টাঙ্গাইলে বন্ধ থাকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লতাগুল্ম ও পোকামাকড়ের বাসা

95

এম কবির ॥
বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রভাবে গত বছরের মার্চ মাস থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো একটানা বন্ধ থাকায় জেলার অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান অযত্ন অবহেলায় পড়ে আছে। স্যাঁতসেঁতে হয়ে আছে শ্রেণিকক্ষের মেঝে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের চেয়ার-টেবিল ও আসবাবপত্রে পড়ে আছে ধুলাবালু ও ময়লার স্তর। অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের আনাচে-কানাচে মাকড়সা ও পোকামাকড় বাসা বেঁধে আছে।
এছাড়া করোনা কেড়ে নিয়েছে চিরচেনা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর কোলাহল মুখরতা। শিক্ষার্থীদের প্রিয়প্রাঙ্গণ এখন যেন ময়লা-আবর্জনা, ঝোপঝাড় আর লতাগুল্মের দখলে চলে গেছে। টাঙ্গাইল শহরে ও জেলার কয়েকটি এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর এমনই দৃশ্য দেখা গেছে। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, প্রাণঘাতি করোনার প্রভাবে বন্ধ থাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন কোলাহলহীন নির্জন স্থাপনার মতো পড়ে আছে। কিছু কিছু স্কুলের আঙ্গিনা ও খেলার মাঠ ঘাস-লতাগুল্মে ভরা। বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের নিচতলার মেঝের স্যাঁতসেঁতে অবস্থা। স্থানীয়রা টিনিউজকে বলেন, করোনা শুরু হওয়ার পর স্কুলের দরজা-জানালা কখনো কাউকে খুলতে দেখেননি তারা। অযত্ন অবহেলায় পড়ে থাকা ভবনে মাকড়সা বাসা বেঁধেছে। স্কুলের মাঠে জন্মেছে বড় বড় ঘাস। আঙিনায় লতাগুল্ম, ঝোপঝাড়। শ্রেণিকক্ষ স্যাঁতসেঁতে। শ্রেণিকক্ষের টেবিল-চেয়ারে ধুলাবালুর স্তর পড়ে আছে। বেশ কিছু স্কুলের প্রধান শিক্ষিকরা টিনিউজকে বলেন, স্কুলে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নেই, তাই পরিষ্কার করা সম্ভব হচ্ছে না। একই দশা হয়ে আছে জেলার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সরকার স্কুল খোলার আগেই এ ব্যাপারে আমাদের নির্দেশনা দেবে। তখন আমরা আরো ভালো প্রস্তুতি নিতে পারব।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা শিক্ষা অফিসার ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার টিনিউজকে বলেন, করোনার কারণে সরকারি নির্দেশে জেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রাখা হলেও প্রতিটি প্রতিষ্ঠান প্রধানকে তাদের প্রতিষ্ঠানের ভবন/স্থাপনা, আঙ্গিনা ও শ্রেণিকক্ষসহ আসবাবপত্র পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য নির্দেশনা দেয়া আছে। সরকার যখনই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার নির্দেশ দিবে তখন ছাত্রছাত্রীরা যেন স্বাস্থ্যকর পরিবেশ পায় এ ব্যাপারে আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে।

 

ব্রেকিং নিউজঃ