টাঙ্গাইলে বেড়েছে ভর্তি, টিউশন ফি, প্রাইভেট কোচিং খরচসহ শিক্ষা উপকরণের দাম

40

এম কবির ॥
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে টালমাটাল বিশ্ব। পুরো পৃথিবীজুড়েই চাপ বেড়েছে অর্থনীতিতে। এই অর্থনৈতিক চাপেই পিষ্ট সাধারণ মানুষ। প্রতিদিনের সংসার খরচের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শিক্ষাব্যয়। সব জিনিসের মতো বই-খাতাসহ পড়ালেখার মৌলিক উপকরণের দাম বেড়েই চলেছে। কোচিং ও প্রাইভেট ফি অভিভাবকদের কাছে গলার কাঁটা হয়ে বিঁধছে। অথচ আয় বাড়েনি। তবে তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে নতুন শিক্ষাবর্ষকে কেন্দ্র করে। কারণ নতুন বছর মানেই সন্তানকে ক্লাসে ভর্তি, নতুন বই, স্কুল পোশাকসহ আরও কত খরচ। সব মিলিয়ে অভিভাবকরা চিন্তিত হয়ে পড়েছেন সন্তানের শিক্ষা ভবিষ্যৎ নিয়ে।




সরকারি স্কুলে বেতন নেওয়া হয় ১২ টাকা। কিন্তু বেসরকারি স্কুলে শিক্ষার্থীদের বেতন লাগামহীন। টাঙ্গাইলের মধ্যম সারির স্কুলে গড়ে প্রতি শিক্ষার্থীকে মাসে ৮০০ টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। গত বছরের মতো শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি একই থাকবে; নতুন বছর বাড়বে তা নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা। তাদের ধারণা, নতুন বছর তা হাজার টাকা ছাড়িয়ে যাবে। স্কুলের ক্লাসের পাশাপাশি অধিকাংশ শিক্ষার্থী এখন কোচিংমুখী। সংশ্লিষ্টরা টিনিউজকে জানান, মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তানেরা কোচিংয়ে বেশি পড়ে। করোনার পর কোচিংয়ে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি কমেছিল। কিন্তু এখন তা আবারো বেড়েছে। টাঙ্গাইলে কোচিংয়ের রমরমা বাণিজ্য। যা ছড়িয়ে পড়েছে উপজেলা এমনকি গ্রাম পর্যায়ে। এজন্য অবশ্য অভিভাবকরা ক্লাসে ভালো পড়াশুনা না হওয়ার কারণ দেখান।




এ বিষয়ে সরকারি মাধ্যমিকের শিক্ষক শাহজাহান মিয়া টিনিউজকে বলেন, ক্লাসে যে পড়াশুনা হয় না তা বলা যাবে না। আসলে অধিকাংশ অভিভাবক এখন প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সচেতন। যে কারণে ক্লাসে পাঠদান করার পরও তাদের মন ভরছে না। অধিকাংশ অভিভাবক এখন তার সন্তানকে কোচিংয়ে ভর্তি করছেন, বাসায় গৃহশিক্ষক দিচ্ছেন। বিষয়টি এখন ট্রেন্ড হয়ে দাঁড়িয়েছে। অধিকাংশ অভিভাবকের অভিযোগ, ব্যাচে সন্তানকে পড়াতে প্রতি মাসে শিক্ষককে দিতে হতো এক হাজার টাকা। এখন অধিকাংশ শিক্ষক দেড় হাজার টাকা চাচ্ছেন। এজন্য সব জিনিসের মূল্য বৃদ্ধির কারণ বলছেন তারা। অন্যদিকে কোচিংয়ে পড়াতে আগে ২ হাজার খরচ হলে এখন লাগছে তিন হাজার টাকা। ক্ষেত্রবিশেষে শিক্ষার্থীদের থেকে বেশিও নেওয়া হচ্ছে। টাঙ্গাইলের একাধিক কোচিং সেন্টার ঘুরেও এর সত্যতা পাওয়া গেছে। দেখা যায়, প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক সব পর্যায়ে কোচিং করে শিক্ষার্থীরা।




কোচিংয়ের মান ও শিক্ষকভেদে শিক্ষার্থীর থেকে নেওয়া হচ্ছে টাকা। প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের মোটামুটি মানের একটি কোচিংয়ে পড়তে প্রতিমাসে দিতে হয় ১,৫০০-৩,০০০ টাকা। মাধ্যমিক পর্যায়ে এই টাকা ক্লাস অনুযায়ী বৃদ্ধি পায়। ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণিতে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের গুনতে হয় তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা। অনেক কোচিং মান অনুযায়ী আরও বেশি নিয়ে থাকে। এছাড়া বাড়ছে শিক্ষা খরচ। বাজারে বই-খাতাসহ শিক্ষার সব উপকরণের মূল্য এখন লাগামহীন। এসব পণ্যের মূল্য কমার সম্ভাবনাও কম। টাঙ্গাইলের একাধিক অভিভাবকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শিক্ষা উপকরণ কাগজ, কলম, জ্যামিতি বক্স, ক্যালকুলেটরসহ সব সামগ্রীর দাম ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। শহরের বিভিন্ন দোকান ঘুরেও একই চিত্র দেখা গেছে। কাগজ, খাতা, পেন্সিল, ব্যবহারিক খাতা, মার্কার, স্কুল ফাইল, অফিস ফাইল, বাচ্চাদের লেখার স্লেট, ক্যালকুলেটর, সাদা বোর্ড, জ্যামিতি বক্স, টালি খাতা, কলম বক্স, স্কেল, পরীক্ষায় ব্যবহৃত ক্লিপবোর্ড, কালিসহ সব পণ্যের দাম বেড়েছে।




টাঙ্গাইল শহরের পাঁচআনী বাজারের শিক্ষা উপকরণের দোকানগুলো ঘুরে দেখা যায়, ৪০ টাকার ব্যবহারিক খাতা এখন ৫০ টাকা। কলমের দাম ডজনপ্রতি বেড়েছে ১০ থেকে ২০ টাকা। মার্কার পেন প্রতি পিসের দাম ২৫ টাকা থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ৮০ টাকার সাধারণ ক্যালকুলেটর বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়, সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর ৯৯১ এক্স ১৫০০ টাকা থেকে ১৭০০ টাকা, ৯৯১ এক্স প্লাস ১৩৫০ টাকা থেকে ১৬০০ টাকা হয়েছে। ২০০ পেজের খাতা ৬০ টাকা থেকে ১০০ টাকা, কালার পেপার রিম ৩২০ টাকা থেকে ৪২০ টাকা। মিনি ফাইল প্রতিটি ১৫ টাকা থেকে ২০ টাকা। জিপার ফাইল ২৫ টাকা থেকে ৩৫ টাকা। রেজিস্টার খাতা ৩০০ পেজ ১২০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা, ৫০০ পেজ ১৮০ টাকা থেকে ২২৫ টাকা। প্লাস্টিক ও স্টিলের স্কেল ডজনপ্রতি ২০ টাকা থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে। রাবার ডজনপ্রতি ১০ টাকা থেকে ২০ টাকা বেড়েছে।
অভিভাবকরা টিনিউজকে জানান, খাতা-কলম কেনার দোকানে যা কিনতে চাই তার দামই বেশি। বইয়ের দোকানে দাম শুনলে মনে হয় সেখানেও আগুন লেগেছে। ফটোকপির খরচ দ্বিগুণ হয়েছে।

 

 

ব্রেকিং নিউজঃ