টাঙ্গাইলে দুর্গা পুজা আয়োজনের ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে

157

স্টাফ রিপোর্টার ॥
করোনা ও বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে দরজায় কড়া নাড়ছে শারদীয় দুগোর্ৎসব। সারাদেশের মতো টাঙ্গাইলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছে দুর্গা পুজা আয়োজনের ব্যাপক প্রস্তুতি। প্রতিমা তৈরীতে শেষ মুর্হুতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিল্পীরা। একই সাথে চলছে মন্ডপ সাজসজ্জার কাজ। করোনার কারনে এবার কাজের চাপ অনেকটাই কম বলে জানিয়েছেন প্রতিমা তৈরীর শিল্পীরা।
জানা যায়, আগামী (১০ অক্টোবর) পঞ্চমী পুজার মধ্যদিয়ে টাঙ্গাইলসহ সারাদেশে শুরু হবে সনাতন ধর্মাবল্বীদের প্রধান ও বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গা পুজা। আগামী (১৫ অক্টোবর) বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে শেষ হবে এ উৎসব। সারাদেশের মতো টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগার্ম্ভিজের মধ্যদিয়ে উদযাপিত হবে দুর্গা পুজা। এ লক্ষে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি আনন্দ মোহন দে টিনিউজকে জানান, টাঙ্গাইল জেলা ও উপজেলায় এবার ১২৪৯ এর অধিক মন্ডপে শারদীয় দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ২০৭টি মন্ডপে, দেলদুয়ারে ১১৯টি মন্ডপে, বাসাইলে ৬০টি মন্ডপে, ধনবাড়ীতে ৩১টি মন্ডপে, মধুপুরে ৫৫টি মন্ডপে, ঘাটাইলে ৭৮টি মন্ডপে, কালিহাতীতে ১৮২টি মন্ডপে, ভূঞাপুরে ৪০টি মন্ডপে, গোপালপুরে ৪৬টি মন্ডপে, সখীপুরে ৪২টি মন্ডপে, মির্জাপুরে ২৫২টি মন্ডপে, নাগরপুরে ১২৮টি মন্ডপে শারদীয় দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে।
সরেজমিনে দেখা যায়, শিল্পীদের প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে বিরতিহীনভাবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সবকিছু শেষ করতে শিল্পীরা কাজ করছেন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত। মাটি ও খড় দিয়ে তৈরি করা হয়ে গেছে প্রতিমার কাঠামো। শিল্পীদের নিপুন হাতের ছোয়ায় পরিস্ফুটিত হচ্ছেন দেবী দুর্গা ও তার ছেলে-মেয়ে লক্ষী, স্বরস্বতী, গনেশ ও কার্তিক। দুর্গা পূজার প্রতিমা তৈরিতে শেষ মুর্হুতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিল্পীরা। প্রতিদিন একটু একটু করে প্রতিমার অবয়ব ফুটিয়ে তুলছেন তারা। প্রতিমা শিল্পীরা টিনিউজকে জানান, অন্য বছর তারা বিভিন্ন মন্দিরে গিয়ে প্রতিমা তৈরী করলেও করোনার কারণে এবারের চিত্র ভিন্ন। তারা নিজ নিজ বাড়িতেই তৈরী করছেন প্রতিমা। পুজা শুরুর আগের দিন তৈরীকৃত প্রতিমা পৌছে দেয়া হবে মন্দিরগুলোতে। অন্য বছরের তুলনায় এবার প্রতিমার চাহিদা ও দাম কম বলে জানালেন প্রতিমা তৈরীর শিল্পীরা। লাভ-লোকসান যাই হোক বংশগত পেশার প্রতি সম্মান জানিয়েই তারা আনন্দের সাথে প্রতিমা তৈরী করছেন।
এদিকে প্রতিমা তৈরীর পাশাপাশী মন্ডপগুলোতে চলছে সাজসজ্জার কাজ। জেলা পুজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, প্রতিটি পুজা মন্দিরে শতভাগ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা নিশ্চিত করা হবে। দর্শনার্থীসহ সকলের জন্য হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও মাস্ক বাধ্যতামুলক করা হয়েছে।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় টিনিউজকে জানান, সাম্প্রদায়ীক সম্প্রীতির বাংলাদেশে “ধর্ম যার যার- উৎসব সবার” এই স্লোগানে প্রতি বছরের মতো এবারও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হবে শারদীয় দুগোর্ৎসব। দুর্গা পূজায় জেলা পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা। প্রায় ৮শ’ আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য সার্বিক নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করবেন।

 

 

ব্রেকিং নিউজঃ