টাঙ্গাইলে হেলিকপ্টারে বউ আনলেন কৃষক পুত্র রাসেল

156

স্টাফ রিপোর্টার: কৃষক বাবার ইচ্ছে পূরণে হেলিকপ্টারে বউ আনলেন ছেলে। রোববার (৫ ডিসেম্বর) বিকেলে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার পোড়াবাড়ী ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চল বাউসাইদ গ্রামে নববধু নিয়ে আসেন রাসেল। বিয়েকে কেন্দ্র করে বিয়ে বাড়িসহ আশপাশের গ্রাম জুড়ে ছিল উৎসব মুখর পরিবেশ। ছিল বাদ্যের ঝংকার, হরেক রকম খাবারের আয়োজন।
জানা যায়, বাউসাইদ গ্রামের কৃষক মহির উদ্দিনের একমাত্র ছেলে রাসেল মিয়ার সাথে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বাটাজোর গ্রামের মুন্নু খার মেয়ে মিতু আক্তারের আড়াই মাস আগে কাবিন হয়। দুপুরে ছেলের বাড়ির পাশে কৃষি জমিতে হেলিকপ্টার আসে। ওই হেলিকপ্টারে বর রাসেল যায় বাটাজোর। বিকেলে সেখান থেকে কনেকে নিয়ে ফিরে আসে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বরযাত্রীরা দুটি প্রাইভেটকার ও একটি বাসে চড়ে কনে বাড়ি গেলেও বর যায় হেলিকপ্টারে। প্রত্যন্ত গ্রামে হেলিকপ্টারে বর আসাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই ছিল উৎসব মুখর পরিবেশ। এই আয়োজনে কোনো কমতি রাখেনি বাবা। যা প্রশংসা কুড়িয়েছে আগত সকলের। ব্যতিক্রমধর্মী এই আয়োজন সামাল দিতে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় পুলিশের টিম।
বৃদ্ধ জিন্নত আলী (৮০)বলেন, আমার বয়সেও এমন বিয়ে দেখিনি। হেলিকপ্টারে করে বউ আনে এটা প্রথম দেখলাম। রাসেল এলাকায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
কনে মিতু আক্তার বলেন, আমি কখনও কল্পনাও করিনি আমার বর আমাকে হেলিকপ্টারে করে তার বাড়ি নিয়ে যাবে। এতে আমি খুবই খুশি।
বর রাসেল মিয়া বলেন, বাবার ইচ্ছা পূরণ করতেই হেলিকপ্টারটি ভাড়া আনা হয়। টাঙ্গাইল থেকে রওনা দিয়ে ময়মনসিংহের বাটাজোর থেকে নববধূকে নিয়ে ফিরে এসেছি।
রাসেলের বাবা মহিউদ্দিন বলেন, আমার ইচ্ছে পূরণে ছেলে এমন আয়োজন করেছে। এতে আমি বেজাই খুশি।
পোড়াবাড়ী ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চল বাউসাইদ গ্রামের ইউপি সদস্য মো. মুসা দেওয়ান বলেন, হেলিকপ্টারে চড়ে এই বিয়েকে কেন্দ্র করে আমাদের গ্রামে সকাল থেকেই উৎসব মুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। বড় বড় অনুষ্ঠানেও এত লোক আসেনা।
এ বিষয়ে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা টাঙ্গাইল সদর থানার উপ পুলিশ পরিদর্শক মো. মনিরুজ্জামান মুন্সি বলেন, বর পক্ষ নিরাপত্তার জন্য এক সপ্তাহ আগে থানায় আবেদন করেন। সেই প্রেক্ষিতে নিরাপত্তা দেয়া হয়েছে।

ব্রেকিং নিউজঃ