টাঙ্গাইলে হেমন্তের অপরূপ প্রকৃতিতে শিশির পড়ছে ধীরে ধীরে

78

এম কবির ॥
ষড়ঋতুর বাংলাদেশে দুই মাস পর পর রূপ বদলায় প্রকৃতি। সে ধারাবাহিকতায় এখন চলছে হেমন্ত। ফলে প্রকৃতিও হেমন্তের চাওয়া অনুযায়ী বদলে নিচ্ছে নিজেকে। এই ক’দিন আগেও ছিল ভ্যাপসা গরম। বাইরে বের হতে না হতেই গা ঘামে ভিজে যেত। ঘরেও স্বস্তি ছিল না। শরতের অস্বস্তি দূর করতেই যেন এসেছে হেমন্ত।
হেমন্তকে বলা হয় শীতের বাহন। এ সময় গরম কমতে থাকে। কমতে কমতেই শীত। শীতকে হেমন্ত অনেকটা হাত ধরেই নিয়ে আসে। নিয়ম মেনে এখন ক্রমেই নিচে নামতে শুরু করেছে পারদ। শীতের আগেই শীত শীত অনুভূতিটা শুরু হয়ে গেছে। দিনের বেলায় এতো টের পাওয়া যায় না। বিকেল বা সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়ে রাত, বিশেষ করে ভোরে ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে।
হেমন্তের প্রকৃতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য শিশির। এখন প্রায় প্রতিরাতেই শিশির ঝরছে। সবুজ ঘাসের ডগায় বিন্দু বিন্দু জল। সেখানে সকালের সূর্যরশ্মি এসে পড়তেই মুক্তোদানার মতো চিকচিক করে উঠছে। গাছের পাতা, ফুলের পাপড়ি চুঁইয়ে পড়ছে শিশির। হেমন্তকে বলা হয় ফসলের ঋতু। দিগন্তবিস্তৃত মাঠে এখন সোনার ধান। ধানের শীষেও বিন্দু বিন্দু শিশির জমে আছে। কবিগুরু লিখেছিলেন: ‘দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া/ ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া/ একটি ধানের শীষের উপরে/ একটি শিশিরবিন্দু।’ সত্যি সত্যি যে দেখেনি বা দেখছেন না সত্যি তিনি দুর্ভাগা।
হেমন্তের আরেকটি লক্ষ্যণীয় বৈশিষ্ট্য কুয়াশা। এ কুয়াশার কথাও কবিতায় উল্লেখ করেছেন কবিগুরু। লিখেছেন, ‘হায় হেমন্তলক্ষ্মী, তোমার নয়ন কেন ঢাকা/ হিমের ঘন ঘোমটাখানি ধুমল রঙে আঁকা।/ সন্ধ্যা প্রদীপ তোমার হাতে মলিন হেরি কুয়াশাতে,/ কণ্ঠে তোমার বাণী যেন করুণ বাষ্পে মাখা…। একই অনুভূতি থেকে জীবনানন্দ দাশ লিখেছেন, ‘পান্ডুলিপি কাছে রেখে ধূসর দ্বীপের কাছে আমি/ নিস্তব্ধ ছিলাম বসে;/ শিশির পড়িতেছিল ধীরে-ধীরে খসে;/ নিমের শাখার থেকে একাকীতম কে পাখি নামি/ উড়ে গেলো কুয়াশায়,-কুয়াশার থেকে দূর-কুয়াশায় আরো…।
এইসব শিশিরসিক্ত ভোর বা কুয়াশাচ্ছন্ন রাত শীতের আগমনী বার্তা দিচ্ছে। এখন থেকে যতদিন যাবে ততই সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার পার্থক্য কমতে থাকবে। পার্থক্য যত কমবে ততই বাড়বে শীত। বরাবরের মতো এবারও শীত জেঁকে বসেছে টাঙ্গাইলে। গত (২৭ অক্টোবর) থেকে টানা ৯ দিন ধরে টাঙ্গাইলের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হচ্ছে সেখানে। শুক্রবার (৪ নভেম্বর) সকাল ৭টায় টাঙ্গাইলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৮ দশমিক ৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস।
টাঙ্গাইল শহরে শীত শীত ব্যাপার চলছে। অনেকেই অপেক্ষাকৃত মোটা কাপড় গায়ে জড়িয়ে ঘর থেকে বের হচ্ছেন। গায়ের ত্বকও শুকোতে শুরু করেছে। ঠোঁট টানছে। সকালের রোদও শীতের সকালের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। মিষ্টি রোদে উষ্ণতা খুঁজছে শহরবাসী। অবশ্য প্রকৃত শীতের এখনও অনেক বাকি। আবহাওয়া অফিস বলছে, টাঙ্গাইলে শীত শুরু হবে (২০ নভেম্বরের) পর। আর শীত জেঁকে বসবে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে। তার আগ পর্যন্ত শুধু শীত শীত। এই শীত শীত অনুভূতিটাই হেমন্তের দান।

 

 

ব্রেকিং নিউজঃ