টাঙ্গাইলে জয় ক্লিনিকে সিজারের সময় নবজাতকের পা ভেঙ্গে ফেলেছে চিকিৎসক

24

স্টাফ রিপোর্টার ॥
টাঙ্গাইলে সিজারের সময় এক নবজাতকের পা ভেঙ্গে ফেলার অভিযোগ উঠেছে ডাক্তারের বিরুদ্ধে। ওই ডাক্তারের নাম আব্দুর রউফ। তিনি শহরের শান্তিকুঞ্জ মোড়ে অবস্থিত জয় ক্লিনিক এন্ড হসপিটালে সুলতানা বেগম নামের এক মহিলার সিজার করার সময় এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। অভিযুক্ত ওই ডাক্তার কোন সার্জন না হলেও এভাবে একের পর এক অপারেশন করে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পা ভেঙ্গে যাওয়া নবজাতকের দাদী রওশন আরা বেগম এ অভিযোগ করেন।
তিনি অভিযোগে বলেন, গত (১১ আগস্ট) রাত ১০টার সময় আমার ছেলের বৌ সুলতানাকে (২০) গর্ভবতী অবস্থায় টাঙ্গাইল শহরের শান্তিকুঞ্জ মোড়ে অবস্থিত জয় ক্লিনিক এন্ড হসপিটালে নিয়ে যাই। সেখানে দায়িত্বরত ডাক্তার আব্দুর রউফ দ্রুত আল্ট্রাসনোগ্রাফী করাতে বলেন। সেখানেই আল্ট্রা শেষে দ্রুত সিজার করাতে বলেন। এজন্য ১২ হাজার টাকা লাগবে বলে জানান ডাক্তার আব্দুর রউফ। দর কষাকষির পর আমরা ৯ হাজার টাকা দিতে রাজি হই। এরপর দ্রুত রোগীকে অপারেশন কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। রাত ১১টার সময় সিজার শেষে নবজাতককে বেডে নেয়া হয়। এ সময় নবজাতক অনেক শব্দ করে কান্না করতে থাকে। কান্না কোনভাবেই থামানো যায়নি। এ বিষয়ে ডাক্তারকে অবহিত করা হয়। পরে দেখা যায় নবজাতকের ডান পা ফুলে গেছে। বিষয়টি ডাক্তার আব্দুর রউফকে জানানো হলে তিনি টাঙ্গাইল পুরাতন বাসটার্মিনালে অবস্থিত সেফা ক্লিনিকে একজন ডাক্তারের ঠিকানায় নবজাতককে নিয়ে যেতে বলেন। পরে ওই ঠিকানা মোতাবেক পরের দিন সেফা ক্লিনিকে নিয়ে নবজাতকের পা এক্সরে করা হয়। এক্সরে রির্পোটে দেখা যায় বাচ্চাটির ডান পায়ের হাটুর উপরের অংশের হাড় ভেঙ্গে গেছে। এর পরের দিন রিপোর্ট নিয়ে রাজধানী ক্লিনিকে যাওয়া হয়। সেখানে ডাক্তার বেলায়েতকে রিপোর্ট দেখানো হয়। তিনিও নবজাতকের পা ভেঙ্গে গেছে বলে জানান।
পরে নবজাতক শিশুর পরিবারের পক্ষে জয় ক্লিনিক এন্ড হসপিটালের মালিকের সাথে দেখা করে বিষয়টি অবহিত করি। বিষয়টি ডাক্তার আব্দুর রউফকে জানানো হয়। তবে তারা কেউ এ ব্যপারে কোন গুরুত্ব দেয়নি। এ অবস্থায় আমরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, ওই ডাক্তার আব্দুর রউফ কোন গাইনি ডাক্তার নন। এমনকি তিনি সার্জিক্যাল কোন ডাক্তারও নন। তবে সে কীভাবে অপারেশন করে নবজাতকের পা ভেঙ্গে ফেলল। তারা ডাক্তারের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও বিচার দাবী করেন।
এ বিষয়ে ডাক্তার আব্দুর রউফের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি গর্ভবতীর সিজার করার বিষয়টি স্বীকার করেন। নবজাতকের পা ভেঙ্গে ফেলার বিষয়টিও স্বীকার করেন। একজন সার্জন না হয়েও তিনি কিভাবে সিজার করেছেন জানতে চাইলে আব্দুর রউফ বলেন, এতে কোন বাঁধা নেই।

 

ব্রেকিং নিউজঃ