টাঙ্গাইল পৌরসভায় হাঁটার ফুটপাথে দোকান বিড়ম্বনায় পথচারীরা

225

হাসান সিকদার ॥
টাঙ্গাইল পৌরবাসী ব্যবহার করতে পারছে না ফুটপাথ। অসাধু চক্র একটার পর একটা দোকান বসিয়েই যাচ্ছে। আবার সেই দোকান ‘ভাড়া’ দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে বিপুল অঙ্কের টাকা। এসব ফুটপাথে চলতে গিয়ে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন নারীরা। ফুটপাথ দেখভালের দায়িত্বে থাকা পৌরসভার নেই কোন উদ্যোগ। কতিপয় প্রভাবশালীদের মদদেই অবাধে চলছে ফুটপাথ বাণিজ্য।
শহরের বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে, মার্কেটগুলোর সামনে ফুটপাথ বলতে কিছু নেই। হাঁটতে গেলেও জট লাগে। করোনা পরিস্থিতিতে এখানে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা রীতিমতো অসম্ভব। ফুটপাথগুলো কারা নিয়ন্ত্রণ করছে, কে ভাড়া তোলে এমন প্রশ্ন ছিল হকারদের কাছে। বেশিরভাগই মুখ খুলতে নারাজ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন হকার টিনিউজকে বলেন, প্রতিদিন ভাড়া আর চাঁদা দিতে হয় বিশেষ একটি পক্ষকে। বেচাবিক্রি হোক না হোক টাকা প্রতিদিন দিতে হয়। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ক্যাপসুল মার্কেট, ভিক্টরিয়া রোড মার্কেট, জগলু রোডে মার্কেট, ছয়আনী বাজার রোডসহ আরও অনেক মার্কেটের সামনের ফুটপাথে স্থায়ী পসরা সাজিয়ে বসেছেন অনেকে। প্রতিটি ফুটপাথ নিয়ন্ত্রণ করে পৌরসভা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিদিন ফুটপাথ থেকেই চাঁদা ওঠে লাখ টাকারও বেশি। যার একটা বড় অংশ চলে যায় স্থানীয় প্রভাবশালী ও পৌরকতৃপক্ষদের পকেটে।
ফুটপাথে অবৈধ ব্যবসার পেছনে পৌরসভা ও প্রশাসনকে দায়ী করেছেন প্রায় সব মার্কেটের দোকান মালিক সমিতির কতিপয় নেতারা। ওই নেতারা টিনিউজকে বলেন, ফুটপাথে এসব অবৈধ ব্যবসা পরিচালনার জন্য সরাসরি তারা জড়িত। মার্কেটের সামনে ফুটপাথ উৎখাত করতে চাই আমরাও। কিছু অভিযান চালানো হয়। এরপর আবার হকাররা বসতে শুরু করে। কেন অভিযান চালায়, আবার কীভাবে বসে এটা রহস্যের মনে হয়। এ বিষয়ে পৌরসভার দায়িত্বহীনতা দেখাচ্ছে।
পথচারীদের অভিযোগ, এসব ফুটপাথে হাঁটতে গেলে পকেটমারদের আতঙ্কেও থাকতে হয়। বিশেষ করে নারীদের সঙ্গে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটছে বেশি। ক্যাপসুল মার্কেটে শপিং করতে আসা সাবিহা আক্তার টিনিউজকে বলেন, শহরের মার্কেটগুলোর ফুটপাথ দিয়ে হাঁটাই যায় না। হকাররা দোকান বসিয়ে রেখেছে। ধাক্কাধাক্কি লেগেই থাকে। অনেকে ইচ্ছে করেই গায়ের ওপর এসে পড়ে। কামরুল হাসান টিনিউজকে বলেন, ফুটপাথ দিয়ে হাঁটার উপায় নেই। তাই প্রধান সড়ক দিয়ে হাঁটতে বাধ্য হচ্ছি।
এ বিষয়ে জানার জন্য টিনিউজের পক্ষ থেকে টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র সিরাজুল হক আলমগীরকে বার বার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

 

ব্রেকিং নিউজঃ