টাঙ্গাইলে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কেজি দরে তরমুজ বিক্রি চলছে

126

স্টাফ রিপোর্টার ॥
রমজানে রসালো ফল তরমুজ নিয়ে টাঙ্গাইলে সৃষ্টি হয়েছে নৈরাজ্য। ক্রেতাদের জিম্মি করে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কেজি দরে তরমুজ বিক্রি চলছে।
নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র বলছে, এই সিন্ডিকেট কৃষক থেকে পিস হিসাবে তরমুজ ক্রয় করছে। কিন্তু পাইকারী ও খুচরা বিক্রয় করছে কেজি দরে। ব্যবসায়ীদের বাড়তি মুনাফা লাভের আশায় কেজি হিসাবে বিক্রির কারনে তরমুজ সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। প্রতি পিস তরমুজ ক্রয় মূল্যের দ্বিগুনের বেশী লাভ করছেন তরমুজ ব্যবসায়ীরা। প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে এমন কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। পবিত্র মাহে রমজানে সাধারণ মানুষ এই সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মুক্তি চায়। টাঙ্গাইলের বাজারগুলোতে ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে তরমুজ।
জানা গেছে, বরিশালের প্রধান তরমুজ মোকাম হাট থেকে খুচরা ব্যবসায়ীরা একশ’ পিস হিসাব করে তরমুজ কিনে থাকেন। তবে তারা খুচরা বাজারে বিক্রি করেন কেজি দরে। কেউ কেউ বলছেন- ব্যবসায়ীরা বেশি মুনাফার জন্য একজোট হয়ে কেজিতে তরমুজ বিক্রির এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ব্যবসায়ী সুত্রে জানা যায়, একটি তরমুজ মোটামুটি ৫ কেজি থেকে ১২ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। ৫০ টাকা কেজি ধরলেও সবচেয়ে ছোট সাইজের একটি তরমুজের দাম হয় ২’শ থেকে আড়াইশ টাকা আর ১২ কেজি ওজনের তরমুজের দাম হয় ৬০০ থেকে ৭’শ টাকা। টাঙ্গাইল পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে তরমুজ ব্যবসায়ী কামাল হোসেন টিনিউজকে জানান, আমরা পার্কের বাজার থেকে কেজি হিসাবে কিনে কেজি দরে তরমুজ বিক্রি করছি। সকালে মাল কিনি বিকেলে বা রাতে টাকা দেই। যেভাবে কেজি দরে কিনছি সেভাবেই বিক্রি করছি। তরমুজ ক্রেতা আব্দুর রহমান টিনিউজকে বলেন, আমি ফলপট্টি থেকে চার কেজি একটি তরমুজ কিনি ৫০ টাকা কেজি ধরে ২০০ টাকা দিয়ে। বাড়িতে নিয়ে ইফতার সময় তরমুজ কাটা পর দেখি সাদা, কোন স্বাদ নেই, সেটা খাওয়ার মতো না। তরমুজ বিক্রেতারা বেশি লাভের আশায় তরমুজ ফলন হওয়ার আগেই তারা বাজারে বিক্রি করছে। তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর টাঙ্গাইল জেলার সহকারী পরিচালক সৈয়দা তামান্না তাসনীম টিনিউজকে বলেন, তরমুজ কেজি দরে বা পিস হিসেবে বিক্রি করতে হবে- এ বিষয়ে কোন নির্দেশনা নাই। তবে ব্যবসায়ী যদি কৃষক থেকে কেজি দরে ক্রয় করে থাকেন সেক্ষেত্রে কেজি দরে বিক্রি করা যাবে। আর যদি পিস হিসেবে কৃষক থেকে ক্রয় করে থাকেন তবে তাকে পিস হিসেবে বিক্রি করতে হবে। তবে তারা যেভাবেই ক্রয় করে থাকুক এক্ষেত্রে পাইকারি ব্যবসায়ী শতকরা ২৫ শতাংশ ও খুচরা ব্যবসায়ী শতকরা ৩০ শতাংশ লাভে বিক্রির বিধান রয়েছে। এর বেশি মূল্যে বিক্রি দন্ডনীয়।

 

 

ব্রেকিং নিউজঃ