টাঙ্গাইলে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ জনজীবন

71

হাসান সিকদার ॥
টাঙ্গাইল জেলায় ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ জনজীবন। সাধারণ মানুষ বলছেন- সরকারি কঠোর বিধি-নিষেধের কারণে সন্ধ্যার পর দোকানপাট ও বাণিজ্যিক মার্কেট বন্ধ থাকার পরও কমছে না দুর্ভোগ। তারপরও দিন ও রাতের বেশিরভাগ সময় বিদ্যুৎ থাকছে না। জেলার দুই বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগকে দায়ি করছেন সাধারণ জনগন।

জানা যায়, লোডশেডিংয়ে অসহনীয় হয়ে উঠেছে পরিস্থিতি। প্রচন্ড গরমে নাভিশ্বাস হয়ে উঠার মতো অবস্থা মানুষের। বিশেষ করে ব্লাক আউটের পর থেকেই গত কয়েকদিন ধরে ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎ না থাকায় গরমের মধ্যে মানুষ পাগল প্রায়।




এদিকে বর্তমানে আমন ধান রোপনের ভরা মৌসুম চলছে। বৃষ্টি তেমন না হওয়ায় ও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকায় সেচ পাম্প সরবরাহ বন্ধ থাকছে অধিকাংশ সময়। বিদ্যুতের এই লুকোচুরিতে সাধারণ মানুষ যেমন কষ্ট পাচ্ছেন। ঠিক তেমনি প্রচন্ড গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন শিশু ও বৃদ্ধরা।

অপরদিকে জেলা শহরের পাশাপাশি ১২টি উপজেলাতেও বিদ্যুতের একই ভয়াবহ অবস্থা। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি নিয়ন্ত্রিত ইউনিয়নের গ্রামাঞ্চলগুলোর অবস্থা আরও ভয়াবহ। গ্রামগুলোতে ২৪ ঘন্টার মধ্যে গত কয়েক দিন ধরে মাত্র ৭ থেকে ৮ ঘন্টা বিদ্যুৎ থাকছে। বাকি সময়ে লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে গ্রামাঞ্চলের মানুষের।




এ বিষয়ে টাঙ্গাইল বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এবং পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কর্তৃপক্ষ টিনিউজকে জানায়, মূলত টাঙ্গাইল জেলা গাজীপুরের কালিয়াকৈর গ্রিডের আওতার মধ্যে পড়েছে। টাঙ্গাইল গ্রীডে বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ২৬৫ থেকে ২৭০ মেঘাওয়াট। কিন্তু বর্তমানে ৮৫ থেকে ৯০ মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ পাচ্ছে টাঙ্গাইল জেলা। এই কম মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ টাঙ্গাইলে সরবরাহ করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় গ্রিড থেকে চাহিদার চেয়ে অনেক কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় টাঙ্গাইলে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের মধ্যে পড়েছে।




কর্তৃপক্ষ টিনিউজকে আরও জানায়, জেলার এই দুই বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ প্রাপ্ত কম মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং এর মাধ্যমে গ্রাহকদের মাঝে সরবরাহ করছে। জেলার বিদ্যুৎ বিভাগ বলছে- এখানে তাদের কিছু করণীয় নেই। যতটুকু তারা বিদ্যুৎ পাচ্ছেন, তা জেলার গ্রাহকদের মাঝে বিতরণ করছেন।

ব্রেকিং নিউজঃ