টাঙ্গাইলে শিডিউলের বাইরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিং ॥ সীমাহীন দুর্ভোগ

118

জাহিদ হাসান ॥
সারাদেশের মতো টাঙ্গাইলেও এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং নির্ধারিত সময়সূচি অনুসারে চলছে না। শহরের চেয়েও গ্রামগঞ্জে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ অনেক বেশি। দিন-রাত মিলিয়ে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা লোডশেডিং হওয়ার কথা থাকলেও গড়ে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। লাগাতার এভাবে লোডশেডিংয়ের কারণে ও প্রচ- গরমে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে গ্রামগঞ্জের মানুষজনের। ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সার্বিক কর্মকা-ে পড়ছে এর প্রভাব।

টাঙ্গাইল বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তারা টিনিউজকে জানান, পিক আওয়ারে জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ২৬০ মেগাওয়াট থেকে ২৭০ মেগাওয়াট। কিন্তু এখন জাতীয় গ্রিড থেকে পাওয়া যাচ্ছে ১৫০ মেগাওয়াট থেকে ১৬০ মেগাওয়াটের মতো বিদ্যুৎ। যে কারণে নির্ধারিত সময়সূচির বাইরে গিয়ে বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।

 

জেলার নাগরপুর উপজেলার ভাদ্রা গ্রামের করিম হোসেন টিনিউজকে বলেন, শিডিউল অনুযায়ী আমাদের গ্রামে লোডশেডিং হওয়ার কথা। সকাল ৮টা থেকে ৯টা এবং রাত ১০টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত। কিন্তু ২০ থেকে ২৫ মিনিট পরপরই বিদ্যুৎ চলে যায়। প্রচ- গরমে ও কারেন্ট না থাকার কারণে আমরা ঠিক মতো ঘুমাতে পারি না। বাসাইল উপজেলার উত্তর হাবলা গ্রামের মনু মিয়া টিনিউজকে বলেন, আমাদের এলাকার শিডিউল অনুসারে সকাল, সকাল ও রাতে মোট ৩ ঘণ্টা লোডশেডিং হওয়ার কথা। কিন্তু আমরা ২৪ ঘণ্টায় ৪-৫ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ পাচ্ছি না। কখনো কখনো টানা ৩-৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। এতে আমাদের অনেক সমস্যা হচ্ছে। ভূঞাপুর উপজেলা সদর এলাকার জলিল হোসেন টিনিউজকে বলেন, ‘কিসের শিডিউল? আমরা কোন শিডিউলই পাইনি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। কখন বিদ্যুৎ আসবে কিংবা কখন যাবে এর কোনো সময়সূচি নেই। কষ্টেরও সীমা নেই।

এদিকে টাঙ্গাইল শহর এলাকায় লোডশেডিংয়ের পরিমাণ অনেক বেশী। এখানেও চরম শিডিউল বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। শহরের বেড়াডোমা এলাকার বাসিন্দা স্বাধীন সরকার টিনিউজকে বলেন, আমার এলাকায় শিডিউল অনুযায়ী দিনে ১ ঘণ্টা করে ২ বার লোডশেডিং দেওয়োর কথা থাকলেও দেয়া হচ্ছে কমপক্ষে ৪ থেকে ৫ বার। ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি টিনিউজকে আরও বলেন, সামনে বাচ্চাগুলোর পরীক্ষা। সবাই গরমে কাহিল। পরীক্ষার প্রস্তুতি নেবে কখন?’

শহরের পুরাতন বাসষ্ট্যান্ড এলাকার একটি বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম সারাইয়ের দোকানের মালিক আমিনুল ইসলাম লিটন টিনিউজকে জানান, দিনের একটি বড় সময় বিদ্যুৎ থাকায় কোনো কাজই ঠিকঠাক করতে পারছি না। তিনি টিনিউজকে বলেন, ঈদের পর এমনিতেই কাজ কম। তার উপর বিদ্যুতের এই অবস্থা। আগে দিনে ৫০০-৭০০ টাকার মতো রোজগার হতো। এখন ২০০-৩০০ টাকার বেশি হয় না। একই এলাকার সেলুনমালিক মিন্টু শীল টিনিউজকে জানান, গরমে বিদ্যুৎ না থাকলে গ্রাহক আসে না। তাই বেশিরভাগ সময় বেকার বসে থাকতে হচ্ছে।

টাঙ্গাইল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উপ-মহাব্যবস্থাপক রিপন কুমার টিনিউজকে জানান, পিক আওয়ারে তাদের বিদ্যুতের চাহিদা কমপক্ষে ১১০ মেগাওয়াট। কিন্তু গ্রিড থেকে ৭০-৭৫ মেগাওয়াটের বেশি পাওয়া যাচ্ছে না।

টাঙ্গাইল পিডিবির তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ওবায়দুল ইসলাম টিনিউজকে বলেন, তাদের বিদ্যুতের চাহিদা কমপক্ষে ১৪০ মেগাওয়াট। পাওয়া যাচ্ছে ৮০ মেগাওয়াটের মতো। সবাইকে পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত করতে বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহের তথ্য প্রতিদিন ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হচ্ছে। তিনি টিনিউজকে আরও বলেন, নিতান্ত বাধ্য হয়েই লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। এখানে আমাদের কোনো হাত নেই।
এদিকে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ বিউবো, টাঙ্গাইল এলাকাভিত্তিক লোডশেডিং করা হচ্ছে। একই সময় লোডশেডিং শুরু করে বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ (বিউবো)। কোন এলাকায়, কখন লোডশেডিং হবে, তার তালিকাও প্রকাশ করছে সংস্থা দুটি। সেই অনুযায়ী কোথায়, কখন লোডশেডিং হবে- তার সম্ভাব্য তালিকা প্রকাশ করেছে। বিদ্যুৎ বিতরণকারী কোম্পানির ওয়েবসাইটের নির্দিষ্ট লিঙ্কে গিয়ে এই তালিকা দেখতে পারবেন গ্রাহকরা। কিন্তু তালিকা অনুসারে লোডশেডিং দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। লোডশেডিং দুই ঘণ্টা পর্যন্ত হওয়ার কথা থাকলেও হচ্ছে ৪/৫ ঘন্টাব্যাপী।

 

টাঙ্গাইল শহরের কলেজ পাড়া, প্যারাডাইস পাড়া, বড় কালিবাড়ী, পার্ক বাজার, মেইন রোড, রেজিষ্ট্রিপাড়া, ভিক্টোরিয়া রোড- প্রতিদিন সকাল- ৮টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত ও রাত ১১ টা থেকে রাত ১২ টা পর্যন্ত এসব এলাকায় লোডশেডিং বন্ধ থাকবে।
বিশ্বাস বেতকা, চরজানা, সাবালিয়া, কোদালিয়া, বটতলা. ঘারিন্দা, পাঞ্জাপাড়া, সিএন্ডবি রোড- প্রতিদিনি সকাল ৭টা থেকে সকাল ৮ টা পর্যন্ত ও রাত ১০ টা থেকে রাত ১১ টা পর্যন্ত।
পুরাতন বাসষ্ট্যান্ড, পূর্ব আদালতপাড়া, সদর উপজেলা পরিষদ, আশেকপুর, তারুটিয়া- সকাল ৬ টা থেকে সকাল ৭ টা পর্যন্ত ও রাত ৯ টা থেকে রাত ১০ টা পর্যন্ত।
সদর হাসপাতাল এলাকা, সার্কিট হাউজের মধ্যে, ডিষ্ট্রিক কমপাউন্ড, জেলা কারাগার এলাকা- ভোর ৫ টা থেকে সকাল ৬ টা পর্যন্ত ও রাত ৮ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত।

আকুরটাকুরপাড়া, কাগমারা, পশ্চিম আকুরটাকুরপাড়া, মুসলিমপাড়া, মির্জা মাঠ, হাউজিং মাঠ, ষ্টেডিয়াম, পলাশতলী- রাত ৩ টা থেকে ভোর ৪ টা পর্যন্ত ও সন্ধ্যা ৭ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত।
বাদেকেয়া, দেওলা উত্তরপাড়া, দেওলা, কোদালিয়া, কান্দিলা শিবপুর, পারকুশিয়া – ভোর ৪ টা থেকে ভোর ৫ টা পর্যন্ত ও ৭ টা থেকে ৮ টা পর্যন্ত।
ঘারিন্দা, পারকুশিয়া, ব্রাহ্মকুশিয়া, সুরুজ বাজার, আউয়ালটিয়া, ঘারিন্দা বাজার, সুরুজ- ভোর ৪ টা থেকে ভোর ৫ টা পর্যন্ত ও রাত ৭ টা থেকে ৮ টা পর্যন্ত।
ভাতকুড়া, গড়াসিন, দেউলী, দাপনাজোড়, হাকিমপুর, শায়ের কাশিল, বাথুলী, বাথুলী সাদী- রাত ২ টা থেকে ৩ টা পর্যন্ত ও সন্ধ্যা ৫ থেকে ৬ টা পর্যন্ত।

 

ব্রেকিং নিউজঃ