রবিবার, সেপ্টেম্বর 27, 2020
Home টাঙ্গাইল টাঙ্গাইলে ভ্রমনস্থান ‘মনতলা’ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ

টাঙ্গাইলে ভ্রমনস্থান ‘মনতলা’ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ

স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইল শহরের জনপ্রিয় ভ্রমনের স্থান ‘মনতলা’ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। অতিরিক্ত নৌকা ভাড়া ও খাবারের দাম বেশি নেয়া, আগত মানুষদের সাথে খারাপ ব্যবহার করা, কিশোরীদের ইভটিজিং করার কারণেই বন্ধ ঘোষনা করা হয়। এসব বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকালে টাঙ্গাইল সদর ফাঁড়ির ইনচার্জ মোশারফ হোসেন ভ্রমনস্থানে গিয়ে সত্যতা পেয়ে বন্ধ ঘোষনা করেন।
টাঙ্গাইল সদর ফাঁড়ির ইনচার্জ মোশারফ হোসেন টিনিউজকে জানান, টাঙ্গাইল গালা সড়কে ভাটচান্দা মাগুরাটা গ্রামের তিন রাস্তার মোড়ে গড়ে উঠেছে বেশকয়েকটি চটপটি, ফুচকাসহ বিভিন্ন ফাস্টফুড জাতীয় খাবারের দোকান। পরবর্তীতে এখানকার ব্যবসায়ীরা ভাটচান্দা মাগুরাটা জায়গার নাম বদলে ‘মনতলা’ নাম দেন। বন্যার এ সময়ে চারিদিকে পানি উঠায়, প্রকৃতিপ্রেমী মানুষ এখানে ঘুরতে আসে। কিন্তু এখানে অবস্থিত নৌকা দিয়ে ভ্রমনে ৬০ টাকার ভাড়া ৫০০ টাকা নিচ্ছে এবং রেটের তালিকা ঝুলিয়ে রেখেছে। সেই সাথে ফাস্টফুড খাবারের দাম অনেক বেশি নিচ্ছে এখানকার অসাধু দোকানদাররা। এছাড়া আগত মানুষদের সাথে খারাপ ব্যবহার করাসহ কিশোরীদেরকে ইভটিজিং অভিযোগ পেয়েছি। এদিকে এই ভ্রমন কেন্দ্রে মোটরসাইকেল নিয়ে বখাটেদের উৎপাত ও আড্ডাবাজি দিন দিন বেড়েই চলছিল। নৌকা দিয়ে কিশোর-কিশোরীরা অনিয়ন্ত্রিতভাবে সন্ধ্যার পরও চলাফেলা করার অভিযোগ আছে। এতে করে যে কোন দুর্ঘটনা ঘটতে পারে এখানে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই এখানকার সকল কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এলে বিবেচনা শর্তসাপেক্ষে চালু করা হবে।
সরেজমিনে দেখা ও জানা যায়, প্রতিদিন দুপুর গড়িয়ে বিকাল হতে না হতেই মোটরসাইকেল, সিএনজি, অটোরিক্সা বা প্রাইভেট কারে করে ভ্রমণ পিপাসুরা ভীড় জমাতে থাকে ভাটচান্দা মাগুরাটা গ্রামের তিন রাস্তার মোড়ে (মনতলায়)। শুধু তরুণ-তরুণী, যুবক-যুবতীরাই নয়, পরিবার পরিজন নিয়ে শত শত মানুষ এদিক ওদিক ঘুরে বেড়াচ্ছে। রাস্তার দুই পাশেই থৈ থৈ পানি। মৃদু বাতাসে ছোট-ছোট ঢেউ আছরে পড়ছে রাস্তার পাশে। কেউ কেউ নৌকায় করে পানিতে ভাসছে। তাদের হাসির শব্দ ঢেউয়ের সাথে পাড়ে এসে পড়ছে। কেউ কেউ রাস্তার সাথে স্লুইস গেইটের পাশে জুয়েল মিয়ার দোকানের সামনে রাখা চেয়ারে বসে, কেউবা দাঁড়িয়ে ফুচকা, চটপটি খাচ্ছে আর প্রকৃতির অপরূপ শোভা উপভোগ করছে। এমনই দৃশ্য দেখা যায় সেখানে। প্রায় ২ বছর আগে ভাটচান্দা মাগুরাটা গ্রামের জুলহাস মিয়ার ছেলে জুয়েল মিয়া (৩০) এই তিন রাস্তার মোড়ে প্রথম ফুচকা ও চটপটি বিক্রয় শুরু করেন। তখন এখানে ভ্রাম্যমান মোটরসাইকেল আরোহীরা মাঝে মাঝে থেমে ফুচকা-চটপটি খেত। কোনদিন একশ টাকা, কোনদিন দুইশ আবার কোনদিন ৫শ’ টাকাও বিক্রি হতো তার। মাঝে মাঝে কিছু উঠতি বয়সের শহুরে ধনীর দুলাল মোটরসাইকেল নিয়ে এখানে এসে বিকালে আড্ডা দিত। এছাড়া এলাকার কিছু লোক এখানে প্রায় প্রতিদিন বিকালেই তাদের বন্ধু বান্ধব এখানে বসে আড্ডা দেয়া শুরু করে। এরপর থেকে এই ভাটচান্দা মাগুরাটা গ্রামের তিন রাস্তার মোড় ‘মনতলা’ নামে জনপ্রিয় হতে থাকে। এই মনতলা জনপ্রিয় হওয়ার আরো বড় কারণ হলো শহরের কোলাহল মুক্ত প্রাকৃতিক মনোরম পরিবেশ এবং শহরের অতি নিকটে। এছাড়া বর্ষার সময় চারিদিকে পানি থাকায় পরিবেশটা বেশ আনন্দদায়ক। তখন রাস্তার দুইপাশের নিচু জমি পানিতে ভরে যায়। আর প্রকৃতির সেই অপরূপ সৌন্দর্যে কিছুটা সময় কাটাতেই শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভিড় করে প্রকৃতি প্রেমীরা।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, নৌকায় করে ভ্রমণের সুযোগ, বটগাছ। এছাড়া ঘুরে ক্লান্ত হয়ে পড়লে জুয়েল মিয়াসহ অন্যান্য দোকানগুলোতে পাওয়া যায় বিভিন্ন ফলের জুস, কফি, সুস্বাধু ফুচকা ও চটপটি। এছাড়াও অন্যান্য দোকানে বিস্কুট, চানাচুর, চা, চিপস ইত্যাদি। স্থানীয় করিম মিয়া নামের এক ব্যক্তি টিনিউজকে বলেন, এখানে সারাদিনে ১ থেকে ২’শ মোটরসাইকেলে করে লোকজন ঘুরতে আসেন। এদের অধিকাংশই উঠতি বয়সের। কেউ আবার অটো বা সিএনজি নিয়ে আসে। প্রকৃতি প্রেমী ভ্রমণ পিপাসুরা বিকাল ৪ থেকে রাত ৮ পর্যন্ত এই এলাকার অবস্থান করেন। মাহাথির আহমেদ টিনিউজকে বলেন, টাঙ্গাইলে অনেকগুলো পার্ক রয়েছে, সেগুলোতে পরিবার নিয়ে যাওয়া যায় না। এখানে খোলামেলা পরিবেশ। চারিদিকে পানি আর পানি। নৌকায় ঘুড়ার ব্যবস্থা আছে। আর এখানকার চটপটির স্বাদ অনেকদিন মুখে লেগে থাকবে।
এ বিষয়ে টাঙ্গালই সদর পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মোশারফ হোসেন টিনিউজকে আরও বলেন, মানুষের নিরাপত্তা দেয়াই আমাদের কাজ। টাঙ্গাইলে যেহেতু টুরিস্ট পুলিশ নাই, তাই প্রকৃতি প্রেমী ভ্রমণ পিপাসুদের নিরাপত্তার দায়িত্ব আমাদেরই পালন করতে হয়। দিন দিন এখানে প্রকৃতি প্রেমীদের সংখ্যা বেড়েই চলছে। এই বিষয়টি আমাদের নজরেও এসেছে। এখানে যাতে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সে কারণেই বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

ব্রেকিং নিউজঃ