টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র মুক্তির জামিন ১৪ বারের মতো নামঞ্জুর

349

আদালত সংবাদদাতা ॥
টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় আবারও জামিন আবেদন নামঞ্জুর হয়েছে টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র সহিদুর রহমান খান মুক্তির। এ নিয়ে ১৪ বারের মতো তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করলেন আদালত।
সহিদুর রহমান খান মুক্তি টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানার ভাই। তাঁদের বাবা আতাউর রহমান খান একই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য। ৯ মাস ধরে কারাগারে রয়েছেন সহিদুর রহমান খান মুক্তি।
আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) এস আকবর খান টিনিউজকে জানান, টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে জামিন আবেদন করেছিলেন সহিদুর রহমান খান মুক্তির আইনজীবীরা। তাঁরা যেকোনো শর্তে মুক্তির জামিন প্রার্থনা করেন। তবে শুনানি শেষে আদালতের বিচারক মাসুদ পারভেজ আবেদনটি নামঞ্জুর করেন।
গত (১৮ আগস্ট) সকালে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়েন সহিদুর রহমান খান মুক্তি। পরে তাঁকে কারাগার থেকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ভর্তি রেখে তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বুকের ব্যথা ছিল সহিদুর রহমান খান মুক্তির। পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সাত সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। তাঁর হৃদযন্ত্রে কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। তবে থাইরয়েড ও কিডনিতে কিছু সমস্যা আছে। হাসপাতালে থাকতেই তিনি করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হন। তিন দিন আগে তিনি করোনামুক্ত হয়েছেন। বর্তমানে কোমরের ব্যথার জন্য হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
জানা যায়, টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদের গুলিবিদ্ধ লাশ বিগত ২০১৩ সালের (১৮ জানুয়ারি) শহরের কলেজ পাড়া তাঁর বাসার কাছ থেকে উদ্ধার হয়। বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যা মামলায় অভিযুক্ত হওয়ার পর দীর্ঘ ৬ বছর পলাতক ছিলেন সহিদুর রহমান খান মুক্তি। গত বছরের (২ ডিসেম্বর) তিনি টাঙ্গাইলের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। আদালত তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। এরপর দফায় দফায় তাঁর পক্ষে ১৪ বার জামিনের আবেদন করেছেন। তবে প্রতিবারই ওই আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহমেদ হত্যাকান্ডে সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানা, তার ছোট ভাই সহিদুর রহমান খান মুক্তিসহ তাঁদের অপর দুই ভাই ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকন ও ছাত্রলীগের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পারও জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে আসে। এরপর তাঁরা সবাই আত্মগোপনে চলে যান। এর মধ্যে আমানুর রহমান খান রানা বিগত ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে আত্মসমর্পণ করেন। প্রায় তিন বছর হাজতবাসের পর তিনি জামিনে মুক্তি পান। অপর দুই ভাই কাকন ও বাপ্পা এখনো পলাতক রয়েছে।

 

ব্রেকিং নিউজঃ