টাঙ্গাইলে লকডাউনের ষষ্ট দিনে যান ও মানুষ চলাচল বেড়েছে

101

হাসান সিকদার ॥
চলমান কঠোর বিধিনিষেধের সময়সীমা যতই কমে আসছে-ততই বাড়ছে যান ও মানুষ চলাচল। বিধিনিষেধের ষষ্ট দিন বুধবার (২৮ জুলাই) টাঙ্গাইলে সড়কে যানবাহনের বাড়তি চাপ লক্ষ্য করা গেছে। অফিসগামীরা ভাড়া ভাগাভাগি করে রিক্সায় চড়ছেন। পাড়ামহল্লার দোকানপাটগুলোও খুলতে দেখা গেছে বেশি। পাশাপাশি সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশের তল্লাশিও চলে।
বুধবার (২৮ জুলাই) সকালে শহরের নিড়ালা মোড়, বেবিস্ট্যান্ড, বটতলা, ডিস্টিক গেট, ছয়আনী বাজার, পার্কবাজার ঘুরে দেখা যায়, জীবিকার তাগিদে অনেকেই মহল্লায় ছোট দোকানগুলো খুলেছেন। শহরের আশেকপুর বাইপাসে ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেল চালকদের যাত্রীর অপেক্ষায় থাকতে দেখা গেছে। দুপুরের খাবার হাতে অনেককে হেঁটে কাজে যেতে দেখা যায়। এদিকে সড়কে ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ রয়েছে। সঙ্গে চলছে রিক্সা, মোটরসাইকেল, অফিস বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক। পুলিশ প্রতিটি গাড়ির যাত্রীদের তল্লাশি করছে। যারা অযথা বাইরে বের হয়েছেন বা সন্তোষজনক জবাব দিতে পারছেন না তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে পুলিশ। চলমান কঠোর বিধিনিষেধে সরকারী-বেসরকারী অফিস বন্ধ থাকার কথা থাকলেও কিছু কিছু অফিস খোলা রয়েছে। খোলা রয়েছে ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান। ফলে গত রবিবার (২৫ জুলাই) থেকে সড়কে গাড়ির চাপ বেড়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সড়কে কারা চলাচল করতে পারছেন- এমন প্রশ্নের উত্তরে পুলিশ বলেন, ব্যাংক, বীমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ অনেক অফিস খোলা। আমরা প্রত্যেকটি গাড়িকে জিজ্ঞাসবাদ করছি। এখানে অনেকেই আর্থিক কাজে যাচ্ছেন, রোগী দেখতে যাচ্ছেন, টিকা নিতে যাচ্ছেন, বিভিন্ন পণ্যবাহী গাড়ি আসছে। আমরা চেষ্টা করছি অন্তত কেউ যেন অযথা ঘর থেকে বের না হয়। যাদের কথায় সন্তুষ্ট হচ্ছি না বা কারণ যুক্তিসঙ্গত মনে হচ্ছে না তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
এদিন সকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ও উপজেলার সড়কগুলোতে মানুষের চলাচল ছিল আগের যে কোন দিনের তুলনায় বেশি। এই মহাসড়কের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে, সিএনজি, প্রাইভেটকার, পণ্যবাহী যানবাহন ছাড়াও রিক্সা, ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সা ও ইজিবাইক চলাচল করছে। এছাড়া মহাসড়কে ভ্যানে করে মানুষের চলাচলও অনেক বেড়েছে। ভ্যানে মানুষকে গাদাগাদি করে চলাচল করতে দেখা গেছে। যাত্রীরা টিনিউজকে জানান, জরুরী প্রয়োজনেই তারা বাইরে বেরিয়েছেন। কিন্তু রাস্তায় কোন গণপরিবহন নেই। তাই গন্তব্যে যেতে নিরুপায় হয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে ভ্যানে গাদাগাদি করে উঠতে হচ্ছে। তবে ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা এভাবে ভ্যানে যাতায়াত প্রতিহত করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু মানুষের অনুনয়-অনুরোধের কারণে অনেক ক্ষেত্রে খুব একটা সফল হচ্ছেন না তারা। দুুপুরে করোনার টিকা দিতে বেরিয়েছেন হাবিব ইসলাম। তার হাতেই তার টিকার কাগজ। তিনি টিনিউজকে বলেন, এভাবে অটোতে যাওয়ায় ঝুঁকি আছে সেটা বুঝি কিন্তু উপায়ও তো নাই। রিক্সা ভাড়া আকাশচুম্বী, অটোতে তাও কিছুটা কম। সড়কের দায়িত্ব পালনকারী ট্রাফিক সার্জেন্টরা টিনিউজকে বলেন, চলাচলে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে এবং সরকারের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী বিধিনিষেধ নিশ্চিতের চেষ্টা করছি আমরা। মানুষ নানান প্রয়োজনে বাইরে বের হচ্ছে। তারা নিয়মের মধ্যে থাকছেন কি না তা দেখছি। মহাসড়কে আমরা ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সা এবং ইজিবাইক এ্যালাউ করছি না।
সরেজমিনে টাঙ্গাইল শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মোড়ে মোড়ে পুলিশের চেকপোস্ট নেই। কোন কোন মোড়ে চেকপোস্ট থাকলেও তাতে পুলিশের উপস্থিতি দেখা যায়নি। মোটরসাইকেলে দু’জন এবং রিক্সায় দু-তিনজনও চলাচল করছেন। মোটরসাইকেলে দু’জন চলাচল করলেও পুলিশ তাদের দেখে অনেকটা নিশ্চুপ অবস্থায় রয়েছে। তবে সড়কে দাপিয়ে বেড়াতে দেখা গেছে, ব্যক্তিগত গাড়ি। গত কয়েকদিন যেখানে পুলিশের চেকপোস্ট ছিল সেখানে পুলিশের উপস্থিতি দেখা যায়নি। সড়কজুড়েই ব্যক্তিগত গাড়ি, সিএনজি, রিক্সা আর মোটরসাইকেলের আধিপত্য। সড়কে মানুষের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। রাস্তায় চলাচলে বিধিনিষেধ থাকলেও অনেকে বিনা প্রয়োজনেও রাস্তায় বের হচ্ছেন।
রফিকুল ইসলাম নামে এক পথচারী টিনিউজকে বলেন, এটার নাম বিধিনিষেধ ! সড়কে দেখেন কত গাড়ি চলছে। পুলিশের কোন বাধা নেই। নিম্নআয়ের মানুষের জীবিকার ব্যবস্থা না করে বিধিনিষেধ ঘোষণা করা হয়েছে। কষ্টে পড়ে মানুষগুলো সড়কে নামছে। তাই পুলিশ কিছুই করতে পারছে না। এভাবে টানা লকডাউন থাকলে মানুষ না খেয়ে মরে যাবে।

 

ব্রেকিং নিউজঃ