টাঙ্গাইল পৌরসভার ১৬ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থীদের প্রচারণা

1,056

নোমান আব্দুল্লাহ / রবিন তালুকদার ॥
টাঙ্গাইল পৌরসভার মধ্যে ১৬ নং ওয়ার্ডটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। এই ওয়ার্ডের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো হলো- তালতলা, বটতলা, শিমুলতলী, আবহাওয়া অফিস, মুসলিম পাড়া, পোস্ট অফিস মোড়, প্রেসক্লাব মোড়, টাঙ্গাইল স্টেডিয়াম, ছোট কালিবাড়ী মোড়, ক্লাব রোড। এই ওয়ার্ডের মোট ভোটার ৬ হাজার ৫শ’ জন। এর মধ্যে মহিলা ভোটার ৩ হাজার ৩৮২ জন এবং পুরুষ ভোটার ৩ হাজার ১১৮ জন। বিগত সময়ে এই ওয়ার্ডে অনেকেই কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচিত এসব জনপ্রতিনিধিরা তাদের এলাকায় বিভিন্ন ধরনের প্রতিশ্রুতি এবং উন্নয়নমূলক কাজও করেছেন। কিন্তু তারপরেও রয়ে গেছে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা।
এই ওয়ার্ডে বর্তমান কাউন্সিলরসহ ৪ জন প্রার্থী নির্বাচন করবেন বলে শোনা যাচ্ছে। তারা হলেন-বর্তমান কাউন্সিলর হাফিজুর রহমান স্বপন। অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন- বরকত আলী বকুল, নুর আলম বিদ্যুৎ এবং এনামুল কবীর।
এই ওয়ার্ডের বাসিন্দারা টিনিউজকে জানায়, বিগত সময়ে এই ওয়ার্ডে অনেকেই কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। তবে বর্তমান কাউন্সিলর হাফিজুর রহমান স্বপন টানা ৩ বার নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকায় অনেক উন্নয়ন হয়েছে। তার আগে এলাকায় অনেক সমস্যা ছিল। তিনি এসব সমস্যার সমাধান করেছন। এর পরেও এলাকায় বিভিন্ন ধরনের সমস্যা রয়ে গেছে। বিশেষ করে এলাকায় মাদক সেবীদের প্রবণতা অনেক বেশী রয়েছে। এলাকায় চুরি, ছিনতাই, ইভটিজিং এবং বখাটেদের উৎপাত রয়েছে। ওয়ার্ডের ভিতরের রাস্তাগুলো এখনও কাঁচা রয়েছে। অল্পবৃষ্টি হলে কিছু এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ এলাকায় কিছু চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া গ্যাস এবং সাপ্লাইয়ের পানির স্বল্পতা রয়েছে।
এবার এই ওয়ার্ডের নতুন প্রার্থী আকুর টাকুর পাড়ার কাজী নজরুল ইসলাম স্বরনী রোড এলাকার বাসিন্দা বরকত আলী বকুল। তিনি শহর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। তিনি পেশায় ব্যবসায়ী। নির্বাচনের ব্যাপারে বরকত আলী বকুল টিনিউজকে বলেন, সমাজ গড়ার লক্ষে এবং এলাকায় উন্নয়নের জন্য আমি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো। এলাকায় অনেক সমস্যা রয়েছে। আমি নির্বাচিত হলে সেগুলোর সমস্যার সমাধান করবো। তিনি আরো বলেন, করোনার সময় সাধ্যমতো ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতা করেছি। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে আমি অনেক মানুষকেই বিভিন্নভাবে সাহায্য করেছি। আমি আশাবাদি নির্বাচনে জয়ী হবো। আমি নির্বাচিত হলে মাদক, চাঁদাবাজ মুক্ত একটি ওয়ার্ড গড়ে তুলবো। ভাতাকার্ডের সুষম বন্টন, রাস্তার উন্নয়ন করা হবে। অসহায় এবং দরিদ্র মানুষের পাশে সর্বদা থাকবো। আমি যেহেতু জনকল্যানের স্বার্থে নির্বাচন করতে চাই, সেহেতু আমি এই ওয়ার্ডে জনসাধারণের সর্বদা পাশাপাশি থেকে প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখবো। এই ওয়ার্ডটি একটি আধুনিক এবং মডেল একটি ওয়ার্ড গড়ে তুলার লক্ষে কাজ করবো।
এই ওয়ার্ডের আরেক নতুন প্রার্থী ১১ নং সেক্টরের ৫ নং কোম্পানী কমান্ডার গেরিলা বাহিনীর প্রধান রবিউল আলমের ছেলে নুর আলম বিদ্যুৎ। তিনি মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড টাঙ্গাইল জেলা শাখার সহ-সভাপতি। তিনি পেশায় ব্যবসায়ী। প্রার্থী নুর আলম বিদ্যুৎ টিনিউজকে বলেন, উন্নয়নের ধারা নতুন প্রজম্মের হাতে হোক এই প্রত্যাশায় আমি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো। এছাড়া এলাকায় আমার গ্রহণ যোগ্যতা রয়েছে। এই ওয়ার্ডে এখনো অনেক সমস্যা রয়েছে। আমি নির্বাচিত হয়ে জনগণকে সাথে নিয়ে এই সমস্যার সমাধান করতে চাই। তিনি আরো বলেন, করোনার সময় ব্যক্তিগতভাবে নগদ অর্থসহ ৫ শতাধিক পরিবারের মধ্যে সহযোগিতা করেছি। ঈদসহ বিভিন্ন দিবসে সাধ্যমতো সহযোগিতা করেছি। আমি এ ধারা অব্যাহত রাখতে চাই। আমি আশা করছি নির্বাচনে বিজয়ী হবো। আমি নির্বাচিত হলে প্রথমে মাদক এবং নিরব চাঁদাবাজ মুক্ত করবো। এছাড়া চুরি, ছিনতাই, ইভটিজিং ও সন্ত্রাস মুক্ত এলাকা গড়ে তুলবো। জলাবদ্ধতা, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার সুনিশ্চিত করা হবে। আধুনিক এবং মডেল ওয়ার্ড গড়ে তুলার লক্ষে কাজ করবো। গরীব এবং অসহায়দের মধ্যে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে। এই ওয়ার্ডের সমস্ত শ্রেণী পেশার মানুষের সাথে নিয়ে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখবো। আমি সব সময়ই জনগনের স্বার্থে কাজ করবো। বিপদে আপদে সকলের পাশে দাঁড়াবো। কর্মস্থানের সুযোগ সৃষ্টির ব্যাপারেও কাজ করবো।
এই ওয়ার্ডের আরেক প্রার্থী আকুর টাকুর পাড়ার শিমুলতলী রোডের বাসিন্দা মৃত এডভোকেট গিয়াস উদ্দিন আহমেদের ছেলে এনামুল কবীর। তিনি জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জেলা শাখার আজীবন সদস্য। নির্বাচনে অংশগ্রহণের ব্যাপারে এনামুল কবীর টিনিউজকে বলেন, একই ব্যক্তি যে ধরনের কার্যক্রম করে যাচ্ছেন এর ফলে জবাবদিহিতা নেই এবং বিভিন্ন সমস্যার সমাধান ও পরিবর্তনের জন্যই আমি মূলত নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো। নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদি। আমি নির্বাচিত হলে এলাকার সমস্যাগুলো সমাধান এবং উন্নয়ন করতে চাই। তিনি আরো বলেন, করোনার সময়ে স্বাধ্য মতো বিভিন্ন ধরনের সহায়তা করেছি, যা এখনো বিদ্যমান রয়েছে। আমি বিজয়ী হলে মাদক, চাঁদাবাজ, চুরি, ছিনতাই ও সন্ত্রাসমুক্ত ওয়ার্ড গড়ে তুলবো। এছাড়া পৌরসভা কর্তৃক বিভিন্ন কার্ডের সুষম বন্টন করা হবে। আমার পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট জবাবদিহিতা থাকবে। আধুনিক, উন্নত এবং একটি পরিচ্ছন্ন ওয়ার্ড গঠনের জন্য সকলকে এক সাথে নিয়ে কাজ করবো।
এই ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর হাফিজুর রহমান স্বপন এবারও নির্বাচন করবেন। তিনি শহর আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি। তিনি পেশায় ব্যবসায়ী। প্রার্থী হাফিজুর রহমান স্বপন টিনিউজকে বলেন, বিগত সময়ে আমি এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করেছি। আমার আগে কোন কাউন্সিলর এতো উন্নয়ন করেনি। বিগত ৫ বছরে সাড়ে ২১ কোটি টাকার কাজ সম্পূন্ন হয়েছে। এছাড়া আরো ২ কোটি টাকার (নদী প্রজেক্ট) কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। কুয়েত ফান্ডের ৬০ লাখ, রাজস্ব ফান্ডে ৬০ এবং এডিপি ৩০ লাখ টাকার টেন্ডারের কাজ করা হবে। তিনি আরও বলেন, করোনার সময় আমি ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতা করেছি। এছাড়া নিজ অর্থায়নে ১৫শ’ পরিবারকে ১০ টাকা কেজি ধরে চাল বিতরণ করেছি। করোনা রোগীদের ঔধুষ ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি। বিভিন্ন ভাতা কার্ডের সুষম বন্টন করা হয়েছে। এলাকায় স্লাপাইয়ের পানির স্বল্পতা, মাদকসহ কিছু সমস্যা রয়েছে। আমি পুনরায় নির্বাচিত হয়ে সেগুলোর সমাধান করতে চাই। নির্বাচনে যেই অংশগ্রহণ করুক না কেন, আমি তাদের সাথে এক হয়ে দল মত নির্বিশেষে জনগণের কল্যাণের জন্য কাজ করবো। তিনি বলেন, আমি আশা করছি এবারও পুনরায় বিজয়ী হবো। বিজয়ী হলে অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করতে চাই। মাদক ও দুর্নীতি মুক্ত একটি ওয়ার্ড গড়ে তুলবো। এছাড়া আধুনিক এবং ডিজিটাল ওয়ার্ড গঠনের জন্য সকলকে এক সাথে নিয়ে কাজ করবো। আমার উন্নয়নের কাজগুলো আমি ধারাবাহিকতার সাথে শেষ করতে চাই। জনগণ আমাকে বারবার নির্বাচিত রয়েছে, তাই আমি জনগণের পাশে সব সময়ই থাকবো। এই এলাকার গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলো বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নামে নামকরণের প্রস্তাবনা রয়েছে। এই রাস্তাগুলোর নাম মুক্তিযোদ্ধাদের নামে করা হবে।
দৃষ্টি আকর্ষন- আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের সবচেয়ে জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল টিনিউজবিডি. কম এ ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশিত হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (১৯ নভেম্বর) টাঙ্গাইল পৌরসভার ১৮ নং ওয়ার্ডের নির্বাচর্নী হালচাল প্রকাশিত হবে।

 

 

ব্রেকিং নিউজঃ