শনিবার, আগস্ট 8, 2020
Home টাঙ্গাইল টাঙ্গাইলে বিদ্যুৎতে কর্মরত রুবেলের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাৎতের অভিযোগ

টাঙ্গাইলে বিদ্যুৎতে কর্মরত রুবেলের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাৎতের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার পোড়াবাড়ী ইউনিয়নের বাউসাইদ খারজানা উত্তর পাড়া গ্রামের মেছের আলীর ছেলে রুবেল রানার (২৫) বিরুদ্ধে এক লাখ টাকা আত্মসাৎতের অভিযোগ উঠেছে। রুবেল রানা বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২ টাঙ্গাইল কচুয়াডাঙ্গা বিদ্যুৎ অফিসে সহকারী হেলপার হিসেবে কর্মরত আছেন। প্রায় ৫ বছর যাবৎ সে বিদ্যুৎ অফিসে কর্মরত আছে। প্রায় আট মাস পূর্বে বিদ্যুৎ লাইনের বাঁশ/সিমেন্টের খুঁটি ও তার সংযোগ দেয়ার কথা বলে গ্রামবাসীর কাছ থেকে তিনি টাকা আদায় করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী গ্রামবাসীরা টাঙ্গাইল সার্কেলের অন্তর্গত-২ বিউবো, টাঙ্গাইল দপ্তরের আওতাধীন ১১ কেভি বেলতা ফিডারের অধীন বাউসাইদ এলাকার বিভিন্ন শ্রেণীর বিদ্যুৎ গ্রাহক। গ্রামে দীর্ঘদিন যাবৎ বিদ্যুৎ লাইনের বাঁশ/সিমেন্টের খুঁটি ও নিম্নমানের তার ব্যবহার করার কারণে নানাবিধ সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। বিদ্যুৎ লাইনে বাঁশের খুঁটি থাকার কারণে খুঁটি ভেঙ্গে তার ছিড়ে মাঝে মধ্যেই দূর্ঘটনা ঘটে থাকে। গ্রামবাসীরা আরও অভিযোগ করেন, ইরি মৌসুমে লো-ভোল্টেজ সমস্যার কারণে সেচ মেশিন চালানো খুবই কষ্টকর হয়ে পড়ে। উপরোক্ত বিষয়ে বিদ্যুৎ লাইন মেরামতের জন্য বিবিবি-২ কচুয়াডাঙ্গা, টাঙ্গাইল অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে একাধিকবার সাক্ষাৎ করেও কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে গ্রামবাসী বিদ্যুৎ অফিসে মাষ্টার রোলে কর্মরত রুবেল রানার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি ট্রান্সমিটার, বিদ্যুৎ খুঁটি ও তার বাবদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দাবী করে লাইন মেরামতের আশ্বাস দেন। অসহায় গ্রামবাসী রুবেল রানাকে বিশ্বাস করে ১ লাখ টাকা প্রদান করলেও দীর্ঘদিন অতিবাহিত হওয়ার পরও কাজের কোন অগ্রগতি মেলেনি। গ্রামবাসী রুবেল রানার সাথে বারবার যোগাযোগ করলেও তিনি কোন প্রকার কর্নপাত করেননি।
এ ব্যাপারে পরিচালনা ও সংরক্ষন সার্কেল বিউবো, টাঙ্গাইলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কাছে কৃষি আবাদ রক্ষার্থে বাঁশ/সিমেন্টের খুঁটি ও নিম্নমানের তার পরিবর্তন করে নতুন খুঁটি ও তার সংযোগসহ বিদ্যুৎ লাইন মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান গ্রামবাসী। এলাকার ভুক্তভোগি আতিকুর রহমান, শহর চাঁন মিয়া, জাকির হোসেন, জিন্নত ব্যাপারি ও আঁখলিমা বেগম টিনিউজকে বলেন, আমরাতো গ্রামের সহজ-সরল সাধারণ মানুষ। বিদ্যুৎ লাইন সম্পর্কে তো এতো সতো বুঝি না। রুবেল গ্রামের ছেলে, সে বিদ্যুৎ লাইনের কাজ করে। তাই লাইনের ব্যাপারে তাকে জানাই। তখন রুবেল আমাদের কাছ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা চায়। কিন্তু আমরা সবাই মিলে তাকে ১ লাখ টাকা দেই। টাকা নেয়ার পর সে বলেছিল, কিছুদিনের মধ্যে লাইন লাগিয়ে দিবে। কিন্তু গত সাত/আট মাস হয়ে গেল। এখন পর্যন্ত খুঁটি ও বিদ্যুৎ লাইন লাগিয়ে দেয়নি। গ্রামবাসীরা আরও বলেন, এখন আমরা ক্ষেতে পানি দিতে পারছি না। ক্ষেতগুলো মরে যাচ্ছে পানি না দেয়ার কারণে। আমাদের ১৭/১৮টা স্কিম মেশিন চালাতে হয়। বিদ্যুৎ না থাকার কারণে সবগুলো মেশিন এখন বন্ধ আছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে রুবেল রানা টিনিউজকে জানান, আমি গ্রামবাসীর নিকট থেকে ১ লাখ টাকা নিয়ে শামছুল আলম নামে এক ঠিকাদারকে দিয়েছিলাম। অফিস সূত্রে জানা যায়, শামছুল আলম হলেন মেসার্স খান পাওয়ার প্রতিষ্ঠানের ঠিকাদার। তিনি টাঙ্গাইলের বিসিক তারুটিয়ায় বসবাস করেন।
এ বিষয়ে মুঠোফোনে ঠিকাদার শামছুল আলমকে এ বিষয়ে ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি টিনিউজকে বলেন, রুবেল রানার কাছ থেকে কোন প্রকার টাকা তিনি পায়নি।
এ ব্যাপারে বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২ টাঙ্গাইল কচুয়াডাঙ্গা বিদ্যুৎ অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী শামীম আহমেদ সাংবাদিকদের কাছে কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে পরিচালনা ও সংরক্ষণ সার্কেল বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী তোফাজ্জল হোসেন প্রামানিক টিনিউজকে বলেন, আমি গ্রামবাসীর কোন লিখিত অভিযোগ পাইনি। গ্রামবাসী আমাকে লিখিত অভিযোগ করলে সরেজমিনে গিয়ে যদি প্রমান পাই। তাহলে এর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

ব্রেকিং নিউজঃ