টাঙ্গাইলে মসজিদগুলোতে ঈদের জামাত ॥ হয়নি কোলাকুলি

5

নোমান আব্দুল্লাহ ॥
বিশ্ব মুসলমানদের সবচেয়ে বড় উৎসব ঈদ। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা উৎসব আমেজের মধ্য দিয়ে ঈদ পালন করে থাকে। টাঙ্গাইলেও প্রতি বছর পালিত হতো ঈদ উৎসব ও আমেজের মধ্য দিয়ে। তবে বর্তমানে প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের কারণে সবকিছু উলট-পালট হয়ে গেছে টাঙ্গাইলের ঈদ উৎসবে।
টাঙ্গাইলের সর্বত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হচ্ছে। করোনা ভাইরাসের কারণে সারা দেশের ন্যায় টাঙ্গাইলেও পাড়া মহল্লার মসজিদে মসজিদে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করা হয়েছে। সোমবার (২৫ মে) সকালে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, কেন্দ্রীয় গোরস্থান ও মার্কাস মসজিদে বিভিন্ন সময়ে বেশকয়েক দফায় ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া জেলার পুলিশ লাইনস মসজিদসহ অন্যান্য মসজিদেও ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। জামাত শেষে খুতবা পেশ ও দেশের করোনা পরিস্থিতি বিষয়ে আল্লাহর নিকট দোয়া করা হয়। মসজিদগুলোতে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে সামাজিক দূরত্ব মেনে নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা। নামাজ আদায় শেষে মোনাজাতে করোনা থেকে মুক্তি, দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করা হয়। তবে নামাজ আদায়ের পর দেখা যায় এবার কেউ কার সাথে কোলাকুলি করেননি। নামাজ আদায়ের আগে মুসল্লীরা নিজেদের জায়নামাজ সঙ্গে করে নিয়ে আসেন। এরপর শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে সারিবব্ধ হয়ে নামাজ পড়েন।
করোনা ভাইরাস পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ মাটি করে দিয়েছে। এবারের ঈদটি টাঙ্গাইলবাসী উদযাপন করছে একদম সাদামাটাভাবে। নেই কোনো খোশ মেজাজ। অজানা এক অদৃশ্য আতঙ্ক আর দুশ্চিন্তা নিয়ে মসজিদে মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন মুসল্লিরা। অন্য বার ঈদের নামাজ শেষে একজন আরেকজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেয়ার যে দৃশ্য দেখা যেত এবার তা দেখা যায়নি। কেউ কারও সাথে কোলাকুলি করেনি। দূরত্ব বজায় রেখে ঈদের কুশল বিনিময় করেছেন। জেলার মসজিদে মসজিদে ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সব নির্দেশনা মেনে মসজিদে মসজিদে সোমবার (২৫ মে) সকাল ৮টার পর থেকে জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজ শেষে কোলাকুলি বা হাত মেলাতে দেখা যায়নি কাউকে। সবার মাঝেই একটা আতঙ্ক লক্ষ্য করা গেছে।
টাঙ্গাইল পৌর এলাকার পশ্চিম আকুরটুকুর পাড়ার বাইতুল আকসা জামে মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করা রিয়াদ টিনিউজকে বলেন, এরকম ঈদের পরিবেশ দেখতে হবে কল্পনাও করিনি কোনো দিন। ঈদের দিন কোলাকুলি করে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেয়ার মজাটাই আলাদা। এবার আর তা হল না। সৃষ্টিকর্তা যেন আর এমন ঈদ আর না দেখায়।

ব্রেকিং নিউজঃ