টাঙ্গাইলে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ॥ গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে

83

হাসান সিকদার ॥
টাঙ্গাইলে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। শহর থেকে গ্রামাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গুর প্রভাব। প্রতিদিনই হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন নতুন নতুন রোগী। টাঙ্গাইল জেলা সদর হাসপাতালসহ উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোয় ভর্তি থাকা রোগীর সংখ্যা ১৪ জন। দেখা গেছে, মহিলার চেয়ে পুরুষরা ডেঙ্গু রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন।




টাঙ্গাইল জেলা সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত এক সাত দিনে জেলার হাসপাতালগুলোয় ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন মোট ১৪২ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১২৮ জন। বর্তমানে হাসপাতালগুলোতে ভর্তি থাকা ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ১৪ জন। সূত্র আরও জানায়, টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ৬৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছিলেন। এর মধ্যে ৬১ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন, চিকিৎসা নিচ্ছেন ৫ জন। নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১১ জন ভর্তি হয়েছিলেন, এর মধ্যে ১০ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন এবং একজন চিকিৎসা নিচ্ছেন। সখীপুরে ৯ জন ভর্তি হয়েছিলেন, এর মধ্যে সাতজন ছাড়পত্র পেয়েছেন এবং দুইজন চিকিৎসা নিচ্ছেন। কালিহাতীতে তিনজন ভর্তি হয়েছিলেন, সবাই ছাড়পত্র পেয়েছেন। ঘাটাইলে দুইজন ভর্তি হয়েছিলেন, সবাই ছাড়পত্র পেয়েছেন। মধুপুরে ৩৫ জন ভর্তি হয়েছিলেন, এর মধ্যে ৩১ জন ছাড়পত্র পেয়েছেন এবং চারজন চিকিৎসা নিচ্ছেন। ভূঞাপুরে তিনজন ভর্তি হয়েছিলেন, এর মধ্যে একজন ছাড়পত্র পেয়েছেন এবং দুইজন চিকিৎসা নিচ্ছেন। গোপালপুরে পাঁচজনই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। ধনবাড়ীতে আটজনই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।




ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীরা টিনিউজকে বলেন, বাড়ির আশপাশে মশার উপদ্রব বেড়েছে। হঠাৎ করে জ্বর আসলে চিকিৎসকের পরামর্শে রক্ত পরীক্ষা করলে ডেঙ্গু রোগ ধরা পড়ে।




টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. লুৎফর রহমান টিনিউজকে বলেন, বর্তমানে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। তবে এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছুই নেই। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি মানুষের ঘরবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং জমানো পানি পরিষ্কার রাখতে হবে। যাতে করে ডেঙ্গু বিস্তার করতে না পারে। ডেঙ্গু রোগীর মূল লক্ষণ হলো- তীব্র জ্বর, মাথা, শরীর এবং হাড়ে ব্যাথা থাকবে। লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুতই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।




এ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা সিভিল সার্জন ডা. মিনহাজ উদ্দিন মিয়া টিনিউজকে বলেন, মশা উৎপাদনের স্থান নষ্ট করতে পারলে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কম। ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিকে মশারির ভেতরে থাকতে হবে। রক্তক্ষরণের লক্ষণ না থাকলে আক্রান্ত রোগী বাসাতেই চিকিৎসা নিতে পারবেন।

 

 

 

ব্রেকিং নিউজঃ