টাঙ্গাইলে ১১৩ দিনে ১০৩০ জন করোনায় আক্রান্ত

131

এম কবির ॥
টাঙ্গাইলে গত ২৪ ঘন্টায় বুধবার (১৫ জুলাই) নতুন করে ৩১ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত জেলায় মোট ১০৩০ জনের দেহে করোনার ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৫৫৫ জন। আর মির্জাপুরে ৬, টাঙ্গাইল সদরে ৫, ঘাটাইলে ২, ধনবাড়ীতে ২, দেলদুয়ার ১, সখীপুরে ১, মধুপুরে ১, ভুঞাপুরে ১, বাসাইলে ১ ও নাগরপুরে ১ জনসহ মোট ২১ জন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে। জেলায় প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় মির্জাপুরে গত (৮ এপ্রিল)। প্রথম আক্রান্ত হওয়ার পর ১১৩তম দিনে করোনায় শনাক্তের সংখ্যা ১ হাজার ছাড়ালো।
টাঙ্গাইল সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, নতুন করে ৩১ জনের করোনা পজেটিভ আসে। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে টাঙ্গাইল সদরে ৮, সখীপুরে ৬, ভূঞাপুরে ৫, গোপালপুরে ৪, ঘাটাইলে ৪, মধুপুুুরে ৩ ও ধনবাড়িতে ১ জন রয়েছে। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ঘাটাইল উপজেলার রূপালী ব্যাংক শাখার একজন কর্মকর্তা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া সখীপুর উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সর সিনিয়র স্টাফ নার্স এবং একই উপজেলার বনিক সমিতির সাবেক সভাপতি এবং তার স্ত্রী আক্রান্ত হন। এছাড়া সখীপুরের নলুয়া পাহাড়কাঞ্চনপুর বিমান বাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।
এদিকে করোনা ভাইরাসের পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইলের বিভিন্ন উপজেলা থেকে ৯৭০৯ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে ১৬৫ জনের নমুনা পাঠানো হয়েছে। হোম কোয়ারেন্টাইনের আওতায় আনা হয়েছে ১৩৩ জনকে। ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে ৭২ জনকে। ১৮৪টি নমুনার রেজাল্ট এখনো পাওয়া যায়নি। বর্তমানে জেলায় মোট ১০৩০ জন ব্যক্তি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।
এখন পর্যন্ত আক্রান্তদের মধ্যে ৪ জন রোগী টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের ৫০ বেডের করোনা ডেডিকেডেট ইউনিটে ভর্তি রয়েছে। টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন উপজেলার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১ জন, টাঙ্গাইলের বাইরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১১ জন, বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছে ৪৩৮ জন।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান টিনিউজকে বলেন, টাঙ্গাইল জেলায় এ পর্যন্ত ১০৩০ জন করোনা ভাইরাস রোগী সনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে মির্জাপুরে ৩৩৩, টাঙ্গাইল সদরে ২৫৭, মধুপুরে ৬৮, দেলদুয়ারে ৫২, কালিহাতীতে ৪৯, গোপালপুরে ৪৫, সখীপুরে ৪৫, নাগরপুরে ৪৩, ভূঞাপুরে ৪৩, ঘাটাইলে ৪১, ধনবাড়ীতে ৩৪ ও বাসাইলে ২০ জন রয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৪ জন রোগী টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের ৫০ বেডের করোনা ডেডিকেডেট ইউনিটে ভর্তি রয়েছে। মোট চিকিৎসাধীন রয়েছে ৪৫৪ জন। এদের মধ্যে ৫৫৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। এরা হলেন- মির্জাপুরে ১৭৫, টাঙ্গাইল সদরে ১২৮, নাগরপুরে ৩৭, কালিহাতীতে ৩২, গোপালপুরে ৩২, মধুপুরে ৩১, ভূঞাপুরে ২৫, দেলদুয়ারে ২২, ধনবাড়ীতে ২২, সখীপুরে ২০, ঘাটাইলে ১৯ ও বাসাইলে ১২ জন।
এছাড়া জেলায় করোনা ভাইরাসে এ পর্যন্ত ২১ জন মারা গিয়েছে। নিহতরা হলো- মির্জাপুরে রেনু বেগম, শামসুল আলম, সমসের আলী, আবু মোতালেব, বিশা মিয়া, প্রকাশ কর্মকার দুলু, টাঙ্গাইল সদরের পৌর শহরের আদালত পাড়ার আলী কমপ্লেক্সের মালিক আব্দুর রাজ্জাক, রুহুল আমিন চৌধুরী, আবু তালেব, পৌর এলাকার এক জন, পৌর এলাকার কালিপুরে এক জন, ঘাটাইলে মহিউদ্দিন, আব্দুল মান্নান খান, ধনবাড়ীতে আব্দুল করিম ভুইয়া, ধনবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ বকল (৬৮), দেলদুয়ার উপজেলার এলাসিন ইউনিয়নের সানবাড়ীতে একজন, সখীপুরে পোশাককর্মী আব্দুল হালিম ও মধুপুরে একজন, ভুঞাপুরে তোফায়েল হোসেন সুশান মিয়া ও বাসাইলের আবু সরকার, নাগরপুরের এক জন।
এখন পর্যন্ত পর্যন্ত ১৫৯৬০ জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনের ও হাসপাতালে কোয়ারেন্টাইনের আওতায় আনা হয়েছিল। এদের মধ্যে ১৪ হাজার ৪৬৬ জনকে কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড়পত্র নিয়েছে। বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে রয়েছে ১ হাজার ৪৯৪ জন।
উল্লেখ্য, গত (১ মার্চ) থেকে রবিবার (১৭ মে) পর্যন্ত বিদেশে থেকে জেলায় এসেছে ৫ হাজার ৭০৫ জন। কোভিড-১৯ চিকিৎসায় প্রস্তুত রয়েছে জেলার সরকারী হাসপাতালের ৫০টি বেড, উপজেলা পর্যায়ে আইসোলেশন বেড রয়েছে ৫৮টি। ডাক্তার রয়েছে ২৪২ জন, নার্স রয়েছে ৪১৯ জন। করোনা আক্রান্ত রোগী আনা নেয়া করার জন্য এ্যাম্বুুলেন্স রয়েছে ২টি। এখন পর্যন্ত ব্যক্তিগত সুরক্ষা সমগ্রী পিপিই মজুদ রয়েছে ৬ হাজার ৪৯১টি এবং মাস্ক ৩ হাজার ৯৯৫টি। এখন পর্যন্ত জেলায় ২ লাখ ২২ হাজার ৫০০ পরিবারের মধ্যে ৩০৫০ মে.টন চাল ও ৮০ হাজার টি পরিবারের মধ্যে নগদ ১ কোটি ৬০ লাখ টাকা ও শিশু খাদ্য বাবদ ২৭ হাজার ৬৬৬ পরিবারকে ৫১ লাখ টাকা প্রদান করেছে জেলা প্রশাসন।

ব্রেকিং নিউজঃ