই আসটি মিউজিক্যাল চেয়ারের মতো। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন। তবে এবারও আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি জোটবদ্ধ হয়ে একাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নিবে। এ কারণে এই আসনের মনোনয়নের বিষয়টি চুড়ান্তভাবে সিদ্ধান্ত দিবেন শেখ হাসিনা। এজন্য আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির কর্মীসমর্থকদের আরও কিছু দিন অপেক্ষা করতে হবে। এই আসনে পাঁচবার আওয়ামী লীগ, চারবার জাতীয় পার্টি এবং একবার বিএনপি প্রার্থী জয়লাভ করেছে।
বিগত ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছানোয়ার হোসেন জয়লাভ করে বিভিন্ন উন্নয়নমুলক কর্মকান্ড করে ইতিমধ্যে সাধারণ মানুষের নজরে এসেছেন। তৃণমুল কর্মিদের সাথে রয়েছে তার ভাল যোগাযোগ। গণসংযোগ করছেন প্রতিনিয়ত। পরিচ্ছন্ন রাজনীতিক হিসেবে দলীয় নেতাকর্মিদের মাঝে তার সুনাম রয়েছে। রাজনৈতিক দলাদলি যাই থাকুক না কেন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেলে তিনি নির্বাচনী বৈতরণী পার হবেন বলে জানান আওয়ামী লীগের নেতাকর্মিরা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুত অনুযায়ী উন্নয়মুলক কর্মকান্ড করেছেন তিনি। সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি ও টাঙ্গাইলবাসীর দীর্ঘ দিনের প্রত্যাশিত ঢাকা-টাঙ্গাইল কমিউটার ট্রেন সার্ভিস উদ্ভোধন হয়েছে। তার কর্মীসমর্থকরা বলেন, দলে কোন কোন্দল নেই। নেই মনোনয়নের জন্য দলাদলী বা রেশারেশী। আগামীতে মনোনয়ন পেলে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে এই আসনটি আবারো উপহার দিতে পারবেন ছানোয়ার হোসেন, এমনটি প্রত্যাশা তার কর্মীসমর্থকদের।
এদিকে সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী এবং কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকীর ছোট ভাই মুরাদ সিদ্দিকী মাঠে রয়েছেন। তিনি এ আসনে শক্ত একজন প্রার্থী। নির্বাচনী এলাকায় সভা-সমাবেশ ও উঠান বৈঠক করছেন। সাধারণ জনগণের মাঝে রয়েছে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা। তিনবার নির্বাচন করে পরাজিত হয়েও জনগনের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতার রয়েছে। আগামী সংসদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগ অথবা স্বতন্ত্র যে দল থেকেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করুক না কেন তার বিজয় নিশ্চিত বলে জানান স্থানীয় ভোটাররা। তার কর্মীসমর্থকরা বলেন, মুরাদ সিদ্দিকী ১৯৯৮ সাল থেকে নির্বাচনের মাঠে রয়েছে। তিনবার নির্বাচন করে সামান্য ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন। এবার ভোটাররা তাকে জয়যুক্ত করে জনগনের সেবা করার সুযোগ দিবে।
এদিকে, বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে সাংগঠনিক ভিত্তি অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছে। তৃনমুল পর্যায়ের সাধারণ নেতাকর্মিরাও হয়ে পড়েছে দ্বিধাবিভক্ত। এ অবস্থায় নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী কতটুকু সুবিধা করতে পারবে এমনটাই প্রশ্ন জেলা বিএনপির অনেক নেতাকর্মির। বিএনপির মনোনয়ন চাইবেন বয়সের ভারে ভারাক্রান্ত সাবেক মন্ত্রী মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসান। তার বিরুদ্ধে নেতাকর্মিদের রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। আন্দোলন, সংগ্রামে না থাকা ও বিএনপির নেতাকর্মিদের সাথে তার যোগাযোগ খুবই কম। কালেভদ্রে নির্বাচনী এলাকায় পা রাখেন এমন অভিযোগ করেন বিএনপির দলীয় অনেক নেতাকর্মি। বিএনপির বেশিরভাগ নেতাকর্মি চাচ্ছেন নতুন মুখ নির্বাচনে আসুক। এছাড়া মনোনয়ন চাইবেন কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য, সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী খন্দকার আহসান হাবিব।
এদিকে মহাজোটে থেকেও টাঙ্গাইলে সাংগঠনিক কোন ভিত্তি নেই জাতীয় পার্টির। নির্বাচনী কৌশল ও জোটগত কারণে আওয়ামী লীগ এই আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছাড় দিয়েছিল। দলীয় তীব্র কোন্দলের মধ্য দিয়েই মনোনয়ন চাইবেন নবগঠিত জেলা জাতীয় পার্টির আহবায়ক পীরজাদা শফীউল্লাহ আল মুনীর। দলে নতুন যোগ দেয়া শফীউল্লাহ আল মুনীরকে সাংগঠনিকভাবে কোনঠাসা করে রেখেছেন অপর দুই মনোনয়ন প্রত্যাশী। পীরজাদা মুনীরের রাজনৈতিক কুটকৌশলে ও টাকার ভেল্কিতে দীর্ঘ দিন জাতীয় পার্টির নেতৃত্ব দেয়া মোজাম্মেল হককে পার্টি থেকে বহিস্কার করা হয়েছে। এরই মধ্যে জেলা জাতীয় পার্টির অফিস তালাবদ্ধ করে রেখেছে পীরজাদা মুনীরের বিপক্ষরা। জাতীয় পার্টির নব্য নেতা বনে যাওয়া পীরজাদা মুনীরের অগঠণতান্ত্রিক কর্মকান্ডে জাতীয় পার্টির সাধারণ কর্মীসমর্থকরা হতবাগ হয়ে গেছেন। সাধারণ কর্মীসমর্থকরা টিনিউজকে বলেন, টাকার লোভ দেখিয়েও পীরজাদা মুনীর নিজ পার্টির কর্মীসমর্থকদেরই কাছে টানতে পারে না। তিনি আবার কি করে ভোটারদের ভোট পাবেন।

ব্রেকিং নিউজঃ