টাঙ্গাইলে নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা ॥ লাফিয়ে বাড়ছে দাম

76

জাহিদ হাসান ॥
চালের দাম তো বাড়ছেই। সেই সঙ্গে দর বেড়েছে প্রায় সব নিত্য প্রয়োজনীয় ভোগ্য পণ্যেরও। এজন্য দায়ী করা হচেছ বন্যা আর সিন্ডিকেটকে। চালের বাজার বাড়ার পিছনে দায়ী করা হচ্ছে ধানের বাড়তি দামকেও। করোনায় সাধারণ মানুষের জন্য আরেক দফা আপদ হয়ে এসেছে বাজারের বাড়তি দাম। এমন চিত্র দেখা দেখে জেলা শহরের বাজারগুলোতে।
বেসরকারি চাকরিজীবী শামসুদ্দিন আহমেদ টিনিউজকে বলেন, করোনার কারণে বেতনের ঠিক নাই। তার ওপর নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় এখন দিশেহারা অবস্থা। কিভাবে চলব বুঝতে পারছি না। টাঙ্গাইল শহরের পাক বাজার, ছয়আনী বাজার, বটতলা বাজার, আমিন বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, খাবারের জন্য জরুরি যা যা দরকার তার প্রায় প্রত্যেকটিরই দাম বেড়েছে এক-দুই সপ্তাহের ভিতরে। মুদি দোকানদার মিন্টু মিয়া টিনিউজকে জানান, সব ধরনের চালের দামই কেজিতে তিন থেকে পাঁচ টাকা বেড়েছে। ডিমের দাম হালিতে বেড়েছে চার টাকা। পেঁয়াজ, আলু, চিনি সব কিছুরই দাম বাড়তির দিকে। এর বাইরে তেল, দুধসহ আরো অনেক পণ্যের দাম ধীরে ধীরে বাড়ছে। উর্দ্ধমুখী মাছ, মাংসের দামও। এজন্য বিক্রেতারা দায়ী করছেন বন্যা আর বৃষ্টিকে। সবজিসহ কাঁচাবাজারেও এমন কোনো পণ্য নাই যার দাম বাড়েনি। বেগুন ৭০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ টাকা, করলা ৭০ টাকা, পটল ৫০ টাকা, ঢেঁড়শ ৫০ টাকা, বরবটি ৭০ টাকা, টমেটো ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এই দর সাধারণ সময়ের চেয়ে গড়ে ১০-১২ টাকা বেশি বলে জানান বিক্রেতারা।
টিসিবি’র তথ্য মতে নাজিরশাইল ও মিনিকেট চাল বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৫৫ টাকা থেকে ৬৪ টাকায়, যেখানে এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকা থেকে ৬২ টাকায়। আর গতবছর একই সময়ে প্রতি কেজির দাম ছিল ৪৭-৫৬ টাকা। একইভাবে মাঝারি মানের পাইজাম ও লতা চাল কেজিতে তিন থেকে পাঁচ টাকা বেড়েছে। আর মোটা চাল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৪-৪৮ টাকায়। যা এক সপ্তাহ আগে ছিলো ৪০-৪৫ টাকা। কিন্তু টিসিবি’র এই হিসাবের সঙ্গে বাজারের দরের তফাৎ রয়েছে। আলাল মিয়া টিনিউজকে জানান, এখন মিনিকেট চাল ৬৮ টাকা কেজি বিক্রি হয়। আর মাঝারি মানে বিরি ২৮ চাল বিক্রি হয় ৫১ টাকা কেজি।
আড়ৎদাররা অবশ্য দাবি করছেন তারা চালের দাম বাড়াচ্ছেন না, মিল মালিকরা বাড়াচ্ছেন। তাদের আগের মজুত থাকায় এবং প্রতিযোগিতার কারণে তাদের পক্ষে দাম তেমন বাড়ানো সম্ভব হয় না। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে খুচরা ব্যবসায়ীরা। তারা বন্যা এবং বৃষ্টির অজুহাতে দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু মিল মালিকরা দাবি করেছেন, ধানের দাম বেশি হওয়ায় চালের দাম বাড়াতে তারা বাধ্য হয়েছেন।
ক্রেতার টিনিউজকে বলেন, দেশে এই সময়টাতে ভোগ্য ও নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি নির্ভর অনেকটাই। আর বন্যা শেষের কারণে শাক সবজিসহ আরো অনেক নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের উৎপাদন ব্যাহত করেছে। করোনায় সরকারকে ত্রাণ ও অন্যান্য খাতে অনেক টাকা খরচ করতে হয়েছে। তাই বাজার মনিটরিং এর সাথে বেসরকারি পর্যায়ে ভোগ্যপণ্য আমদানিতে উৎসাহ দেয়া প্রয়োজন।

ব্রেকিং নিউজঃ