সোমবার, আগস্ট 10, 2020
Home টাঙ্গাইল টাঙ্গাইলে তরুণদের গৃহবন্দি সময় কাটছে ঘুড়ি উড়িয়ে

টাঙ্গাইলে তরুণদের গৃহবন্দি সময় কাটছে ঘুড়ি উড়িয়ে

বিভাস কৃষ্ণ চৌধুরী ॥
শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সীদেরই একসঙ্গে ঘুড়ি ওড়ানোর দৃশ্য এখন টাঙ্গাইলের প্রতিদিনের চিত্র। প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস আতঙ্কে স্থবির হয়ে পড়েছে বিশ্ব। করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতা বদলে দিয়েছে পুরো পৃথিবীর দৃশ্যপট। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ছুটে চলা মানুষগুলো এখন গৃহবন্দি। এই অবস্থায় নিরাপদে থাকতে স্কুল-কলেজসহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। সেই সাথে বন্ধ সব আউটডোর খেলাধুলা। আর এই লম্বা ছুটিতে বাঙালির ঐতিহ্য রঙিন ঘুড়িতে মেতেছেন টাঙ্গাইলের তরুণ প্রজন্ম। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের অনেকেই একসাথে ফাঁকা জায়গায় ও বাড়ির ছাদে ঘুড়ি ওড়াতে দেখা যায়। এ কারণে ঘুড়ি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন কারিগররা।
সরেজমিন টাঙ্গাইল শহরসহ বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, শহরে বাসার ছাদে ও গ্রাম অঞ্চলে ফসলি জমির আইল এবং রাস্তার পাড়ে ঘুড়ি ওড়াতে দেখা যায়। অনেকেই আবার ঘুড়ির সুতোয় কাটাকাটি খেলে কিংবা আকাশে ঘুড়ি পাঠিয়ে এ যেন করোনাকালীন ক্লান্তি ও অবসাদ দূর করার এক সুস্থ বিনোদন। আদালত পাড়া এলাকার ইলিয়াস হোসেন টিনিউজকে বলেন, বাড়ীতে দীর্ঘদিন অবস্থান করার ফলে অনেকের মধ্যেই ক্লান্তি ও অবসাদ ভর করছে। অনেকেই ঘুড়ি উড়িয়ে সেই ক্লান্তি ও অবসাদ ঝেড়ে ফেলতে চাইছেন। মুক্ত আকাশে ঘুড়ি উড়িয়ে বদ্ধ হয়ে থাকা এক মানসিক যন্ত্রণা থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি মেলছে।
কলেজ ছাত্র হাবিবুর রহমান আকাশ টিনিউজকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কলেজ বন্ধ। এখন আর সময় কাটতে চায়না। ছাত্ররা বিকেলে মাঠে খেলাধুলা করতো এখন তো আর সেটা সম্ভব নয়। সবসময় ঘরে থাকতে থাকতে আর ভালো লাগে না। এদিকে মা-বাবা বাড়ি থেকে বের হতে দেন না। অন্যদিকে একঘেয়েমি কাটাতে বিকেলে এখন সবাই মিলে ঘুড়ি উড়াই। এতে মনটা চাঙ্গা হয়ে ওঠে।
আদালত পাড়া এলাকার ঘুড়ি তৈরির কারিগর শুভ বসাক টিনিউজকে বলেন, আমার স্বর্ণের দোকান রয়েছে। করোনা ভাইরাসে কারণে দোকান বন্ধ। তাই বিভিন্ন প্রজাতির ঘুড়ি বানিয়ে বিক্রি করি। স্মৃতিসৌধ, শহীদ মিনার, তাজমহল ও বিমানসহ নানা রকমের ঘুরি তৈরি করে থাকি। একজন সহকারি নিয়ে প্রতিদিন ১৫-২০ টা ঘুরি বানানো যায়। ছোট, মাঝারি ও ৩-৪ ফুট আকারের ঘুরিও তৈরি করি। প্রতিটি ঘুরি ১৫০-২০০ টাকায় বিক্রি করি। এতে আমার বেশ লাভ হয়। পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকার অপর কারিগর সবুজ বসাক টিনিউজকে বলেন, আমার শাড়ির ব্যবসা আছে। করোনা ভাইরাসে ঘরেই থাকতে হয়। তাই শখের বসে ঘুরি তৈরি করে বিক্রি করছি। প্রতিটি ঘুরি ৩০-৭০ টাকা ধরে বিক্রি করি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

ব্রেকিং নিউজঃ