টাঙ্গাইল জেলায় ২৮৫ ইটভাটার ১৫৮টিই অবৈধ!

174

স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলে দিন দিন বেড়েই চলেছে অবৈধ ইটভাটার সংখ্যা। বর্তমানে জেলার ২৮৫টি ইটভাটার ১৫৮টিই অবৈধ! এসব ইটভাটার বেশিরভাগ কৃষি জমিতে ও বসতবাড়ী এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে। এতে করে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে, ধ্বংস হচ্ছে জীববৈচিত্র, ফলছে না জমির ফসল। এতে অবৈধ ইটভাটাগুলো কিভাবে লাইসেন্স বা পরিবেশের ছাড়পত্র পেলো তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ মানুষ।
সিংগুরিয়া বাসস্ট্যান্ডের দক্ষিণে তালতলা কালিহাতীর মের্সাস একুশে ব্রিকস্ এর মালিক হাজী সবদের আলী পার্শ্ববর্তী গ্রামের জনৈক ভুট্টোর কৃষি জমিতে পুকুর কেটে অবৈধভাবে ভূমির শ্রেনি পরিবর্তন করে ওই জমির উর্বর মাটি তার একুশে ইট ভাটায় ব্যবহার করছেন।
তাছাড়াও সিংগুরিয়ার মের্সাস মিশাল ব্রিকস ও মের্সাস কবির ব্রিকস এর মালিক তারেক মাহমুদ কবিরও স্থানীয় কৃষি জমি হতে মাটি কেটে এনে তাদের ইটভাটায় ইট তৈরির কাজে ব্যবহার করছেন বলে জানা গেছে। একুশে ব্রিকস ও মিশাল ব্রিকস এর মালিক টিনিউজকে জানান, আমরা পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে ম্যানেজ করেই ইটভাটা পরিচালনা করে থাকি। তাই আমাদের বিরুদ্ধে পত্রিকায় লিখে কোন লাভ হবে না। আমরা ডিসির এল.আর ফান্ডে টাকা দেই। উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে টাকা দেই। কিছু সংখ্যক সাংবাদিকদের সাথেও আমাদের সম্পর্ক আছে।
‘ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন’ এ লাইসেন্স ছাড়া কেউ ইটভাটা চালু করলে শাস্তির ব্যবস্থা থাকলেও জেলার বৈধ এর চেয়ে অবৈধ ইটভাটার সংখ্যা বেশি। এজন্য অনধিক এক বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা অথবা দুই উভয় দন্ডই হতে পারে। ওই সব ইটভাটার কর্মকান্ডে জড়িতরা বেশির ভাগই প্রভাবশালী হওয়ায় অনেকটা দেখেও না দেখার ভান করে থাকেন স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কয়েক গজের মধ্যে ইটভাটা। এগুলোতে প্রকাশ্যে কাঠ পোড়ানো হয়। তাছাড়া বেশির ভাগ ইটের ভাটায় ব্যবহার করা হচ্ছে কম উচ্চতার টিনের চিমনি। ইট ভাটার ধোঁয়ায় আশপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, বসতবাড়ী, কৃষি জমি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশেই বেশিরভাগ ইটভাটা। কয়লা দিয়ে এসব ইটভাটায় ইট পোড়ানোর কথা থাকলেও খরচ সাশ্রয়ের জন্য সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে অনেকেই নির্ভয়ে প্রকাশ্যেই পোড়াচ্ছে কাঠ। এতে বনজ সম্পদ ধ্বংস হয়ে পরিবেশের বিপর্যয় ডেকে আনছে। অনেক ইটভাটা পড়েছে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় যার ফলে ভাটার ধোঁয়ায় আশপাশের পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে ফসলি জমির ফসল বিষাক্ত ধোঁয়ায় পুড়ে যাচ্ছে। মানুষ, জীবযন্তু ও পশু-পাখিও বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
টাঙ্গাইল পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ মুজাহিদুল ইসলাম টিনিউজকে বলেন, আমরা ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা করে বেশকয়েকটি ইটভাটা গুঁড়িয়ে দিয়েছি ও জরিমানা করেছি। আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশেপাশের এক কিলোমিটারের মধ্যে ইটভাটা করা যাবে না। যে সকল ইটভাটা বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে আছে সেগুলোর ছাড়পত্রও বাতিল করা হবে।

 

 

 

 

 

ব্রেকিং নিউজঃ