রবিবার, সেপ্টেম্বর 20, 2020
Home এক্সক্লুসিভ টাঙ্গাইলে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ ৬৪৩ প্রাথমিক বিদ্যালয় ॥ তিনটি নদীতে বিলীন

টাঙ্গাইলে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ ৬৪৩ প্রাথমিক বিদ্যালয় ॥ তিনটি নদীতে বিলীন

স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলে এবার দীর্ঘস্থায়ী বন্যায় জেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় সাত কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হুমকির মুখে রয়েছে আরও অন্তত ১১টি বিদ্যালয়। যে কোনো সময় এগুলোও বিলীন হয়ে যেতে পারে।
টাঙ্গাইল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার বন্যায় জেলার এক হাজার ৬২৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৬৪৩টির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেক বিদ্যালয় পানিতে ডুবে গেছে। নিমজ্জিত থাকায় মাটি নরম হয়ে অনেক বিদ্যালয় দেবে গেছে। কোনোটির দেয়াল দেবে গেছে, আবার কোনোটির মেঝে ফেটে গেছে। বিদ্যালয়ের মাঠগুলোতে পানির স্রোতে পাঁচ থেকে সাত ফুট গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে নির্মিত ৬৫টি বিদ্যালয়েরও বেশ ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ এসব বিদ্যালয় মেরামত ও নির্মাণ করতে প্রায় সাড়ে ছয় কোটি টাকা খরচ হবে বলে জানিয়েছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। ইতোমধ্যে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস ৬৪৩টি বিদ্যালয়ের ক্ষতি নিরূপণ করে প্রায় সাড়ে ছয় কোটি টাকার একটি হিসাব প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠিয়েছে।
এর মধ্যে ঘাটাইলের ৪১টি বিদ্যালয়ের মেরামতের জন্য প্রায় ২৭ লাখ টাকা, গোপালপুরে ৬৩টির জন্য ৩২ লাখ, বাসাইলে ৫১টির জন্য ৯ লাখ, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ১০১টির জন্য ৩৮ লাখ, দেলদুয়ার উপজেলার ৭২টির জন্য ৪৪ লাখ, মির্জাপুরের ৬৮টির জন্য ৪১ লাখ, কালিহাতীর ১০২টির জন্য এক কোটি ৪০ লাখ, নাগরপুরে ৮৪টির জন্য ৫১ লাখ, ভূঞাপুরের ৪৯টির জন্য এক কোটি তিন লাখ এবং সখিপুরে সাতটি বিদ্যালয় মেরামতের জন্য ৩৩ লাখ টাকার চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। এছাড়া নাগরপুর উপজেলার সলিমাবাদ ইউনিয়নের গোবিন্দপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাইকশা মাইঝাল পশ্চিমপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পাইকশা মাইঝাল প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এর মধ্যে একটি বিদ্যালয় নতুনভাবে নির্মাণের জন্য এক কোটি ২০ লাখ টাকার চাহিদাপত্র প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পাঠানো হয়েছে। যে কোনো সময় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে ভুঞাপুরের চরচন্দুনী প্রাথমিক বিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ প্রাথমিক বিদ্যালয়, রেহাইমেঘারপটল প্রাথমিক বিদ্যালয়, শুশুয়ারচর পূর্ব প্রাথমিক বিদ্যালয়, গোবিন্দপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইনছাব আলী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাসুদেবকোল প্রাথমিক বিদ্যালয়, রামপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফলদা প্রাথমিক বিদ্যালয়, কালিহাতী উপজেলার বেলুটিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় ও রানিহাটি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়গুলো রক্ষার পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল আজিজ টিনিউজকে বলেন, এবার বন্যার পানি বেশিদিন অবস্থান করায় ক্ষয়ক্ষতিও বেশি হয়েছে। নাগরপুরে দুটি বিদ্যালয় আগেই বিলীন হয়েছে। এবার ভেঙে গেছে একটি। স্থান নির্ধারণ না হওয়ায় আগের দুটি বিদ্যালয় নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। ভেঙে যাওয়া বিদ্যালয়টির জন্য বরাদ্দ চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ সব বিদ্যালয় মেরামতের জন্য এক মাসের মধ্যে বরাদ্দ পাওয়া যাবে বলে আশা করছেন তিনি।

 

ব্রেকিং নিউজঃ