টাঙ্গাইল সদরের চার ইউপিতে নির্বাচনী প্রচারণা শেষ ॥ ভোট ২৭ জুলাই

83

জাহিদ হাসান ॥
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার চার ইউপিতে নির্বাচনী প্রচারণা সোমবার (২৫ জুলাই) রাতে শেষ হয়ে গিয়েছে। আগামীকাল বুধবার (২৭ জুলাই) টাঙ্গাইল সদর উপজেলার চারটি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই চারটি ইউনিয়ন হলো- ছিলিমপুর, কাকুয়া, কাতুলী ও মাহমুদনগর। এসব ইউনিয়নে প্রথমবারের মতো ভোট গ্রহণ হবে ইভিএম পদ্ধতিতে।

নির্বাচনের তফসিল ঘোষিত হওয়ার পর থেকেই টাঙ্গাইল সদর উপজেলার চার ইউনিয়ন পরিষদে সর্বত্রই নির্বাচনী হাওয়া বইছে। এসব উপজেলার চায়ের দোকান থেকে শুরু করে হাট-বাজার ও গ্রামাঞ্চলের সবখানেই নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যস্ত দিন কাটিয়েছেন প্রার্থী, কর্মী-সমর্থক ও ভোটাররা। এ সময়ে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রার্থীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা করেছেন। বিজয়ী হওয়ার জন্য নিজেকে সৎ ও যোগ্য দাবি করে দিয়েছেন নানা প্রতিশ্রুতি।

জানা যায়, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার চার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে এবার চেয়ারম্যান পদে ২১ জন, সাধারণ সদস্য পদে ১৩২ জন ও সংরক্ষিত সদস্য পদে ৪৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে কাকুয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৪ জন, সাধারণ সদস্য পদে ৩৬ জন ও সংরক্ষিত সদস্য পদে ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

 

কাতুলী ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৫ জন, সাধারণ সদস্য পদে ২৮ জন ও সংরক্ষিত সদস্য পদে ১৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ছিলিমপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৮ জন, সাধারণ সদস্য পদে ৪০ জন ও সংরক্ষিত সদস্য পদে ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মাহমুদনগর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৬ জন, সাধারণ সদস্য পদে ৩৫ জন ও সংরক্ষিত সদস্য পদে ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনী প্রচারণায় অভিযোগ রয়েছে, নির্বাচনে নৌকা প্রতীক ছাড়া অন্য চেয়ারম্যান প্রার্থীকে প্রচারণা করতে দেওয়া হয়নি। অন্য চেয়ারম্যান পদের প্রার্থীর কর্মী ও অনুসারীদের নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও মারধর ও মোটরসাইকেল ভাংচুরের ঘটনাও ঘটেছে। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ভাংচুরের মতো ঘটনাও ঘটছে প্রতিনিয়ত। ফলে আতংক দেখা দিয়েছে ইউনিয়নবাসীদের মধ্যে।

কাতুলী ইউনিয়নের ভোটার আইয়ুব মোল্লা টিনিউজকে বলেন, আমরা ভোট দেওয়ার অধিকার চাই। এছাড়া যমুনার ভাঙন রোধে যে ব্যক্তি স্থায়ী বেড়িবাঁধ গড়তে পারবে ও ডাকলে যাকে কাছে পাওয়া যাবে- এমন ব্যক্তিকেই ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবো। মাহমুদনগর গ্রামের আতিক ইসলাম টিনিউজকে বলেন, আমরা সাধারণ মানুষ। আমরা কারো পক্ষে কখনও ভোট চাই না। তারপরও নৌকার প্রার্থীর কর্মীরা বলছেন, নৌকার বাইরে ভোট দেওয়া যাবে না। তারা বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি দিয়েছে।

নির্বাচনের বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা এইচএম কামরুল হাসান টিনিউজকে বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত বড় কোন অভিযোগ পাইনি।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ড. আতাউল গনি টিনিউজকে বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোন প্রকার আইনশৃঙ্খলার অবনতি হলে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নির্বাচনী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও একাধিক ম্যাজিস্ট্রেটকে অ্যাসাইন করা আছে।

 

 

ব্রেকিং নিউজঃ