টাঙ্গাইলে ভুঁইফোড় আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে পৌর আ.লীগ সভাপতি! সমালোচনার ঝড়

579

স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলে ভুঁইফোড় বাংলাদেশ আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ নামক সংগঠনের ১৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে টাঙ্গাইল জেলা শাখার পক্ষ থেকে কেক কাটা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি এসএম সিরাজুল হক আলমগীর। শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করার সময় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশে তা পন্ড করে দেয় পুলিশ ও দলের দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া।
এরপর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের দলের সম্পাদক মন্ডলীর সভায় বলেন, লীগ আর আওয়ামী যখন যুক্ত হয় তখন এখানে আমাদের সংশ্লিষ্টতা এসে যায়। এখানে আমাদের ভাবমূর্তির সঙ্গে বিষয়টি এসে যায়। কারণ এসব দোকান অনেকে খুলে থাকে চাঁদাবাজির জন্য। এগুলো আসলে চাঁদাবাজির প্রতিষ্ঠান। সবাই করে তা না, কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান আছে, এরা চাঁদাবাজি নির্ভর। চাঁদাবাজি পার্টি, এরা দলের নাম ভাঙায়। কাজেই এসব সংগঠনের কোনো প্রকার আয়োজনে, বৈঠকে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী হোক, যেটাই হোক, আমি আমাদের কেন্দ্রীয় ও দায়িত্বশীল পদের নেতাদের আহ্বান জানাব, কোনো অবস্থাতেই এসব সংগঠনের সভায় আপনারা আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থিত থাকবেন না, থাকতে পারেন না।’ এসব ভুঁইফোড় সংগঠনের অনুষ্ঠানে অতিথি না হতে কেন্দ্রীয় নেতাদেরও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
কিন্তুশনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে এ ঘটনার পর ওই দিন দুপুরে ওবায়দুল কাদের এ ঘোষনা দেবার পরেই টাঙ্গাইল পৌরসভায় রাতে এই ভুঁইফোড় সংগঠন আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌরসভার মেয়র সেখানে প্রধান অতিথি হিসাবে যোগদান করেন। এরপর থেকে শহরে আলোচনা ও সমালোচনা ঝড় উঠে।
দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা টিনিউজকে বলেন, যেখানে মূল দলের সাধারণ সম্পাদক নিষেধ করেছে যেতে। সেখানে কিভাবে একজন পৌর সভাপতি অতিথি হিসাবে যায়। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক রফিকুল ইসলাম খান টিনিউজকে বলেন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাহেব যে নির্দেশনা দিয়েছেন সে বিষয়ে মেয়র সাহেব অবগত ছিলেন না তাই তিনি গিয়েছেন। তিনি যদি জানতেন তাহলে তিনি অনুষ্ঠানে যেতেন না।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম সিরাজুল হক আলমগীরের সাথে মুটোফোনে বার বার কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেন নি।
ভুঁইফোড় সংগঠন আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগ টাঙ্গাইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান মেনন রাসেল বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা যখন ২০০৭ সালে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলায় কারাগারে ছিলেন। সে সময় নেত্রীকে কারামুক্ত করতে মেধাবী ছাত্র নেতা ও বঙ্গবন্ধুর আদর্শের নেতাদের নিয়ে ১৮ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয় এই সংগঠন। প্রিয় নেত্রীকে জেল থেকে মুক্ত করার আন্দোলনসহ বিগত ১৪ বছর সুনামের সহিত জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে কেন্দ্রীয় সভাপতি এড. আসাদুজ্জামান দূর্জয় ভাইয়ের নেতৃত্বে কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটি। আমরা তার নেতৃত্বেই কাজ করে যাবো।

ব্রেকিং নিউজঃ