টাঙ্গাইল হাসপাতালে আইসিইউ এর অভাবে ভোগান্তিতে মুমূর্ষু রোগীরা

161

হাসান সিকদার ॥
বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া সুমাইয়া আক্তার মা ও বাবাকে নিয়ে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসাপাতালে এসেছেন আইসিইউতে ভর্তির জন্য। তার বাবা আমিরুল ইসলাম করোনায় আক্রান্ত। হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করাতে না পেরে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার সময় কথা হয় তার সাথে। শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার বলেন, আমার বাবা করোনায় আক্রান্ত। হঠাৎ করে বাবার অবস্থা খারাপ হওয়ায় আইসিইউতে নেয়া প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। কিন্তু হাসপাতালে আসার পর এখানকার কর্তৃপক্ষ আমাকে জানায় অগ্নিকান্ডের পর থেকে আইসিইউ বন্ধ রয়েছে। তাই ডাক্তার আমার বাবাকে ঢাকায় রেফার্ড করেছেন। এতে আমি মহাবিপদে পড়েছি। কোন উপায় না দেখে বাবাকে বাঁচাতে তাই দ্রুত অ্যাম্বুলেন্সে এখন ঢাকার উদ্দ্যেশে রওনা দিতে হচ্ছে।
এদিকে চালু হওয়ার আড়াই মাসের মাথায় অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ হয় টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিট নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) এর কারণে কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন করোনা আক্রান্ত মুমূর্ষু রোগীরা। এদিকে অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার ১২ দিনেও আইসিইউ চালু করা সম্ভব হয়নি। আইসিইউ কার্যক্রম চালু করার জন্য কাজ করছে ঢাকা থেকে আগত ন্যাশনাল ইলেক্ট্রো মেডিক্যাল ইকুইপমেন্ট মেইনটেন্যান্স, ওয়ার্কশপের তিন সদস্যের একটি টেকনিক্যাল টিম। এদিকে করোনা আক্রান্ত মুমূর্ষু রোগীদের চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠানোর পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।
টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মো. সাহাবুদ্দিন খান টিনিউজকে জানান, গত শনিবার (২৪ জুলাই) ঢাকা থেকে ন্যাশনাল ইলেক্ট্রো মেডিক্যাল ইকুইপমেন্ট মেইনটেন্যান্স, ওয়ার্কশপের ৩ সদস্যের একটি টিম এসেছে। তারা আইসিইউ’র অক্সিজেন লাইন মেরামতের কাজ করছে। এখনো কাজ চলমান রয়েছে। তিনি আরও জানান, অক্সিজেনের কোন স্বল্পতা নেই। মুমূর্ষু রোগীদের ঢাকায় রেফার্ড করা হচ্ছে। এছাড়াও কিছু সংখ্যক মুমূর্ষু রোগীদের বাইপ্যাপ মেশিং এর মাধ্যমে চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে। আশা করি দ্রুতই আইসিইউ’র এর কার্যক্রম চালু করা যাবে।
গত (১৫ জুলাই) বিকেল সোয়া ৩ টার দিকে হঠাৎ করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউ ওয়ার্ডে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। হাইফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা থেকে অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত্র ঘটে। এ সময় ১০ জন করোনা রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরে রোগীদের সেখান থেকে সরিয়ে নেয়া হয়। পরে কাউকে খোলা আকাশের নিচে, আবার কাউকে গাছ তলায় আশ্রয় নিতে দেখা গেছে। এ ঘটনায় অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট সোহানা নাসরিনকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ড. আতাউল গনি টিনিউজকে জানান, হাসপাতালের করোনা ইউনিটের আইসিইউ বন্ধ থাকার কারণে রোগীদের সাময়িক কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু আইসিইউ বন্ধ থাকার কারণে আমাদের টাঙ্গাইলে কোন রোগী মারা যায়নি। আর যারা খুব গুরুতর রোগী তাদেরকে আমাদের চিকিৎসকরা ঢাকায় রেফার্ড করছেন। আমরা আশা করছি আগামী দুই দিনের মধ্যে আইসিইউ আবার চালু হবে।

ব্রেকিং নিউজঃ