টাঙ্গাইলে সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে দাম বেড়েছে মুরগি, সবজি ও ডিমের

55

জাহিদ হাসান ॥
টাঙ্গাইলে সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে দাম বেড়েছে মুরগি, সবজি ও ডিমের। এ ছাড়া বাজারে অপরিবর্তিত আছে অন্যসব পণ্যের দাম। শনিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে টাঙ্গাইল শহরের পার্ক বাজার, ছয়আনী বাজার, সিটি বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে এ চিত্র উঠে এসেছে।

বাজারে বেড়েছে সবজির দাম। কেজিতে দাম বেড়েছে ১০ থেকে ২০ টাকা। শসা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকায়। লম্বা বেগুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকা। গোল বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা। টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকা। বাজারে সিমের কেজি ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে সিমের কেজি ছিল ২৪০ টাকা, করলা ৮০, চাল কুমড়া পিস ৬০, প্রতি পিস লাউ আকারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০, মিষ্টি কুমড়ার কেজি ৫০, চিচিঙ্গা ৬০, পটোল ৬০, ঢেঁড়শ ৭০, কচুর লতি ৮০, পেঁপের কেজি ৪০, বটবটির কেজি ৯০ এবং ধুন্দুলের কেজি ৬০ টাকা। কাঁচামরিচের প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। এ ছাড়া কাঁচকলার হালি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। লেবুর হালি বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকা। শুকনো মরিচের কেজি ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা।

শহরের পার্ক বাজারের সবজি বিক্রেতা আব্দুল আলিম বলেন, বৃষ্টি আর সাপ্লাই কম থাকায় সবজির দাম বেড়েছে। বাজারে সবজির সরবরাহ বাড়লে আবার দাম কমে যাবে।

বাজারে আলুর কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়। পেঁয়াজের দাম কমেছে। দেশি পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজি। ভারতীয় পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা। বাজারে চায়না রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা। আদার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১১০ টাকায়।

বাজারে খোলা চিনি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকায়। এ ছাড়া প্যাকেট চিনি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯৫ টাকায়। এ ছাড়া লাল চিনির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়।

এসব বাজারে দেশি মসুরের ডাল কেজিপ্রতি ১৩০ টাকা। ইন্ডিয়ান মসুরের ডালের কেজি ১০০ টাকা। লবণের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৮ থেকে ৪০ টাকা। বাজারে দামে ভোজ্য তেল বিক্রি হচ্ছে ১৯৫ টাকায়।

বাজারে বেড়েছে ডিমের দাম। ফার্মের মুরগির লাল ডিমের দাম বেড়ে ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা। বাজারে হাঁসের ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২১০ টাকা। দেশি মুরগির ডিমের ডজন ২২০ টাকা।

পার্ক বাজারের ডিম বিক্রেতা হারুন অর রশিদ বলেন, বৃষ্টি আর উৎপাদন কমের অজুহাতে বেড়েছে ডিমের দাম। সিন্ডিকেট ডিমের দাম বাড়াচ্ছে। সরকার আবার ব্যবস্থা নিলে ডিমের দাম কমে যাবে।

বাজারে গরুর মাংসের কেজি ৬৬০ থেকে ৬৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খাসির মাংসের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯০০ টাকায়। বাজারে ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে। ব্রয়লার কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা। এক দিন আগেও ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছিল ১৬০ টাকা কেজি। ২০ টাকা দাম বেড়ে সোনালি মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকায়। লেয়ার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৭০ থেকে ২৮০ টাকায়।

পার্ক বাজারের মুরগি বিক্রেতা ওহাব মিয়া বলেন, মুরগির উৎপাদন ও সাপ্লাই কম থাকায় দাম বেড়েছে। এ ছাড়া দাম বাড়ার আরেক কারণ হচ্ছে বৃষ্টি। বৃষ্টির কারণে বাজারে মুরগির সাপ্লাই কম।

সাপ্তাহিক বাজার করতে পার্ক বাজার এসেছিলেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত হামিদুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আগে বলা হয়েছে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় দ্রব্যমূল্য বেড়েছে। কিন্তু এখন তো আর জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে না। কিন্তু, দ্রব্যমূল্য তো ক্রমাগত বাড়ছে। এখন বাজারে প্রতিটি পণ্যের দাম বেশি। আসলে সিন্ডিকেটের কারণেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ে। আর আমাদের মতো সাধারণ মানুষ হয় ভুক্তভোগী।’

ব্রেকিং নিউজঃ