টাঙ্গাইলে সাড়ে তিন বছরেও শেষ হয়নি ১৩টি মডেল মসজিদের নির্মাণ কাজ

72

হাসান সিকদার ॥
প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের একটিও নির্মাণ কাজ সাড়ে তিন বছরেও শেষ হয়নি। টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলায় বরাদ্দ ১৩টি মডেল মসজিদ ও ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কাজ চলমান সাতটির। নানা জটিলতায় কাজ শুরু হয়নি ছয়টির। আদৌও বাকি মসজিদগুলোর কাজ শুরু হবে কি-না প্রশ্ন জনগণের। চলমান নির্মাণ কাজের ধীরগতির ব্যাখ্যা নেই ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও গণপূর্ত বিভাগের কাছে।




ইসলামিক ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায়, মসজিদ নির্মাণের উদ্দেশ্য হচ্ছে, ইসলামি ভ্রাতৃত্ব এবং প্রকৃত মূল্যবোধের প্রচার ও দীক্ষাদান। সন্ত্রাস ও নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ এবং সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম ও এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা। নারী-পুরুষ মুসল্লি¬দের জন্য নামাজ, ধর্মীয় শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও দীনি দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ভৌত সুবিধাদি সৃষ্টি করা। ইসলামিক জ্ঞান, সংস্কৃতি সম্প্রসারণের মাধ্যমে ইসলামি মূল্যবোধের পরিচর্যা, প্রসার করা এবং সততা ও ন্যায়বিচারের প্রতি মানুষের আনুগত্য সমর্থন সৃষ্টি করা।




প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও প্রকল্প তদারককারী সংস্থা গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ১৪ কোটি ৮৫ লাখ ৬৭ হাজার টাকা চুক্তি মূল্যে নুরানি ও বিথী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে টাঙ্গাইল জেলা সদর মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের বাস্তবায়ন করছে। ২০১৯ সালের ১৫ মে থেকে কাজ শুরু হয়ে বর্তমানে মসজিদটির ৪র্থ তলার বীম ও ছাদের সাটারিং কাজ চলছে। ১৩ কোটি ২১ লাখ টাকা চূক্তি মুল্যে দেশ ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি বাসাইলে বাস্তবায়ন করছে। ২০১৯ সালের ৩ এপ্রিল থেকে কাজ শুরু হয়ে বর্তমানে মসজিদটির ৩য় তলার বীম ও ছাদ ঢালাই করা হয়েছে। ১৩ কোটি ৮ লাখ ৫২ হাজার টাকা চুক্তি মূল্যে জুয়েল সিকদার এন্টার প্রাইজ সদর উপজেলায় বাস্তবায়ন করছে। ২০১৯ সালের ১০ জুন থেকে কাজ শুরু হয়ে বর্তমানে মসজিদটির ছাদ ঢালাইয়ের কাজ চলছে। ১২ কোটি ৫৪ লাখ ৫ হাজার টাকা চুক্তি মূল্যে কেএসবিএল ও আরএসএল যৌথভাবে সখীপুরে বাস্তবায়ন করছে। ২০১৯ সালের ১৫ মে থেকে কাজ শুরু হয়ে বর্তমানে মসজিদটির ছাদ ঢালাইয়ের কাজ চলছে।




দেলদুয়ার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান মারুফ বলেন, ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে কাজ বন্ধ রয়েছে। দেলদুয়ার মসজিদের ঠিকাদার সরোয়ার হোসেন খান বলেন, করোনা ও বর্ষার কারণে কাজ বন্ধ ছিলো। বর্তমানে কাজ চলমান রয়েছে। কত দিনে শেষ হবে তা বলা যাচ্ছে না। দেলদুয়ার, নাগরপুুর উপজেলায় মসজিদ নির্মাণ সম্পর্কে জানেন না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আহসানুল ইসলাম টিটু। ১২ কোটি ৯০ লাখ ৬ হাজার টাকা চুক্তি মূল্যে মাহফুজ খান লিমিটেড ও মেসার্স দাস ট্রেডার্স যৌথভাবে কালিহাতীতে বাস্তবায়ন করছে। ২০১৯ সালের ৬ জুন থেকে কাজ শুরু হয়ে বর্তমানে মসজিদটির কাজ চলছে। ১২ কোটি ৫৯ লাখ ৬৮ হাজার টাকা চুক্তি মূল্যে নুরানী কনট্রাকশন ধনবাড়ীতে বাস্তবায়ন করছে। ২০১৯ সালের ১০ জুন থেকে কাজ শুরু হয়ে বর্তমানে মসজিদটির ছাদ ঢালাই সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি ইটের গাথুনী, সীমানা দেয়াল ও অন্যান্য কাজ চলমান রয়েছে। ১১ কোটি ৩৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা চুক্তি মূল্যে কেএসবিএল ও আরএসএল যৌথভাবে দেলদুয়ারে বাস্তবায়ন করছে। ২০১৯ সালের ৩০ জুন থেকে কাজ শুরু হয়ে বর্তমানে মসজিদটির ঢালাইয়ের কাজ চলছে।
নাগরপুর উপজেলা অফিস সূত্র জানায়, স্থান নির্বাচন নিয়ে জটিলতা আছে। একেক জন একেক জায়গায় মসজিদটি দাবি করছে। তবে দ্রুতই কাজ চলছে।




এছাড়াও মালিকানা নিয়ে আদালতে রিট পিটিশন দাখিল করায় ভূঞাপুরে নির্মাণ কাজে জটিলতা হচ্ছে। ঘাটাইল ও গোপালপুর উপজেলায় স্থান নির্ধারণ জটিলতা রয়েছে। অপরদিকে স্থান নির্বাচন করা হলেও ২৩ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করার জন্য প্রকল্প পরিচালকের দপ্তর থেকে দরপত্র আহ্বানের কোন নির্দেশনা পাওয়া না যাওয়ায় মধুপুরে কাজ ধীর গতিতে চলছে। মির্জাপুর উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের ভূমি অধিগ্রহণে জটিলতা রয়েছে। এছাড়াও শুরু হওয়া কাজ কতবার সময় বর্ধিত করা হয়েছে তার তথ্য নেই গণপূর্ত বিভাগে।
গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পারভেজ মল্লি¬ক বলেন, আমার যোগদানের আগে দুটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিলো। একটি মসজিদের অধিগ্রহণ, অপরটি কলেজের জমি। কলেজের জমিটি আন্তঃমন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে হন্তান্তর হয়। সেটি আর হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প হওয়ায় অধিগ্রহণটির ৮ ধারায় নোটিশ করা হয়েছে। কোন কারণে কার্যক্রমটি বন্ধ রয়েছে। কেন বন্ধ তা আমি জানি না।
ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিস সূত্র জানায়, স্থান নির্বাচনের জন্য কয়েক প্রস্তাব পাঠানো হলেও এখনও চুড়ান্ত হয়নি। জেলা সদর মসজিদের ঠিকাদার রফিক মিয়া বলেন, এ কাজে আমাদের অনেক ক্ষতি হবে। নির্মাণ সামগ্রীর দাম বাড়ায় ঠিকাদারদের পথে বসতে হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে মসজিদটির কাজ শেষ করা কঠিণ হবে বলে তিনি জানান।




ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক মোহাম্মদ আলী জানান, বিভিন্ন জটিলতার কারণে এখন কোন মসজিদ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। নির্মাণের জন্য যে মেয়াদ ছিলো পরবর্তীতে আবারও মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। গোপালপুরে স্থান চুড়ান্ত করা হলেও স্থানীয় সংসদ সদস্য অন্য একটি জায়গা নির্ধারণ করেন। সে জায়গা এখনও অনুমোদন না হওয়ায় কাজ শুরু করা যায়নি। মির্জাপুরে দ্রুত সময়ের মধ্যে জমি অধিগ্রহণের ব্যবস্থা নেয়া হবে।




গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শহীদুল ইসলাম বলেন, যে কয়টার মসজিদের কাজ শুরু হয়েছে সেগুলোর ফান্ডিং এর সমস্যা ছিলো। ঠিকাদাররা নিজেদের টাকায় কাজ করেছে। বর্তমানে কাজ চলমান রয়েছে। আশা করি আগামী জুনের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হবে। স্থান নির্বাচন ও জমি অধিগ্রহণসহ বিভিন্ন কারণে যে ছয়টি মসজিদের কাজ শুরু হয়নি সেগুলো তারাতারি কাজ শেষ হবে।

ব্রেকিং নিউজঃ