টাঙ্গাইলে রেদওয়ানা খুনের আসামী স্বামীকে ধরতে পারেনি পুলিশ

140

কাজল আর্য ॥
টাঙ্গাইল জেলা সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা খন্দকার রেদওয়ানা ইসলাম (৩২) খুনের মামলার প্রধান আসামী স্বামী মিজানুর রহমান মিজানকে (৪৫) ধরতে পারেনি পুলিশ। তাকে ধরতে পুলিশের সাড়াশি অভিযান চলছে। পুলিশের ধারণা পরিবারিক বিরোধের জের ধরেই এ হত্যাকান্ড হয়েছে। নিহতের ভাই খন্দকার আসাদুল ইসলাম আবিদ বাদী হয়ে মির্জাপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
এদিকে রোববার (২৮ মার্চ) দুপুরে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মাঠে খন্দকার রেদওয়ানা ইসলামের জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। জানাজায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ড. আতাউল গনি, টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র সিরাজুল হক আলমগীর, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি এডভোকেট জাফর আহমেদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক এলেন মল্লিকসহ জেলার বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
খন্দকার রেদওয়ানা ইসলাম রংপুরের রোমানতলা এলাকার মৃত রফিকুল ইসলামের মেয়ে। সেখানেই লাশ দাফন করা হবে। তার পলাতক স্বামী সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের গ্রামের বাড়ী পাবনায়। নিহত রেদওয়ানা ইসলামের এর আগে একটি বিয়ে হয়েছিল। সেই ঘরে ছয় বছরের এক পুত্র সন্তান রয়েছে। সেই বিয়ে ডিভোর্সের পর ব্যাংকের কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের সাথে রেদওয়ানার দ্বিতীয় বিয়ে হয়।
মামলার বাদী নিহতের ভাই খন্দকার আসাদুল ইসলাম আবিদ টিনিউজকে বলেন, বিগত ২০১৯ সালে আমার বোনের সাথে ব্যাংকার মিজানের বিয়ে হয়। বিয়ের পরে জানতে পারি ও আরেকটি বিয়ে করেছে। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় আমার বোনের সাথে মিজানের ঝগড়া বিবাদ হতো। মিজান বোনকে খুন করার জন্য সুযোগের অপেক্ষায় ছিল। হাসপাতালে আমার বোনকে মিজানই খুন করেছে। আমরা দ্রুত খুনীর গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। তিনি কান্না জড়িতকণ্ঠে আরো বলেন, চোখের সামনে আর কারো যেন অকালে তার বোনের লাশ দেখতে না হয়।
এদিকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মির্জাপুর থানার (এসআই) শাহ্জাহান খান টিনিউজকে বলেন, তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ ছিল। বিরোধ মিমাংসা করতে জেলা কর্মকর্তারা একটি উদ্যোগও নিয়েছিলেন। সেই কলহের জের ধরেই এ হত্যাকান্ড ঘটে থাকতে পারে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখছি। আসামী মিজানুর রহমানকে ধরতে আমরা জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছি। আশা করি অতিদ্রুতই আসামীকে ধরতে পারব।
এই মর্মান্তিক হত্যাকান্ডে জেলায় ব্যাপক নিন্দা ও প্রতিবাদ চলছে। জেলা প্রশাসক ড. আতাউল গনি টিনিউজকে বলেন, হত্যাকান্ডের তীব্র নিন্দা ও পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত অপরাধিকে খুঁজে বের করে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবী করছি। যাতে এ রকম ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটাতে আর কেউ সাহস না পায়।
গত শনিবার (২৭ মার্চ) বিকেলে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালের একটি ভিআইপি কক্ষ থেকে খন্দকার রেদওয়ানা ইসলামের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। মির্জাপুর সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার দীপংকর ঘোষ টিনিউজকে জানান, রেদওয়ানা প্রসব ব্যাথা নিয়ে গত (২২ মার্চ) মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি হন। ওই দিনই তিনি একটি কন্যা সন্তান জন্ম দেন। এরপর থেকে কন্যা সন্তানকে আইসিও’তে রাখা হয়। গত চারদিন আগে রেদওয়ানা ইসলামকে চিকিৎসকরা ছুটি দিয়ে দেন। কিন্তু জন্ম নেয়া মেয়ে হাসপাতালে থাকার কারনে রেদওয়ানা হাসপাতালেই থেকে যান। শনিবার (২৭ মার্চ) সকালে তার স্বামী মিজানুর রহমান আসেন হাসপাতালে রেদওয়ানার সাথে দেখা করতে। বিকেলে হাসপাতালের নার্স রেদওয়ানার কক্ষ বাইরে থেকে তালাবদ্ধ দেখতে পেয়ে কর্তৃপক্ষকে জানান। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কক্ষের বিকল্প চাবি দিয়ে তালা খুলে ভেতরে রেদওয়ানার লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।

 

 

 

ব্রেকিং নিউজঃ