টাঙ্গাইলে বেড়েছে ধর্ষণ যৌন নির্যাতন ॥ সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়

140

কাজল আর্য ॥
টাঙ্গাইলে সম্প্রতি বেড়েছে ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতন। জেলায় এপ্রিল মাসে বেশকয়েকটি আলোচিত ধর্ষণ, ধর্ষণ চেষ্টা ও শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটেছে। এতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ। এই ঘটনাগুলো সামাজিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতার চরম অবক্ষয়ের উদাহরণ হিসেবে দেখছেন সুশীল সমাজ। তবে ভূক্তভোগীরা বলছেন যথাযথ বিচার হলে এই ধরণের ঘটনা কমে যেত। এসব বিষয়ে দায়েরকৃত মামলায় পুলিশ অধিকাংশ অভিযুক্তদের আটক করেছে। অনেকে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।
এপ্রিলে আলোচিত ঘটনাগুলোর মামলা সূত্রে জানা যায়, জেলার গোপালপুরে নানার বাড়ি বেড়াতে আসা চাচাতো ভাই কর্তৃক এক পাকিস্তানি কিশোরী (১৭) অপহরণ ও ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ওই কিশোরীর মা গত (১৭ এপ্রিল) বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ ধর্ষক আল আমিন, তার ভাই সুমন ও মা আনোয়ারা বেগমকে গ্রেফতার ও অপহৃত পাকিস্তানী কিশোরীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছে। এ ঘটনার মূল আসামি উত্তর গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা আবুল হোসেনের বখাটে ছেলে আল আমিন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
গোপালপুরে সিনেমায় নায়িকা বানানোর প্রলোভন দেখিয়ে কলেজ ছাত্রীকে (১৯) আটকে রেখে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ফারুক শিকদার আকাশকে আটক করেছে পুলিশ। সে ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার মাইটকুমরা গ্রামের কাইয়ুম শিকদারের ছেলে। এ ঘটনায় গত (১৪ এপ্রিল) রাতে গোপালপুরের ভোলারপাড়া গ্রাম থেকে ছাত্রীকে উদ্ধার করে ধর্ষককে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে দেয় এলাকাবাসী। পরদিন মেয়ের বাবা বাদি হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।
সখীপুরে প্রেমিকের সামনে প্রেমিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ধর্ষণের প্রধান আসামী সাদ্দামকে (২৭) গ্রেফতার করেছে র‌্যাব সদস্যরা। গত (৫ এপ্রিল) ভোরে টাঙ্গাইল নতুন বাসস্ট্যান্ড থেকে তাকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইল র‌্যাব-১২ সিপিসি-৩ এর কোম্পানী কমান্ডার শফিকুর রহমান। এদিকে সখীপুরে বিধবা নারী নাজমা (৪২) হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। ৬ জন মিলে পালাক্রমে ধর্ষণের পর তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা হয়। গত বছরের (৫ অক্টোবর) নিজ বাড়ীর টয়লেটের ভেতর থেকে নাজমার অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। চলতি বছরের (২০ এপ্রিল) হত্যা মামলায় আলমগীরকে গ্রেফতারের পর এসব তথ্য বেরিয়ে আসে। এদিকে গত (২৩ এপ্রিল) সখীপুরে ছাত্রীকে শ্লীলতাহানীর অভিযোগে মিজানুর রহমান নামের এক শিক্ষককে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। সে উপজেলার লাঙ্গুলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক।
টাঙ্গাইল শহরে গত (১২ এপ্রিল) নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকার ডিসি লেকসহ বিভিন্নস্থানে নিয়ে স্বামীকে আটকে রেখে পোশাক শ্রমিক স্ত্রীকে গণধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় রাতেই ধর্ষিতা স্বামী বাদী হয়ে টাঙ্গাইল সদর মডেল থানা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৮ জন আসামীর মধ্যে ৬ জনকে আটক করেছে। ৬ জনের মধ্যে ৩ জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। অন্য ৩ জনকে রিমান্ড শেষে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।
নাগরপুরে গত (১৪ এপ্রিল) প্রেমিকাকে বৈশাখী মেলায় বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে কৌশলে বন্ধুর বাড়িতে নিয়ে এক ছাত্রীকে (১৬) ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ধর্ষণকারী ও ধর্ষণে সহযোগিতাকারীকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আটক করে পুলিশ। অভিযুক্তরা হলো- উপজেলার বেকড়া গ্রামের মৃত আব্দুর রউফের ছেলে মোবারক হোসেন (২০) ও তার সহযোগি একই উপজেলার চৌবাড়িয়া গ্রামের মৃত আব্দুল মিয়ার ছেলে রাজিব মিয়া কালু (২২)। পরে ধর্ষিতার বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন।
কালিহাতী পৌরসভার উত্তর বেতডোবায় ধর্ষণের শিকার হয়ে ৯ মাসের অন্ত:সত্বা সপ্তম শ্রেণির এক হিন্দু ছাত্রী। পরে গ্রাম্য সালিশে ওই ছাত্রীকে গ্রামছাড়া করা হয়। বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমে এলে ধর্ষিতার মা বাদী হয়ে কালিহাতী থানায় মামলা দায়ের করেন।
এদিকে কালিহাতীর এলেঙ্গাতে তৃতীয় শ্রেণির মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। গত (২৩ এপ্রিল) এ বিষয়ে কালিহাতী থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। হোটেল ব্যবসায়ী মাহবুব হোসেনের ছেলে অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এছাড়া কালিহাতীর নারান্দিয়ায় চতুর্থ শ্রেণির এক হিন্দু ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। ঘটনার দেড় মাস অতিবাহিত হলেও ফরমান আলীর ছেলে আসামী বখাটে রাসেল মিয়াকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
দেলদুয়ারে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনায় থানায় মামলা করেছেন ওই ছাত্রীর মা। উপজেলার কোপাখি গ্রামের সেলিম মিয়ার ছেলে অভিযুক্ত কাইয়ুম পাখির বাসা দেখানোর কথা বলে ছাত্রীটিকে বাগানে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। পুলিশ আসামীকে এখনো গ্রেফতার করতে পারেনি।
ভূঞাপুরে গত (১ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার গাবসারা ইউনিয়নে বাসুদেবকোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল খালেকের বিরুদ্ধে ৪র্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া এক শিক্ষার্থীকে কুপ্রস্তাব ও শরীরে আপত্তিকর স্থানে হাত দেয়ার অভিযোগ উঠে। এ ঘটনায় গত (৭ এপ্রিল) দুপুরে ওই শিক্ষার্থী প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ এবং শিক্ষার্থীর পরিবার থেকে ভূঞাপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
ভূঞাপুরে মেয়েদের উত্ত্যক্ত ও শরীরে বডি স্প্রে দেয়ার অপরাধে পাঁচ ইভটিজারকে অর্থদন্ড ও অনাদায়ে কারাদন্ড প্রদান করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্যাট ঝোটন চন্দ।
ধনবাড়ীতে স্কুল ছাত্রকে অপহরণ করে যৌন নির্যাতন ও মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে তিন যুবক। ওই স্কুলছাত্র ধনবাড়ী সরকারি নওয়াব ইন্সটিটিউশনের নবম শ্রেণির ছাত্র। এ ঘটনায় স্কুল ছাত্রের বড় ভাই বাদী হয়ে থানায় মামলা করলে গত (২৪ এপ্রিল) পুলিশ তিন বখাটেকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে। এদিকে ধনবাড়ীতে ৪ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে ওয়াসিম নামের এক মাদকাসক্ত যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত (২৭ এপ্রিল) তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওই মেয়েটির মা বাদী হয়ে ধনবাড়ী থানায় মামলা করেছে।
টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে স্কুল ছাত্রীকে (১৪) জোরপূর্বক ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে দুই সন্তানের জনক সোহেল রানার বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে ধনবাড়ী উপজেলার পাইস্কা ইউনিয়নের দড়িচন্দবাড়ী চরপাড়া গ্রামের সোহেল রানার মুদি দোকানে। ধর্ষণের শিকার মেয়েটি স্থানীয় একটি বালিকা উচ্চ বিদ্যলয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। ধর্ষক সোহেল রানা দড়িচন্দবাড়ী চরপাড়া গ্রামের আয়নাল হকের ছেলে।
এ ঘটনায় পুলিশ ধর্ষক সোহেল রানাকে গ্রেফতার করে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মঙ্গলবার (৭ মে) আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে। এছাড়া ওই স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছে। এ ব্যাপারে স্কুল ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে ধনবাড়ী থানায় সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেছে।
ধনবাড়ী থানা পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ধনবাড়ী উপজেলার একটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ূয়া ওই স্কুলছাত্রী সোমবার (৬ মে) ভোরে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বাড়ীর বাইরে গেলে পার্শ্ববর্তী দড়িচন্দবাড়ী চরপাড়া গ্রামের আয়নাল হকের ছেলে মুদি দোকানদার সোহেল রানা তাকে ঝাপটে ধরে গামছা দিয়ে মুখ বেঁধে তার মুদি দোকান ঘরে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ অবস্থায় মেয়েটি ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে মুখের বাঁধন খুলে ডাক চিৎকার দিলে পার্শবর্তী লোকজন এগিয়ে এসে মেয়েটিকে উদ্ধার করে। খবর পেয়ে ধনবাড়ী থানা পুুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ধর্ষক সোহেল রানাকে গ্রেফতার করে।
এ ব্যাপার ধনবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবর রহমান টিনিউজকে জানান, এ ঘটনায় ওই স্কুলছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে মামলা করেছে। ধর্ষক সোহেল রানাকে গ্রেফতার করে মঙ্গলবার (৭ মে) আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে। এছাড়া মেয়েটিকে উদ্ধার করে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার পারখী ইউনিয়নের পূর্বাসিন্দা গ্রামে স্কুল ছাত্রীর ধর্ষক ও সহায়তাকারীকে পুলিশ আটক করে জেলহাজতে পাঠিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২ মে) রাতে বিষয়টি মীমাংসার জন্য স্থানীয় ইউপি সদস্য কদ্দুস ও আওয়ামী লীগ নেতা খসরু ও মাতাব্বর সাইফুল ইসলাম শালিসের মাধ্যমে ৪ লাখ টাকা জরিমানা করে। হুমকি ধামকি দিয়ে ধর্ষিতা পরিবারকে গ্রামছেড়ে অন্যত্র স্থানে রাখার সিদ্ধান্ত নেয় তারা। এ ঘটনা (৬ মে) টাঙ্গাইলের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল টিনিউজবিডি.কম এ সংবাদ প্রকাশ হলে এলাকায় তোলপাড় হয়ে পড়ে।
সংবাদ প্রকাশের পর পুলিশ প্রশাসনের টনক নড়ে। পুলিশ সালিশের মাতাব্বরদের চাপ দিয়ে তাদের সহযোগিতায় পুলিশ ধর্ষিতা পরিবারের লোকজনকে উদ্ধার করে মামলা নেয়। মঙ্গলবার (৭ মে) ভোর রাতে পুলিশ ওই ধর্ষিতা ছাত্রীর ধর্ষণকারী ও গর্ভপাত নষ্টকারীকে আটক করে। আটককৃতরা হলো- পারখী ইউনিয়নের পূর্বাসিন্দা গ্রামের রায় মোহনের ছেলে রাম প্রসাদ (২০) ও ধর্ষকের ফুফাতো বোন রত্না সূত্রধর (২৫)। ধর্ষিতার বাবা বাদি হয়ে রাম প্রসাদ ও রত্না রানীকে আসামী করে থানায় মামলা করেছে।
ধর্ষিতার বাবা টিনিউজকে জানান, স্কুলে যাওয়া-আসার পথে আমার নাবালিকা পঞ্চম শ্রেনীর ছাত্রীকে ফুসলিয়ে প্রেমের ফাঁদে ফেলে রাম প্রসাদের ফুফাতো বোনের ঘরে একাধিকবার ধর্ষণ করে। ফলে আমার মেয়ে অন্ত:সত্ত্বা হয়ে পড়ে। ধর্ষক রাম প্রসাদ কৌশলে তার ফুফাতো বোন রত্না রানীর সহযোগিতায় গর্ভপাত নষ্ট করার জন্য ওষুধ খাওয়ায়। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় ইউপি সদস্য কদ্দুস, ওই ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের সভাপতি খসরু ও মাতাব্বর সাইফুল সালিশের আয়োজন করেন।
এ বিষয়ে কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন টিনিউজকে বলেন, ধর্ষিতাকে মেডিকেল করার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় ধর্ষিতার বাবা থানায় মামলা দায়েরের পর ধর্ষক রাম প্রসাদ ও সহযোগী রত্নাকে আটক করে টাঙ্গাইল আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
সম্প্রতি টাঙ্গাইলে এসব ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ। ভূক্তভোগীদের অভিযোগ যদি ধর্ষণ মামলার দোষীদের দ্রুত ও যথাযথ বিচার সম্পন্ন হতো তাহলে এসব ঘটনা করার সাহস পেতো না। এগুলো কমে যেতো। এসব বিষয়ে কথা হয়, বঙ্গের আলীগড় খ্যাত টাঙ্গাইলের সরকারি সা’দত বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর শহীদুজ্জামান মিয়ার সাথে। তিনি টিনিউজকে বলেন, সামাজিক মূলবোধ ও নৈতিকতার অবক্ষয়ের জন্যই ধর্ষণের মতো জঘন্য ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে। সেইসাথে মাদক ও ইন্টারনেটের কু-ব্যবহার বৃহৎভাবে দায়ী। এতে আমাদের প্রজন্ম ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এখন থেকেই যথাযথ পারিবারিক, সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সুশিক্ষার প্রয়োজন। বিচার ব্যবস্থায় পরিবর্তনও দরকার। এই ব্যাধি থেকে মুক্তি পেতে হলে সমাজের সকলকে সচেতন ও প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া টিনিউজকে বলেন, ধর্ষণ বর্তমানে একটি ভয়াবহ ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। ঘটনা ঘটার অনেক পরে এ সংক্রান্ত মামলা রজু হয়। তাই অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবুও টাঙ্গাইলে সম্প্রতি যেসকল ধর্ষণ ও ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। আমরা অধিকাংশ মামলার আসামীদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। আসামীরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে। অভিযুক্ত কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।

ব্রেকিং নিউজঃ