টাঙ্গাইল পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীদের প্রচারণা

945

এম কবির / জাহিদ হাসান ॥
বালুচরা, সন্তোষ, ঘোষপাড়া, পুরাতন পাড়া, মাদারখোল, ঋষিপাড়া, রৎ খোল, শাখারীপাড়া, ঢুলিপাড়া ও অলোয়া ভবানী এলাকা নিয়ে টাঙ্গাইল পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড গঠিত। পৌরসভার শেষ সীমানায় হওয়ায় খুব একটা উন্নয়নের ছোয়া লাগেনি এখানে। এই ওয়ার্ডে ৬ হাজার ৩৯৩ জন ভোটার। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ৩ হাজার ১৬৩ জন ও নারী ভোটার ৩ হাজার ২৩০ জন ভোটার। বিগত সময়ে এই ওয়ার্ডে অনেকেই কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচিত এসব জনপ্রতিনিধিরা তাদের এলাকায় বিভিন্ন ধরনের প্রতিশ্রুতি এবং উন্নয়নমূলক কাজও করেছেন। কিন্তু তারপরেও রয়ে গেছে নানা ধরনের সমস্যা। বিশেষ করে এই ওয়ার্ডের রাস্তা, জলাবদ্ধতা ও মাদকের সমস্যাটা সবচেয়ে বেশি। এ ওয়ার্ডে বেশিভাগ রাস্তাই কাঁচা। কিছু রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এই ওয়ার্ডটিতে বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে এসে বাড়ি করা লোকজনের সংখ্যাই বেশি। এখানে পানি, গ্যাস, ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। নির্বাচনের তফসিল না হলেও নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রচারণা দেখার মতো। মোড়ে মোড়ে ব্যানার ফেস্টুন ও পোষ্টার দেখা গেছে। সারা দিন কোন খোঁজ না থাকলেও সন্ধ্যার পর থেকেই প্রার্থীদের দোঁড়ঝাপ শুরু হয়। চায়ের দোকান, বিভিন্ন খেলার জায়গায় জমায়িত হয়ে যার যার মতো করে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এই ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলরসহ ৫ জন প্রার্থী নির্বাচন করবে বলে জানা যায়। তারা হলেন- বর্তমান কাউন্সিলর অলোয়া ভবানী গ্রামের মৃত ইনতাজ আলীর ছেলে মোহাম্মদ আলী, সন্তোষ বালুচরা এলাকার সাবেক কাউন্সিলার মৃত সেলিম হায়দারের ছেলে রকি হায়দার, সন্তোষ বালুচরা এলাকার মাইজ উদ্দনের ছেলে শফিকুল ইসলাম শফি, সুজিত সরকার ও আব্দুর রাজ্জাক।
এই ওয়ার্ডের বাসিন্দারা টিনিউজকে জানায়, এই ওয়ার্ডটি একটি অবহেলিত এলাকা। বিশেষ করে এই ওয়ার্ডের রাস্তা, জলাবদ্ধতা ও মাদকের সমস্যাটা সবচেয়ে বেশি। এ ওয়ার্ডে বেশিভাগ রাস্তাই কাঁচা। কিছু রাস্তা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এই ওয়ার্ডটিতে বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে এসে বাড়ি করা লোকজনের সংখ্যাই বেশি। এখানে পানি, গ্যাস, ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই। বিশেষ করে রথখোলার রাস্তা ও পোষ্ট অফিসের পাশের রাস্তার অবস্থা খুব খারাপ। সন্তোষ বালুচরার রাস্তার কার্পেটিং হয়নি। বিভিন্ন লিংক রোডে বৈদ্যুতিক বাল্ব নেই। তাই রাতের বেলায় চলাচল করা কষ্টকর।
সন্তোষ বালুচরা এলাকার সাবেক কাউন্সিলর মৃত সেলিম হায়দারের ছেলে রকি হায়দার। সে পেশায় একজন ব্যবসায়ী। সে এইচএসসি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছে। রকি হায়দার এবারই প্রথমবার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। প্রার্থী রকি হায়দার টিনিউজকে বলেন, আমার বাবা এই ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ছিলেন। বাবার কিছু স্বপ্ন ছিল যা বাবা পুরোন করে যেতে পারেনি। আমি সেই স্বপ্ন পুরোন করতে চাই।
সন্তোষ বালুচরা এলাকার মাইজ উদ্দনের ছেলে শফিকুল ইসলাম শফি এবার প্রথম নির্বাচন করবেন। সে পেশায় একজন শাড়ী কাপড়ের ব্যবসায়ী। সে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন। প্রার্থী শফিকুল ইসলাম শফি টিনিউজকে বলেন, মানুষের পাশে থেকে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করা আমার প্রধান কাজ। এলাকায় রাস্তাঘাটের যে সমস্যা রয়েছে তার সমাধান করবো।
অলোয়া ভবানী গ্রামের মৃত ইনতাজ আলীর ছেলে মোহাম্মদ আলী। সে বর্তমান কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সে এর আগে ১৯৯৯ সালেও কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী। তিনি ৮ম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন। প্রার্থী মোহাম্মদ আলী টিনিউজকে বলেন, আমার ওয়ার্ডে নতুন করে বসতির সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই নতুন নতুন রাস্তা করতে হচ্ছে। আমি ২৭টি কাঁচা রাস্তা, ৯টি পাকা রাস্তা, ২টি ফুট ব্রিজ, খাল খননসহ প্রায় ৫ কোটি টাকার কাজ করেছি। কিছু কিছু রাস্তার কাজ এখনও করতে পারিনি। সেগুলো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আমি আমার এলাকায় অনেক উন্নয়ন করেছি। এই উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে জনগন আমাকে আবার নির্বাচিত করবে বলে আমি আশা করি। আমার এলাকায় মাদক সমস্যা আমি দূর করেছিলাম। কিন্তু ইদানিং আবার মাদকের সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। এই ওয়ার্ডের ৫১টি রাস্তার প্রকল্প পৌরসভায় জমা দেয়া আছে। আমার এলাকায় বিদ্যুৎ ও খেলার মাঠের কিছু সমস্যা রয়েছে। যেগুলো সমাধানের চেষ্টা করবো।
এছাড়াও এই ওয়ার্ডে সুজিত সরকার ও আব্দুর রাজ্জাক নির্বাচন করবেন বলে শোনা গেছে।

দৃষ্টি আকর্ষন- আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের সবচেয়ে জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল টিনিউজবিডি. কম এ ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) টাঙ্গাইল পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের নিবাচর্নী হালচাল প্রকাশিত হবে।

 

 

ব্রেকিং নিউজঃ