টাঙ্গাইলে রোজা ও গরমের সুযোগ নিচ্ছেন ফল ব্যবসায়ীরা

309

শেখ সোহান ॥
রোজায় ইফতারিতে ফল থাকে আবশ্যিকভাবে। তাছাড়া এখন চলছে গ্রীষ্মের খরতাপ। দুইয়ে মিলে ফলের চাহিদা বেড়েছে। এই বাড়তি চাহিদাকে পুঁজি করে দেশি-বিদেশি সব ধরনের ফলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন টাঙ্গাইলের ব্যবসায়ীরা। বাজারে আপেল, কমলা, আঙুর ও মাল্টার মতো আমদানি করা ফলের দাম যেমন বেড়েছে। তেমনি লেবু, তরমুজ বাঙ্গিসহ সব ধরনের দেশি ফলের দামও অস্বাভাবিক বাড়তি।
বিক্রেতারা বলছেন, দাপদাহে ক্রেতার চাহিদার শীর্ষে এখন রসালো ফল। রোজাদাররা প্রতিদিনই ইফতারে তরমুজ, বাঙ্গি, পেয়ারা, মাল্টা, আঙুরসহ দেশি-বিদেশি নানা ফল রাখছেন। এমন চাহিদার কারণে দাম চড়েছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে তরমুজের দাম। মাত্র এক সপ্তাহে তরমুজের দাম দ্বিগুণ হয়েছে। টাঙ্গাইল শহরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, আমদানি করা ফল মাল্টা ও আঙুরের দামও বেড়েছে। মাল্টা বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি, রোজার আগে যা ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা কেজিতে পাওয়া যেত। অর্থাৎ রোজার কারণে কেজিতে বেড়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। বিদেশি ফলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে আঙুরের দাম। সাধারণ মানের এক কেজি আঙুর কিনতেই এখন খরচ করতে হচ্ছে ৩০০ টাকা। সপ্তাহখানেক আগেও এই আঙুর পাওয়া যেত ২০০ থেকে ২২০ টাকায়। আর রোজার আগে এই মানের আঙুর কেনা যেত ১৮০ টাকার মধ্যে। অন্যদিকে এক কেজি লাল মিষ্টি আঙুর কিনতে লাগছে ৪৬০ থেকে ৪৮০ টাকা। তবে আপেলের দাম কিছুটা কমেছে। চায়না ফুজি আপেল কেজিতে ১০ টাকার মতো কমে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গালা আপেলের দাম কেজিতে ২০ টাকা কমে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অবশ্য এসব আপেল রোজার আগে ১৫০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতো। থাই পেয়ারার দাম বেড়ে কেজি প্রতি ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রোজার আগে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।
দেশীয় ফলের মধ্যে লেবুর দাম গত সপ্তাহের মতোই রয়েছে। তবে রোজার আগের তুলনায় দাম অনেকটাই কম। মাঝারি আকারের এক হালি লেবু কিনতে লাগছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। রোজার আগে তা ৫০ থেকে ৬০ টাকা ছিল। বিক্রেতারা বলছেন, এখন বৃষ্টি-বাদল হওয়ায় লেবু দ্রুত পরিপক্ব হবে। এতে সরবরাহ বেড়ে দাম কমে আসবে। তবে আরেকটি দেশীয় ফল তরমুজের দাম দফায় দফায় বেড়েছে রোজার শুরু থেকেই। এবারই প্রথম দেশে ব্যাপক হারে খুচরা পর্যায়ে তরমুজ বিক্রি হচ্ছে কেজি দরে। ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে অতিমুনাফা হাতিয়ে নিতে এই পদ্ধতি চালু করেছেন। তবে কেজি দরে তরমুজ বিক্রি করতে দেখা গেছে। টাঙ্গাইলে মান ও বাজারভেদে তরমুজের কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। রোজার আগে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে তরমুজ বিক্রি হয়েছিল। আর মৌসুমের শুরুতে তরমুজের কেজি ছিল ৫০ টাকার মধ্যে। তরমুজের সঙ্গে বেড়েছে বাঙ্গির দামও। মাঝারি আকারের প্রতিটি বাঙ্গির দাম বিক্রেতারা চাইছেন ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা, যা আগে ১০০ থেকে ১২০ টাকায় কেনা যেত।

 

 

 

 

 

ব্রেকিং নিউজঃ