টাঙ্গাইলে পাঁচআনী-ছয়আনী বাজার সমিতির নতুন ভোটার তালিকা নিয়ে উত্তেজনা চরমে

486

স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইল শহরের প্রাণ কেন্দ্রে অবস্থিত পাঁচআনী-ছয়আনী বাজার সাধারণ ব্যবসায়ী মালিক সমিতির আগামী (১১ আগস্ট) অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে প্রকাশিত মনগড়া কথিত ভোটার তালিকা নিয়ে ব্যবসায়ীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, পাঁচআনী-ছয়আনী বাজার ব্যবসায়ী সমিতির পূর্বের ভোটার ছিল ১০৩৭ জন। গত (১৮ মার্চ) অনুষ্ঠিত সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভায় সবার সিদ্ধান্ত মোতাবেক সদস্য যাচাই বাছাই কমিটি ৯৪৭ জনের একটি নতুন ভোটার তালিকা প্রকাশ করেন। অভিযোগ উঠেছে- সমিতির উপদেষ্টা ও যাচাই বাছাই কমিটির কতিপয় উপদেষ্টারা সঠিকভাবে সদস্য যাচাই বাছাই না করেই পক্ষপাতিত্ব করে এই নতুন ভোটার তালিকায় পূর্বের তালিকা থেকে সমিতির ৯৮ জন প্রকৃত ভোটারকে বাদ দেয়া হয়েছে। এই বাদ পড়াকে কেন্দ্র করে সাধারণ সদস্যদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

 

এদিকে নতুন এই বিতকির্ত ভোটার তালিকাকে প্রত্যাখ্যান করে যাচাইবাছাই কমিটির দুই সদস্যের মধ্যে একজন ও সমিতির উপদেষ্টা মশিউর রহমান হিরন ইতিমধ্যে পদত্যাগ করেছেন। এছাড়া উক্ত সমিতির আরো দুইজন উপদেষ্টা শহিদুর রহমান ও হরি প্রসাদ পোদ্দার পদত্যাগ করেছেন। বিতকির্ত নতুন এই ভোটার তালিকা থেকে সিরাজ উদ্দিন মার্কেটের মালিক রফিক আহমেদ, আসলাম খান জনি, আর রহমান খান টুটুল, শহিদুজ্জামান শহিদ, রাশেদুজ্জামান রাশেদসহ আরো অনেক প্রকৃত ব্যবসায়ীর নাম বাদ পড়েছেন।

এছাড়া সমিতির গঠনতন্ত্র মোতাবেক গোডাউন মালিক, মাংসের দোকান, মুরগির দোকান, চৌকি দোকানদার, এনজিও অফিস, স্যালুন ও ফুটপাতের দোকান মালিকরা সদস্য হওয়ার এখতিয়ার রাখে না। কিন্তু নতুন বিতকির্ত এই ভোটার তালিকায় এই শ্রেণীর বেশকয়েকজন মালিককে ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যেটা জেলা শহরের অন্যতম বড় এই ব্যবসায়ী সমিতির সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভকে আরো ঘনীভূত করেছে।

সমিতির সাবেক সাধারণ সদস্য আসলাম খান জনি ও রফিক আহমেদ টিনিউজকে বলেন, নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই সস্পূর্ণ অগঠণতান্ত্রিকভাবে একটি কারচুপির নির্বাচন করার লক্ষ্যে তাদের নিজস্ব লোকজনদের ভোটার বানিয়ে প্রকৃত সাধারণ ব্যবসায়ীদেরকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

 

পাঁচআনী-ছয়আনী বাজার সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আহসান খান আছু টিনিউজকে বলেন, আপনারা জানেন অত্র সমিতি দীর্ঘ দিন যাবৎ সুনামের সহিত নির্বাচনের মাধ্যমে কার্য্যকরি পরিষদ গঠিত হয়ে থাকে, করোনাকালীন সময়ে নির্বাচনের বিধি নিষেধ থাকায় আমরা সময়মত নির্বাচন করতে না পারায় সাধারণ সভার মাধ্যমে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী উপদেষ্টা পরিষদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করি। সাধারণ সভায় সদস্য যাচাই বাছাই কমিটি করে যারা সাধারণ ব্যবসায়ী মালিক সমিতির আওতায় নহে যেমন চকি, ফুটপাত, মুরগী, সেলুন, গোডাউন ইত্যাদি তাদেরকে বাদ দিবে এমন শর্ত দিয়ে একটি রেজুলেশন পাশ করিয়ে নেয়। পরবর্তিতে দেখা যায় তিন মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও সঠিক যাচাই বাছাই তারা করতে পারেনি এবং নির্বাচন দিতে পারেনি। গত (১ জুলাই) তারা একটি ভোটার তালিকা সমিতির অফিসের দেয়ালে টাঙ্গিয়ে দিয়েছে। আমাদের হাতে ভোটার তালিকা পর্যন্ত দেয়নি। আমরা ছবি তুলে প্রিন্ট করে পুরাতন ভোটার তালিকার সাথে মিলিয়ে দেখতে পাই সম্পুর্ন পক্ষপাতিত্ব করে আমার প্যানেলের দুইজন প্রার্থীসহ ৯৮ জন সদস্য অবৈধভাবে বাতিল করছে। যেমন- চকি একটা রেখে পাচটা বাদ দিছে। মুরগি সব বাদ দেওয়ার কথা, কয়েকজন রেখেছে, কয়টা বাদ দিছে, সেলুন মালিক একজন রেখে অন্যগুলো বাদ দিছে। গোডাউন তাদের পক্ষের ২০/ ২৫জন রেখে অন্যগুলো বাদ দিছে। মহিলা মার্কেট মালিক কয়েকজন রেখে কয়েকজন বাদ দিছে এবং প্রহসনমূলক চলতি ১০/১২ জন সদস্যও ভোটার তালিকা থেকে গোপনীয়ভাবে অফিস সহকারীর সহযোগীতা নিয়ে বাদ দিয়েছে। অথচ তাদের পক্ষের দোকান বাদ দিয়ে বিদেশ চলে গেছে তাদের কেউ রেখেছে। কোন প্রকার দোকান নেই, গোডাউন এবং এক দোকানে তাদের পক্ষের দুইজন করে ভোটার রেখেছে। সভাপতি প্রার্থীর আপন ভাই একজন উপদেষ্টা ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীর আপন চাচা একজন উপদেষ্টা এজন্য ব্যাপক পক্ষপাতীত্ব হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা বার বার আহবায়ক আরফান আলী সাহেব এবং প্রধান উপদেষ্টা ছানোয়ার হোসেন এমপি মহোদয়ের কাছে অভিযোগ করি। তারা অভিযোগে সারা না দিয়ে আহবায়ক এবং প্রধান উপদেষ্টা স্বাক্ষরিত ভোটার তালিকা তাদের পক্ষ নিয়ে প্রকাশ করেছে। এরকম সীমাহীন পক্ষপাতিত্ব ভোটার তালিকার তীব্র নিন্দা জানাই এবং অবিলম্বে ভোটার তালিকা সংশোধন করে নির্বাচনের তারিখ ঘোষনার দাবি জানাচ্ছি। নতুন তালিকাকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই নতুন ভোটার তালিকায় সমিতির গঠণতন্ত্রকে উপেক্ষা করে বেশকয়েকজন মাংসের দোকানদার ও স্যালুন মালিককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অথচ প্রকৃত ব্যবসায়ীদের বাদ দেওয়া হয়েছে। টাঙ্গাইলের ক্ষমতাসীন দলের একজন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ সমিতিকে কুক্ষিগত করার জন্য এই পকেট তালিকা তৈরি করেছে। আমি এই পকেট তালিকা প্রত্যাখ্যান করে তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করছি।
পাঁচআনী-ছয়আনী বাজার সমিতির সাবেক সভাপতি শাহানুর রহমান রঞ্জু টিনিউজকে বলেন, সমিতির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি প্রহসনের ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এই তালিকায় অনেক প্রকৃত ব্যবসায়ী বাদ পড়েছেন। এটি সাধারণ ব্যবসায়ীরা কোনভাবেই মেনে নিবে না। যারা এমন কাজ করেছেন তারা অত্যন্ত নিন্দনীয়।

 

পাঁচআনী-ছয়আনী বাজার সমিতির সমিতির উপদেষ্টা ও যাচাইবাছাই কমিটির অন্যতম সদস্য মশিউর রহমান হিরন টিনিউজকে বলেন, যাচাইবাছাই করে আমরা যে তালিকা প্রণয়ন করেছিলাম পরবর্তীতে সেই তালিকা পরিবর্তন করে তাদের পছন্দের ব্যবসায়ীদের অন্তর্ভুক্ত করে তালিকা প্রকাশ করায় আমি এই সমিতির উপদেষ্টা ও যাচাইবাছাই কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছি।

উপরোক্ত বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে পাঁচআনী-ছয়আনী ব্যবসায়ী সমিতির আহবায়ক আরফান আলী খান টিনিউজকে বলেন, বিষয়গুলো এই সমিতির প্রধান উপদেষ্টা ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেন ও যাচাইবাছাই কমিটির অন্যতম সদস্য শামসুর রহমান শাসছু বিষয়টি জানেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে টাঙ্গাইল পাঁচআনী-ছয়আনী বাজার সমিতির প্রধান উপদেষ্টা ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেন টিনিউজকে বলেন, সদস্য যাচাই বাছাই কমিটিতে কিন্তু আমি নাই। যাচাই বাছাই কমিটির ৫ জন সদস্য আমার সামনে স্বাক্ষর করেছে। কেন তারা পদত্যাগ করেছে তা আমি বলতে পারব না। এছাড়া যারা বাদ পড়েছে তাদের তো আপিল করার সুযোগ আছে। আমি তো আর সব সদস্যদের চিনি না। নতুন ভোটার তালিকার বিষয়ে আমি উপদেষ্টাদের নিয়ে বৃহস্পতিবার (২১ জুলাই) সভা করবো।

ব্রেকিং নিউজঃ