টাঙ্গাইল হাসপাতালে কমছে না রোগীর চাপ ॥ ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত

69

হাসান সিকদার ॥
তীব্র শীতের প্রকোপে টাঙ্গাইলের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে বেড়েছে রোগীর চাপ। এসব রোগীদের ৮০ শতাংশই ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত। বাড়তি এ রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্টদের। মূলত শিশুরা নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, সর্দি-কাশি ও জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে। এছাড়া বয়স্করা অ্যাজমা ও শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল ছাড়াও জেলার বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত শিশু ও বয়স্করা চিকিৎসা নিচ্ছে। এদিকে শিশুরা ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ায় অভিভাবকেরা চিন্তিত হয়ে পড়েছেন।




টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল সূত্র জানায়, রোগীদের ভোগান্তি কমাতে সম্প্রতি টাঙ্গাইলে শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ ভবনে জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের ১০০টি আসন স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই সেসব রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন। চিকিৎসকরা ঠান্ডার এই সময়ে শিশু ও বয়স্কদের সর্তকভাবে চলা ও যত্ন সহকারে থাকতে বলেছেন।
২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্স, প্যারামেডিকস এবং দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী মিলিয়ে ৪০১ জনের মধ্যে কর্মরত আছেন ৩২৮ জন। হাসপাতালের পদ ফাঁকা রয়েছে ৭৩টি। এর মধ্যে ৫৮ জন চিকিৎসকের মধ্যে রয়েছে ৪১ জন। ২৩৯ নার্সের স্থলে আছেন ২৩৩ জন। ৩২ জন প্যারামেডিকসের স্থলে আছেন ১৩ জন। এছাড়াও ৭২ জন দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর স্থলে রয়েছেন ৪১ জন।




এদিকে হাসপাতালে শিশু রোগীর আসন সংখ্যা ২৫টি। তবে শিশু ওয়ার্ডের ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৫১ জন। এর আগে এ ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল ৬৫ থেকে ৬৯ জন শিশু। ভর্তি শিশু রোগীদের ৮০ ভাগই ঠান্ডাজনিত নানা সমস্যায় আক্রান্ত।
শিশু ওয়ার্ডের বারান্দার ফ্লোরে চিকিৎসা নিচ্ছে ঘাটাইল উপজেলার ঘারিয়া গ্রামের রোজা মনি (৪)। শিশুটির মা লাবনী আক্তার টিনিউজকে বলেন, প্রথমে ঠান্ডা কম ছিল বলে বাড়িতে ওষুধ খাওয়ানো হয়। হঠাৎ ঠান্ডার সঙ্গে খিচুনি দেখা দেওয়ায় রোজাকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তিনি বলেন, সকালে ভর্তি হলেও রোজাকে চিকিৎসক দেখাতে পারিনি। তবে নার্সরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিচ্ছেন। এছাড়া ওয়ার্ডে বেড খালি না থাকায় বারান্দার ফ্লোরে ভর্তি রেখেই চিকিৎসা চলছে। গাইনি ওয়ার্ডের বারান্দার আসনে ভর্তি মাহমুদনগরের পারবহুলী গ্রামের আর্জিনা বেগম টিনিউজকে বলেন, গত বৃহস্পতিবার প্রসবজনিত সমস্যায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। ওয়ার্ডের ভেতরে আসন খালি না থাকায় রাতে এই আসনটি দেওয়া হয়েছে।




মেডিসিন বিভাগের ১০০টি আসন মেডিকেল কলেজে স্থানান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. লুৎফর রহমান আজাদ। তিনি টিনিউজকে বলেন, লিখিতভাবে আসনগুলো স্থানান্তর হয়নি। কেবল হাসপাতালের রোগীর চাপ কমাতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ওই আসনগুলোর রোগীদের চিকিৎসাসহ সব সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে জেনারেল হাসপাতাল।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের উপ-পরিচালক খন্দকার সাদিকুর রহমান বলেন, তীব্র শীতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকার কারণে শিশু ও বয়স্করা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়েছে প্রায় চারগুণ। এর মধ্যে প্রায় ৮০ ভাগ মানুষ ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত। ঠান্ডাজনিত রোগে ক্রমাগত রোগীর চাপে আক্রান্তদের জন্য হাসপাতালে আলাদা ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে।




 

 

ব্রেকিং নিউজঃ