টাঙ্গাইলে মৌসুম পরিবর্তনে জ্বর-সর্দিতে কাবু সকল বয়সীরা

92

জাহিদ হাসান ॥
করোনা ও ডেঙ্গুর ভয়ে আতঙ্কিত মানুষের এখন নতুন মাথাব্যথা, জ্বর, সর্দি ও কাশি। টাঙ্গাইলে বেড়েছে এমন উপসর্গের রোগীর সংখ্যা। টাঙ্গাইল জেলায় গত এক সপ্তাহ যাবত বাড়ছে জ্বর, কাশি, সর্দির রোগী। শিশু থেকে বয়স্ক সবাই কাবু হচ্ছে জ্বর-সর্দিতে। তবে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ঋতু পরিবর্তনজনিত কারণে গরম ঠান্ডা আবহাওয়ায় এমনটি হচ্ছে। এদিকে হাসপাতালমুখী রোগীর চাপও বাড়ছে।
টাঙ্গাইল জেলায় করোনা সংক্রমণ কমতে থাকলেও ইনফুয়েঞ্জাজনিত কারণে শিশু ও বয়স্করা বেশি ভুগছে, তাই পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা এবং সামাজিক দূরত্বের ওপর জোর দিয়েছেন চিকিৎসকরা। টাঙ্গাইল শহরের সরকারী বেসরকারী বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিক ঘুরে দেখা গেছে, বহির্বিভাগে অভিভাবকরা শিশু নিয়ে আসছেন। সবারই একই উপসর্গ জ্বর-সর্দি। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে কারও নিউমোনিয়া টাইফয়েড শনাক্ত হলেও বেশিরভাগ রোগীর ক্ষতিকর কিছু পাওয়া যাচ্ছে না। অনেকের তিনদিন পরই জ্বর কমে যাচ্ছে। আবার অনেকের জ্বরের পর সর্দি বাড়ছে। গরমের শেষ আবার শীতের শুরুর এমন মৌসুমে প্রতিবছরই ঘরে ঘরে জ্বর, সর্দি দেখা দেয়। একজন জ্বরে আক্রান্ত হলে পরিবারের অন্যদেরও জ্বর হচ্ছে। তাই বিষয়টিকে ভাইরাল ফিভার মনে করছেন চিকিৎসকরা।
চিকিৎসকরা টিনিউজকে জানান, চেম্বারে যেসব রোগী পাচ্ছি, তাদের মধ্যে ৮০ শতাংশই জ্বর, কাশি ও সর্দিকে আক্রান্তরা আসছেন। কিন্তু পরীক্ষা করালে ডেঙ্গু করোনা নেগেটিভ। কারও কারও নিউমোনিয়ার কিছুটা প্রভাব থাকলেও বেশিরভাগের টেস্ট রিপোর্টের ফলাফল ভালো। ঋতু পরিবর্তনের কারণে ঠান্ডা গরমে জ্বর, সর্দি হচ্ছে। তা দু-তিন দিনের মধ্যেই কমে যাচ্ছে। তবে শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে কোন অবহেলা না করে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করতে হবে। এন্টিবায়োটিক ছাড়াই এসব জ্বর ও সর্দি উপশম হয়।
শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা টিনিউজকে জানান, শিশুদের মধ্যে বেশিরভাগই ভাইরাল ফিভার। দুইদিন পরই জ্বর কমে যাচ্ছে। তবে অনেক শিশু নিউমোনিয়ার সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। আমাদের পরামর্শ হচ্ছে শিশুদের যাতে প্রথমে কোন ধরনের এন্টিবায়োটিক দেয়া না হয়।
এদিকে জেলার বিভিন্ন উপজেলায়ও শিশু ও বয়স্করা ছাড়াও প্রায় সকল বয়সীদের নিয়ে চিকিৎসকের কাছে শরণাপন্ন হতে দেখা গেছে স্বজনদের। মূলত জ্বর, সর্দির উপসর্গ থাকায় চিকিৎসকরা তাদের পরামর্শ দিচ্ছেন প্রচুর পরিমাণে পানি ও তরল খাবার দিতে বলেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

 

ব্রেকিং নিউজঃ