টাঙ্গাইলে লাইসেন্স ছাড়াই চলছে জামায়াত নেতার হাসপাতাল!

526

স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলে স্বাস্থ্য বিভাগের অনুমোদন বা লাইসেন্স ছাড়াই হাসপাতাল উদ্বোধন করে রীতিমত চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে টাঙ্গাইল শহরের সাবালিয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই হাসপাতালের কার্যক্রম উদ্বোধন করেন তারা। অভিযোগ রয়েছে হাসপাতালের নামে দলীয় ঘাঁটি গড়ে তুলতে তারা কোমড় বেধে মাঠে নেমেছেন। এ নিয়ে টাঙ্গাইলের ক্লিনিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে লাইসেন্স ছাড়া কোন হাসপাতাল চালু করার সুযোগ নেই।
সাবালিয়া পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) অফিসের নাকের ডগায় গড়ে তোলা হয়েছে এই হাসপাতাল। নাম দেয়া হয়েছে ‘আমানত স্পেশালাইজড হাসপাতাল’। প্রশাসনের চোখে ধুলো দিতে হাসপাতালের মালিকনায় নাম ব্যবহার করা হয়েছে ৩৩ জনের। প্রকৃত পক্ষে জেলা জামায়াতের দুই শীর্ষ নেতা আল-মোমিন এবং ইয়াহিয়া খান মারুফ রয়েছেন মূল দায়িত্বে। আল-মোমিনকে বানানো হয়েছে এমডি এবং পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন ইয়াহিয়া খান মারুফ। তারা দু’জনই জেলা জামায়াতের মজলিসে শুরা সদস্য। এছাড়া ৩৩ জনের অধিকাংশই জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত রয়েছেন।
তারা স্বাস্থ্য বিভাগের অনুমোদন বা লাইসেন্স ছাড়াই খুব চতুরতার সাথে গত (৩ জুন) হাসপাতালটি উদ্বোধন করেন। কৌশল হিসেবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তারা টাঙ্গাইল পিবিআই এর প্রধান কর্মকর্তাকে অতিথি করে নিয়ে আসেন। এছাড়া আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী এবং প্রশাসনকে ম্যানেজ করতে বেশকিছুদিন ধরে তারা জোর তদবির চালান।
হাসপাতালের নামে জামায়াত-শিবিরের রাজনৈতিক আস্তানা গড়ে তোলার বিষয় নিয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন জাতীয় ও টাঙ্গাইলের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল টিনিউজবিডি ডটকমে গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করা হয় এই সংবাদ। এতে টনক নড়ে প্রশাসনের। তখন থেকেই হাসপাতালটিকে পুরো নজরদারিতে রাখা হয়েছে বলে প্রশাসনের একটি সূত্র জানিয়েছে। এ অবস্থায় জামায়াতের নেতাকর্মীরা স্বাস্থ্য বিভাগ তথা প্রশাসনিক বৈতরণী পার হতে আওয়ামী লীগ এবং সমাজের একটি এলিট শ্রেণীর নেতৃবৃন্দের দড়জায় কড়া নাড়তে থাকেন হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা। যেকোন ভাবে তাদের সম্পৃক্ত করে হাসপাতাল উদ্বোধন করতে মরিয়া হয়ে উঠেন দেশ বিরোধী এই চক্রটি। অবশেষে বিধি বহির্ভৃতভাবে হাসপাতাল উদ্বোধন করে চিকিৎসা কার্মক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।
এ বিষয়ে আমানত হাসপাতালের এমডি জামায়াত নেতা আল-মোমিন টিনিউজকে বলেন, আমরা এখনো লাইসেন্স পাইনি। তবে লাইসেন্স পাওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তাহলে লাইসেন্স ছাড়াই হাসপাতালের কার্যক্রম চলছে কীভাবেÑ এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আরো অনেক হাসপাতালতো লাইসেন্স ছাড়াই চলছে। সেই সুবাদে আমরাও চালাইতেছি।
টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. আবুল ফজল মো. সাহাবুদ্দিন খান টিনিউজকে বলেন, তারা (আমানত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ) আমার কাছে আসছিল। আমি তাদের বলে দিয়েছিÑলাইসেন্স না পাওয়া পর্যন্ত হাসপাতালের কার্যক্রম চালানোর কোন সুযোগ নেই। তারপরেও যদি তারা হাসপাতাল পরিচালনা করে থাকেন তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা টাঙ্গাইল শহরে কয়েকটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেন। কিন্তু জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের নেপথ্য ভূমিকার বিষয়টি জানাজানি হয়ে যাওয়ায় সেই হাসপাতালগুলো তারা টিকিয়ে রাখতে পারেননি। অবশেষে আমানত হাসপাতালের মাধ্যমে তারা তাদের মিশন বাস্তবায়নের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আল-মোমিন এবং ইয়াহিয়া খান মারুফÑ দু’জনই জামায়াতের রুকন। তারা যথাক্রমে দেলদুয়ার ও মির্জাপুর উপজেলা জামায়াতের আমীর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

 

ব্রেকিং নিউজঃ