টাঙ্গাইলে বেড়েই চলছে চোখ ওঠা রোগী ॥ ড্রপ সংকট দ্বিগুণ দামেও না মিলছে

74

হাসান সিকদার ॥
টাঙ্গাইলে বেড়েই চলছে চোখ ওঠা রোগীর সংখ্যা। সরকারি হাসপাতালের আউটডোরে সেবা নিতে আসা প্রায় ৯০ ভাগ রোগী চোখ ওঠা। এদিকে হাসপাতালসহ বাজারে দেখা দিয়েছে চোখের ড্রপের সংকট। দ্বিগুণ দামেও পাওয়া যাচ্ছে না ড্রপ। অপরদিকে বেড়েছে কালো চশমার কেনাবেচা। ছোঁয়াচে রোগ হওয়ার কারণে এবার চোখ ওঠা রোগের প্রকোপ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।


(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

সরেজমিনে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা যায়, রাস্তায় অসংখ্য মানুষ কালো চশমা পড়ে যাতায়াত করছেন। এদিকে হাসপাতালেও একই চিত্র দেখা গেছে। প্রতিবছর গ্রীষ্মকালে চোখ ওঠা রোগের দেখা মিললেও এবার শরতে প্রভাব বেড়েছে। রোগীদের চোখের পাতা ফুলে লাল, চোখ থেকে অনবরত পানি ঝরছে। রোগীরা চোখের যন্ত্রণায় অসহ্য হয়ে যাচ্ছেন। জেলা শহর থেকে শুরু করে উপজেলা, প্রত্যন্ত গ্রামেও ছড়িয়ে গেছে এ রোগের সংখ্যা।

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, বয়স্ক থেকে শিশু পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে শতাধিক চোখের রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন হাসপাতালে। জেলার অন্যান্য সরকারি হাসপতালগুলোরও একই দৃশ্য মিলে। অনেকেই পাচ্ছেন না ড্রপ। ফলে বিপাকে পড়ছেন রোগীরা। ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই বাইরের ফার্মেসি থেকে ড্রপ কিনে ব্যবহার করছেন রোগীরা।


(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

আবু সাঈদ নামের অনার্স পড়–য়া এক ছাত্র বলেন, আমি সাত দিন ধরে চোখের সমস্যায় ভুগছি। হাসপাতালে গিয়ে অসংখ্য রোগী দেখে পরে চলে আসি। বাইরেও যাই কালো চশমা পড়ে। ড্রপ দিয়েও তেমনটা কাজে আসছে না।
সাজ্জাদ মিয়া নামের এক দিনমুজুর বলেন, সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি দুচোখ লাল। তাকাতে পারছি না। বাড়ির আরো কয়েকজনেরও একই অবস্থা। আমি একাধিক ঔষধের দোকানে ঘুরেছি। ড্রপ পাওয়া যায় না।

টাাঙ্গাইল শহর ও উপ-শহর এলেঙ্গার একাধিক ঔষধের দোকানে গিয়ে জানা যায়, অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে চোখের ড্রপ। আবার সরবারহ না থাকার অজুহাতে রোগীদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অসাধু ব্যবসায়ীরা ৩০-৫০ টাকার ড্রপ ৬০-১৪০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করছেন।


(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা লুৎফর রহমান আজাদ বলেন, চোখ ওঠা রোগটি মূলত ছোঁয়াচে ও ভাইরাসের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়। এবার প্রাদুর্ভাব বেশি। হাসপাতালের আউটডোরে সেবা নিতে আসা ৯০ ভাগ রোগী চোখের। এতো বেশি রোগী হওয়ায় হাসপাতালের ড্রপ স্টক শেষ হয়ে গেছে। বাজারেও দেখা দিয়েছে সংকট। ফলে অনেক রোগীরা আরো ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।


(adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});

এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন মোহাম্মদ মিনহাজ উদ্দিন জানান, চোখে ভাইরাস আক্রান্তদের সচেতনতা বাড়াতে হবে। সব সময় হাত পরিষ্কার রাখতে হবে। চোখে বারবার হাত দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

ব্রেকিং নিউজঃ