টাঙ্গাইলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশী জমিতে আউশ ধানের চাষ হয়েছে

78

স্টাফ রিপোর্টার ॥
আউশ ধানের পিঠা, পায়েস, চিড়া, মুড়ি, খৈয়ের অতুলনীয় স্বাদ আজও অনেকের জিভে লেগে আছে। হাসিকলমি, কটকতারা, ধারিয়াল, পংখিরাজসহ স্থানীয় নানা জাতের আউশ ধান কাটার পর গ্রামের মা-বোনেরা এসব খাবার তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়তেন। সেই হারানো আউশ ধানের সুদিন আবার ফিরে আসছে টাঙ্গাইলে। চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশী জমিতে আউশ ধানের চাষ হয়েছে। আউশ ধান চাষ করে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন। অসময়ে ধান পেয়ে খুশী কৃষকরা।

 

জানা যায়, সত্তর দশকের আগে দেশে আউশ ধানই ছিল প্রধান ফসল। আমন ছিল দ্বিতীয় অবস্থানে। সত্তর দশকের পর সেচ নির্ভর বোরো আবাদের প্রচলন শুরু হয় দেশে। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে বাড়তি মানুষের খাদ্যের জোগান দিতে গিয়ে অধিক উৎপাদনশীল সেচ নির্ভর বোরো ধান চাষে মানুষ ঝুঁকে পড়ে। কৃষি মন্ত্রলায়ের নির্দেশনায় টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আবারো আউশ চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করে। হারিয়ে যাওয়া আউশ ধান নতুন করে আবাদ করে বাড়তি লাভবান হওয়ায় খুশী কৃষকরা। কৃষকরা এখন ধান কাটা ও মাড়াইয়ে ব্যস্ত। আউশ ধান আবাদের জন্য কৃষকদের সরকার থেকে বিনামুল্যে বীজ ও সার প্রদান করা হয়। সঠিক নিয়মে জমির পরিচর্যা করায় ফলন হয়েছে ভালো। এ ধান চাষে সময় কম লাগে, সেচ খরচ খুবই কম, সারও কম লাগে। ফলনও হয় তুলনামুলক ভালো। অমৌসুমে ধান পেয়ে খুশী কৃষকরা। তারা আগামীতে আরো বেশী জমিতে এ ধান আবাদের কথা ভাবছেন।

চাষীরা টিনিউজকে বলেন, আউশের মতো হারিয়ে যাওয়া অন্যান্য ধানের জাতগুলোও ফিরিয়ে এনে পরিত্যক্ত থাকা জমিতে চাষাবাদ বৃদ্ধি করতে পারলে অসময়ে বাজারে চালের দাম অনেকটাই স্থিতিশীল থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ঠরা।

 

টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আহসানুল বাশার টিনিউজকে জানায়. চলতি মৌসুমে ২৫শ’ ১২ হেক্টর জমিতে আউশ ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হলেও আবাদ হয়েছে ২৬শ’ ৯৭ হেক্টর জমিতে। বিগত মৌসুমে আউশ ধানের দাম ভালো থাকায় এবং কৃষি বিভাগের কর্মপরিকল্পনায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশী জমিতে আউশের আবাদ হয়েছে। আগামীতে জেলায় আউশ আবাদ বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন এই কর্মকর্তা।

 

ব্রেকিং নিউজঃ