টাঙ্গাইলে শিক্ষা কর্মকর্তার মেয়ের বিরুদ্ধে পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনে সচিব পদে নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগ

1,155

স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলে ইউনিয়ন পরিষদ সচিব পদে লিখিত পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন করে উত্তীর্ন হয়ে নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক নারীর বিরুদ্ধে। তার নাম আদ্রিতা রহমান। লিখিত পরীক্ষায় তার রোল নম্বর ছিল ২০০১১৯৮। সে টাঙ্গাইল জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা লায়লা খানমের মেয়ে। এ ঘটনায় বিবেকানন্দ স্কুল এন্ড কলেজের কেন্দ্র সচিব, সহকারি কেন্দ্র সচিব ও প্রার্থীর কক্ষের ইনভিজিলেটরের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মন্ত্রী পরিষদ সচিবের কাছে চিঠি দিয়েছেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক আতাউল গনি।

জেলা পশাসক তার চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, গত (৭ জুন) ইউনিয়ন পরিষদ সচিব ও হিসাব সহকারি কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। গত (১৬ জুলাই) লিখিত এবং গত (১৭ জুলাই) ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা শেষে ফলাফল দেয়া হয়। সেখানে ১২ জন প্রার্থী চুড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হন। আদ্রিতা রহমান নামের এক নারী সর্বোচ্চ ৬৯ নম্বর পেয়ে প্রথম হন। সে লিখিত পরীক্ষায় ৬০ ও ব্যবহারিকে শুন্য এবং মৌখিক পরীক্ষায় ৯ নম্বর পান। চুড়ান্ত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পর শহরের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ উক্ত প্রার্থীর প্রথম হওয়ার বিষয় নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন এবং নিয়োগ কমিটির কাছে অভিযোগ করেন।

ওই নিয়োগ কমিটির সভাপতি ছিলেন জেলা প্রশাসক ড. আতাউল গনি, সদস্য ছিলেন- পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার, টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র সিরাজুল হক আলমগীর, স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক শামীম আরা রিনি ছিলেন সদস্য সচিব। কঠোর গোপনীয়তার মাধ্যমে পরীক্ষার পুর্ব রাত্রে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, সংরক্ষন ও পরীক্ষার দিন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে পরীক্ষা শুরুর একঘন্টা আগে প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়।

 

এদিকে ওই প্রার্থী সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে প্রথম হয়ে নিয়োগ পাওয়ার ফলে বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন উঠায় অধিকতর যাচাইয়ের স্বার্থে আদ্রিতা রহমানের পুণরায় পরীক্ষা নেওয়া হয়। দ্বিতীয়বারের পরীক্ষায় তিনি এলোমেলো আচরণ করেন এবং কোন প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি। তাই তার লিখিত পরীক্ষার নম্বর ও বাস্তব পরীক্ষার নম্বরের সাথে অসামঞ্জস্য হওয়ায় নিয়োগ কমিটির সদস্যদের কাছে এটাই প্রতীয়মান হয়েছে যে তিনি যে, কেন্দ্রে যে পরীক্ষা দিয়েছিলেন আদ্রিতা রহমান। সেই কেন্দ্রের সচিব, সহকারি সচিব ও কক্ষে ইনভিজিলেটেরর প্রত্যক্ষ সহায়তায় প্রার্থী এই অস্বাভাবিক নম্বর পেয়েছেন। এছাড়াও পরীক্ষার কেন্দ্রটি প্রার্থীর মা টাঙ্গাইল জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার নিয়ন্ত্রানাধীন হওয়ায় কেন্দ্র সচিব, সহকারি সচিব ও ইনভিজিলেটর দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের অগোচরে পরস্পর যোগসাজসে সর্বোচ্চ নম্বর পেতে সহায়তা করেন। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসক ড. আতাউল গনি প্রকৃত ঘটনা উদঘানের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে পুলিশের বিশেষ বিভাগ সিআইডিকে দিয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা লায়লা খানম টিনিউজকে বলেন, আমার মেয়ে আদ্রিতা রহমান টাঙ্গাইল বিবেকানন্দ হাই স্কুল এন্ড কলেজে ইউনিয়ন পরিষদ সচিব পদে পরীক্ষা দেয়। তবে সেখানে ওই পরীক্ষার আমার কোন হস্তক্ষেপ বা দায়িত্ব ছিল না। পরীক্ষার সকল দায় দায়িত্ব পালন করেছে জেলা প্রশাসন।

এ ব্যপারে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক ড. আতাউল গনি টিনিউজকে বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ও দুর্নীতি রোধে সর্বোচ চেষ্টা করা হয়েছে। যে বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে তার প্রকৃত সত্য উদঘাটন হওয়া প্রয়োজন। অপরাধ করে যাতে কেউ পার না পায়। এছাড়াও ভবিষ্যতে যাতে কেউ এ ধরণের অপরাধ করতে না পারে।

 

 

 

 

 

ব্রেকিং নিউজঃ