টাঙ্গাইলে দূর্গাপূজায় শাঁখা ও সিঁদুর কেনাকাটা জমজমাট

78

হাসান সিকদার ॥
পুজোর রং ক্রমশ ছড়িয়ে পড়ছে। সর্বত্রই উৎসবের আমেজ। তবে আলাদা করে বলতে হয় শাঁখারি ও সিঁদুরের কথা। শহরের ছোট-বড় দোকানগুলোতে শাঁখা শিল্পের নিদর্শনসহ বহুবিধ পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানিরা। টাঙ্গাইল শহর ও উপজেলাগুলোতে ক্রেতাদের ভীড় বেড়েছে। চলছে উৎসবমুখর কেনাকাটা। শারদীয় দুর্গোৎসবের বর্ণিল রূপ পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়েছে।
ইতিহাসবিদদের মতে, সতের শতকে মোগলদের সঙ্গেই আসেন শাঁখারিরা। বলা হয়ে থাকে শঙ্খ অসুর নামে এক দানবকে অগস্ত্য মুনি হত্যা করেছিলেন। হত্যায় তিনি যে করাত ব্যবহার করেছিলেন সে ধরনের করাত দিয়েই প্রথমে শাঁখা কাটা হতো। এখন আর তা হয় না। মেশিনের যুগে প্রবেশ করেছে শাঁখা শিল্প। পুজা উপলক্ষে দিন-রাত চলছে মেশিন। নতুন নতুন ডিজাইনের শাঁখা গড়ছেন কারিগররা। এগুলো পরে চলে আসছে দোকানে।
শহরের লক্ষ্মী ভার নামের একটি দোকানে দেখা গেল নারী ক্রেতারা ভিড় করে আছেন। যে যার মতো করে শাঁখা দেখছেন। শান্তা নামের এক নারী শাঁখা পরেই এসেছিলেন। তারপরও পূজো উপলক্ষে নতুন এক জোড়া কিনলেন তিনি। কেন? জানতে চাইলে তিনি টিনিউজকে বললেন, হাতে নয় শুধু, আমার বাসায় একবাক্স ভর্তি শাঁখা আছে। কিন্তু পুজোয় নতুন চাই। নতুন শাঁখা ও সিঁদুর না পরলে সাজটা যেন অসম্পূর্ণই থেকে যায়। ধর্মীয় বিশ্বাসের জায়গা থেকেও শাঁখার আলাদা গুরুত্ব আছে বলে জানান তিনি। দোকানের মালিক অমিয় কুমার সুর টিনিউজকে জানান, বংশ পরম্পরায় ৪০ থেকে ৫০ বছর ধরে শাঁখা গড়ার কাজ করছেন তারা। সারা বছরই কম বেশি বিক্রি হয়। তবে পুজোয় সবচেয়ে বেশি চাহিদা বলে জানান তিনি। মা মনসা শঙ্খ নামের আরেকটি দোকানে গিয়ে কথা হয় সদানন্দ নাগের সঙ্গে। ৪৫ বছর ধরে এই পেশায় আছেন তিনি। পুজোয় ব্যস্ততা অনেক বেড়েছে জানিয়ে তিনি টিনিউজকে বলেন, বিভিন্ন এলাকা থেকে এখানে ক্রেতারা আসছেন। সারাদিনই শাঁখা দেখাতে হচ্ছে। যার যেমন পছন্দ কিনছেন।
তবে এখন আর শুধু শাখা বিক্রি হয় না। নানা রকমের পণ্য দিয়ে সাজানো। কাঁসা পিতলেরও বড় সংগ্রহ এখানে। পাওয়া যাচ্ছে প্রতিমা সাজানোর শাড়ি, গহনা, মুকুট। মা বাসন্তী ভার নামের একটি দোকানে গিয়ে দেখা গেল, মুকুট তৈরির কাজ হচ্ছে। দোকানের মালিক শঙ্কর সরকার টিনিউজকে জানালেন, এইসব মুকুট প্রতিমার মাথায় পরানো হবে। একেকটির একেক রকম ডিজাইন। নামও আছে আলাদা আলাদা। এই যেমন- বাংলা চূড়া, অরিয়েন্টাল, লক্ষ্মী বাংলা ইত্যাদি। গত তিন চার মাস ধরে কাজ করছেন জানিয়ে দোকানি টিনিউজকে বলেন, ষষ্ঠীর দিন পর্যন্ত বেচাকেনা চলবে।
এছাড়া পূজা উপলক্ষে বিভিন্ন দোকানে বাহারি নতুন ডিজাইনের শাড়ি, গহনার চাহিদা রয়েছে। দোকানিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, এগুলোও প্রতিমা সাজানোর জন্য। পোশাক ঘর নামের একটি দোকান ভর্তি শাড়ি। চুমকি, কারচুপি, সুতার সুন্দর কাজ করা। দোকানের মালিক স্বপন কুমার টিনিউজকে জানালেন, শাড়িগুলো বিভিন্ন মাপের। প্রতিমার মাপ অনুযায়ী কেটে বিক্রি করা হয়। এসবের বাইরে সবধরনের পুজোর সামগ্রী পাওয়া যাচ্ছে। সেন ব্রাদার্স নামের একটি দোকানে ঢুকে দেখা গেল, পুজোর সামগ্রী দিয়ে ঠাসা। সবই কাঁসা পিতলের। দোকানি বরুণ সেন টিনিউজকে জানালেন, পুজোর যত রকমের মাঙ্গলিক সামগ্রী প্রয়োজন হয় সবই তারা রেখেছেন।

 

ব্রেকিং নিউজঃ