টাঙ্গাইলে সরিষার আবাদ বেড়েছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬ হাজার ১২০ হেক্টর

36

এম কবির ॥
চলতি মৌসুমে টাঙ্গাইলে দেশি ও উচ্চফলনশীল বিভিন্ন জাতের সরিষার আবাদ করা হয়েছে। কৃষি বিভাগের পর্যাপ্ত সহায়তা ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে সরিষার বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষক ও কৃষি বিভাগ। সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ব বাজারে ভোজ্য তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে সরিষার আবাদ কৃষকদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলার ১২টি উপজেলায় চলতি মৌসুমে ৫২ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। চলতি মৌসুমে জেলায় ৫৮ হাজার ১২০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের সরিষার আবাদ করা হয়েছে। এবার ৭০ হাজার মে. টন সরিষার উৎপাদন পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন কৃষি বিভাগ।




জানা যায়, গতবছর কৃষকরা সরিষার ভালো দাম পেয়েছিলেন। এতে লাভবান হয়েছিলেন তারা। এবছরও অধিক লাভবানের আশায় সরকারি প্রনোদনার পাশাপাশি নিজস্ব উদ্যোগেও অনেক কৃষক সরিষার আবাদ করেছেন। ইতিমধ্যে সরিষার গাছে ফুল ফুটেছে। দিগন্ত জুড়ে সরিষার হলুদ ফুলের সমারোহ। কৃষকরা জমি পরিচর্চায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। এখন পর্যন্ত আবহাওয়া সরিষা চাষের অনুকুলে আছে। পরিস্থিতি এমন থাকলে কৃষকরা এবারও সরিষার বাম্পার ফলনের আশা করছেন। সরিষা উত্তোলনের পর একই জমিতে কৃষকরা বোরো ধানের আবাদ করবেন। এতে করে কৃষকরা এক মৌসুমে একই জমিতে দুইটি ফসল পাচ্ছেন।
কৃষি বিভাগ সূত্রে আরও জানা যায়, সরকারি নির্দেশনায় জেলায় সরিষার আবাদ বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে কাজ করছে কৃষি বিভাগ। সরকারের প্রনোদনা কর্মসূচির আওয়তায় তালিকাভুক্ত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের বিনামূল্যে দেয়া হয়েছে সরিষার বীজ ও সার। সরিষার ফলন যাতে ভালো হয়, সে লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তরা কৃষকদের পাশে সার্বক্ষনিক পাশে রয়েছেন। ফসলের মাঠে সরেজমিনে গিয়ে তারা ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধিতে করনীয় বিষয়ে হাতকলমে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন।




জেলার দেলদুয়ার উপজেলার দেউলী ইউনিয়নের আগ দেউলী গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক টিনিউজকে বলেন, আমি ৫০ শতাংশ জমিতে সরিষা আবাদ করেছি। সরিষা ক্ষেতে অনেক ফুল এসেছে। যদি আবহাওয়া ভালো থাকে তাহলে ফলন ভালো হবে। গত বছরের মতো দাম থাকলে লাভবানও অনেক হবো। জেলার বাসাইল উপজলার বালিয়া গ্রামের কৃষক হাফেজ আলী টিনিউজকে বলেন, আগে একটি জমিতে শুধু ধান আবাদ করতাম। ধান আবাদ শেষে জমি পতিত থাকতো। ভোজ্য তেলের দাম বাড়ায় ধান আবাদের পাশাপাশি মাঝখানের সময়টা সরিষা চাষ হচ্ছে। সাড়ে চার বিঘা জমিতে বারি-১৪ জাতের সরিষা আবাদ করেছি। জেলার ধনবাড়ী উপজেলার দরিচন্দ্রবাড়ীর কৃষক আরিফুর রহমান টিনিউজকে বলেন, সরিষায় ভালো ফলন আশা করছি। এখন পর্যন্ত আবহাওয়া ভালো রয়েছে, পোকা-মাকড় ও রোগবালাই আক্রমণ হয় নাই। কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে ১১ বিঘা জমিতে উচ্চফলনশীল জাতের সরিষা আবাদ করেছি। কোনো ধরণের ক্ষতি না হলে লাভবান হতে পারবো।




টাঙ্গাইলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আহসানুল বাশার টিনিউজকে বলেন, টাঙ্গাইল দেশের দ্বিতীয় বৃহতম সরিষা উৎপাদনকারী জেলা। এ বছর আমরা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬ হাজার ১২০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ বেশি করেছি। এবার আমরা জেলা থেকে ৭০ হাজার মে. টন সরিষা উৎপাদনের আশা করছি। দেশের তেলের যে ঘাটতি তার বড় অংশ টাঙ্গাইল থেকে কিছুটা পূরণ করা সম্ভব হবে। আমরা যে সরিষা আবাদ বৃদ্ধি করছি এজন্য আমাদের দুটি প্রযুক্তি অবলম্বন করতে হয়েছে। একটি হলো সরিষার আবাদের এরিয়া বৃদ্ধি এবং অন্যটি হলো স্থানীয় জাতকে সরিয়ে নতুন উচ্চফলনশীল জাতের আবাদ বৃদ্ধি করা। কৃষি বিভাগ থেকে সরিষা চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়াতে বিনামূল্যে সার, বীজ বিতরণসহ নানা পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। টাঙ্গাইলকে সরিষা উৎপাদনে দ্বিতীয় অবস্থান থেকে কিভাবে প্রথম অবস্থানে নেওয়া যায় সেলক্ষ্যে কৃষি বিভাগ নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

 

 

 

 

ব্রেকিং নিউজঃ