বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর 24, 2020
Home টাঙ্গাইল টাঙ্গাইলে বন্যায় ১০ হাজার ৭৪ হেক্টর ফসলী জমি নিমজ্জিত

টাঙ্গাইলে বন্যায় ১০ হাজার ৭৪ হেক্টর ফসলী জমি নিমজ্জিত

জাহিদ হাসান ॥
টাঙ্গাইলে যমুনা নদীর পানি কমলেও অন্যন্য নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফলে জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতি হচ্ছে। জেলায় এখন পর্যন্ত ৯টি নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার ১১টি উপজেলা বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। তবে নদী তীরবর্তী চরাঞ্চলের গ্রামগুলো নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে। এতে নতুন করে একের পর এক রাস্তা-ঘাট ও ব্রিজ পানির স্রোতে ভেঙে যাচ্ছে। নিমাঞ্চল ও চরাঞ্চলের ঘড়-বাড়ি, ফসলী জমি বন্যার পানিতে তলিয়ে আছে। গ্রাম ছাড়াও বিভিন্ন উপজেলার পৌর এলাকায় বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। বন্যা দুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। এছাড়া ত্রাণ সহায়তাও পাচ্ছে না অনেকেই বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে বন্যা কবলিত মানুষের মধ্যে বাড়ছে দুর্ভোগ। বন্যায় জেলায় এখন প্রায় ৫ লক্ষাধিক মানুষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন আড়াই ২ লক্ষাধিক মানুষ। হুমকির মুখে রয়েছে বিভিন্ন এলাকার রক্ষাবাধ। আর তৃতীয় দফার বন্যায় ১০ হাজারের উপরে হেক্টর ফসলী জমি নিমজ্জিত হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিস সূত্র জানায়, জেলায় ১২টি উপজেলার মধ্যে ১১টি উপজেলার নিমাঞ্চল এবং চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বন্যা কবলিত উপজেলাগুলো হলো- টাঙ্গাইল সদর, নাগরপুর, দেলদুয়ার, ভূঞাপুর, কালিহাতী, ধনবাড়ী, গোপালপুর, বাসাইল, মির্জাপুর, সখীপুর এবং ঘাটাইল। এই ১১ উপজেলার ৮৩টি ইউনিয়নের অন্তত ৬৫২টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। অপরদিকে ৬টি পৌরসভা আংশিক এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বন্যায় ৫ লাখ ১২ হাজার ৪২১ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানিবন্দি পরিবারের সংখ্যা ৫৭ হাজার ৪৯টি। আর পানিবন্দি লোক সংখ্যা ২ লাখ ৭৮ হাজার ১৯৬ জন। অপরদিকে ৭৬১টি ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে এবং আরো আংশিক ৩০ হাজার ৫০৫টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও ২টি স্কুল নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আংশিক আরো ৮৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এছাড়া নদী ভাঙনে ১টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত এবং আংশিক ৮৭টি প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ১১ উপজেলার ৬৪১ বর্গ কিলোমিটার এলাকা প্লাবিত হয়েছে। সূত্র আরো জানায়, জেলায় এখন পর্যন্ত ২ কি.মি. সম্পূর্ণ কাচা রাস্তা এবং আংশিক ৬৯৩ কি.মি. কাঁচা রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অপরদিকে ১৬০ কি.মি. পাকা রাস্তা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও সম্পূর্ণ ৭টি ব্রিজ এবং আংশিক ৪৯টি ব্রিজ ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে টিউওবেল ৭৯৪১টি এবং ৫.৩ কি.মি. আংশিক নদীর বাঁধ ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া জেলায় মোট ৪৫টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা রয়েছে। এই আশ্রয় কেন্দ্রের লোক সংখ্যা ৩ হাজার ৪৬৫ জন। ১৮টি গবাদি পশুও আশ্রয় নেয়। ১১৩টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে।
এছাড়া জেলায় ৯০০ মে.টন জির চাল, নগদ ১৩ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। অপরদিকে শিশু খাদ্য ২ লাখ টাকা এবং গো-খাদ্য ৯ লাখ টাকা এবং শুকনা প্যাকেট ১০ হাজার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এগুলো বিতরণ কার্যক্রম অব্যহত রয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এদিকে বন্যার পানিতে ডুবে এখন পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে শিশুসহ ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
জেলা কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, প্রথম দফায় বন্যায় টাঙ্গাইলে ৩ হাজার ৮৩৯ হেক্টর ফসলী জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ২৭ হাজার ২৩৩ জন। আর দ্বিতীয় দফায় বন্যায় এখন পর্যন্ত ১০ হাজার ৭৪ হেক্টর ফসলী জমি নিমজ্জিত হয়েছে। এর মধ্যে বোনা আমন, রোপা আমন (বীজতলা), আউশ, সবজি, লেবু এবং আখ রয়েছে।
এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম টিনিউজকে বলেন, বিভিন্ন এলাকার রক্ষাবাধ ভাঙন রোধে কাজ করা হচ্ছে। পানি সরে গেলে নদী ভাঙন তীব্র হবে।

ব্রেকিং নিউজঃ