টাঙ্গাইলে সরকার নির্ধারিত মুল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগ

66

হাসান সিকদার ॥
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাতুলী ইউনিয়নের আলোকদিয়া মোল্লা পাড়া গ্রামের কৃষক খোকন মিয়া। আড়াই বিঘা জমিতে সরিষা আবাদ করেছেন। ওই গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম। তিনিও চার বিঘা জমিতে আবাদ করেছেন সরিষার। এক সপ্তাহ আগে জমিতে ইউরিয়া সারের প্রয়োজন হয়। পাশেই চিনাখালী ভাসানীগঞ্জ বাজারে সারের সাব ডিলারের দোকান থেকে দুই বস্তা ইউরিয়া সার কিনেছেন। ৯৫০ টাকা করে দুই বস্তা সারের দাম নিয়েছে এক হাজার ৯শ’ টাকা। অথচ সরকারি নির্ধারত মুল্য রয়েছে ৮শ’ টাকা। এভাবে অনেক ডিলারদের বিরুদ্ধে সার বেশি দামে বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের তদারকির অভাবে সার কিনতে কৃষকদের বেশি টাকা গুনতে হচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অফিস সুত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে জেলায় ইউরিয়া সারের চাহিদা এক লাখ ৩৩ হাজার ৮০ মেঃ টন, বরাদ্দ রয়েছে ৭৮ হাজার ১০৫ মেঃ টন। টিএসপি সারের চাহিদা রয়েছে ১৭ হাজার ৩২৬ মেঃ টন, বরাদ্দ রয়েছে ৯ হাজার ৫৭৪ মেঃ টন। ডিএপি সারের চাহিদা রয়েছে ৫৮ হাজার ১৩১ মেঃ টন, বরাদ্দ রয়েছে ৪২ হাজার ২২৬ মেঃ টন। এমওপি সারের চাহিদা রয়েছে ৫৯ হাজার ৭২৯ মেঃ টন, বরাদ্দ রয়েছে ২০ হাজার ২৭৮ মেঃ টন। চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ না পাওয়ায় মাঝে মধ্যেই সংকটের অজুহাত দেখিয়ে বিসিআইসি ও বিএডিসি ডিলাররা কৃষকের পকেট কাটছেন। ইউরিয়া সার ৮৫০ টাকা, ডিএপি ৮০০ টাকা, টিএসপি ১১শ’ টাকা, এমওপি ৭৫০ টাকা মুল্যে বিক্রয় করার কথা থাকলেও সাব ডিলাররা কৃষকদের কাছে বেশি দামে বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও পর্যাপ্ত চাহিদা অনুযায়ী সার থাকলেও অনেক ডিলার কৃত্রিম সংকট তৈরী করে গোপনে বেশি দামে বিক্রি করছে। ইউনিয়ন সাব ডিলাররা ৫০ কেজির বস্তা নিয়ে গ্রামের কৃষকের কাছে সের দরে বিক্রি করছে। এতে করে প্রতি বস্তা ৮শ’ টাকা দামের সার এক হাজার টাকায় বিক্রি করছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন সাব ডিলার টিনিউজকে বলেন, ডিলারদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত মুল্যের চেয়ে বেশি দামে আমাদের সার উঠাতে হয়। আবার পরিবহন খরচও বেড়ে গেছে। তাছাড়া ডিলাররা আমাদের প্রাপ্য বস্তা প্রতি ২৫ টাকা করে কমিশনও দেন না। এ কারণে আমাদের ক্ষতি পোষাতেই সামান্য বেশি দামে বিক্রি করতে হয়। কৃষক এবং সাব ডিলাররা বিসিআইসি ও বিএডিসি সার ডিলারদের বিরুদ্ধে বেশি দাম নেয়ার অভিযোগ করলেও তারা বেশি দাম নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। দেলদুয়ার উপজেলার দেউলি ইউনিয়নের মাইঠান গ্রামের কৃষক জুলহাস মিয়া টিনিউজকে বলেন, বোরো ও সরিষার মৌসুমে ডিলাররা সারের দাম বেশি নেন। সারা বছর দোকানে সার পরে থাকে। সুযোগ বুঝে গোডাউনজাত করেন। পরে বেশি দামে বিক্রি করেন।
বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার এসোসিয়েশনের পরিচালক শহিদুর রহমান টিনিউজকে বলেন, অতিরিক্ত দামে কখনও সার বিক্রি করা হয় না। চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ না পাওয়ায় মাঝে মধ্যে সমস্যা হয়। বেশি দামে সার বিক্রি করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আহসানুল বাশার টিনিউজকে বলেন, চাহিদামত বরাদ্দ সব সময় পাওয়া যায় না। তবে সারের কোন সংকট নেই। ডিলারদের কাছে পর্যাপ্ত সার রয়েছে। বোরো মৌসুমে চাহিদা বাড়বে। মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারাও তদারকি করছেন। বেশি দামে সার বিক্রি করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

ব্রেকিং নিউজঃ